সর্বশেষ আপডেট : ১৮ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কুলাউড়ার কর্মধায় দারুল ক্বেরাতে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা

dhorson-1মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:: দারুল ক্বেরাত মজিদিয়া ফুলতলি ট্রাস্টের উদ্যোগে পরিচালিত ক্বোরআন শিক্ষা কেন্দ্র মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপজেলার কমর্ধা ইউনিয়নের পূর্ব ফটিগুলী জামে মসজিদ সেন্টারে ৮ বছরের পিতৃহীন ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন প্রতিষ্ঠানের ক্বারী মাওলানা মোজাম্মেল আহমদ। ওই শিক্ষার্থীর চিৎকারে তার সহপাঠিরা এগিয়ে গেলে সটকে পড়েন অভিযুক্ত ব্যক্তি। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য কোনো সুরাহা না করে ওই ক্বারীকে মসজিদ থেকে বিদায় করে দেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। ভুক্তভোগীর পরিবার অসহায় হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নিতেও পারছে না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দারুল ক্বেরাত কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারসহ একাধিক সূত্র জানায়, গত ১১ জুন সকালে পূর্ব ফটিগুলী মসজিদ সেন্টারে পড়তে যায় পিতৃহীন এক ছাত্রী (৮)। এ সময় ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি কম থাকায় নিজকক্ষে নিয়ে কৌশলে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান প্রধান ক্বারী ও ওই মসজিদের ইমাম মাওলানা মোজাম্মেল আহমদ। ওই শিক্ষার্থীর চিৎকারে কয়েকজন শিক্ষার্থী এগিয়ে গেলে সটকে পড়েন মোজাম্মেল। পরে বিষয়টি অন্যান্য ক্বারীদের জানালে তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য কোনো সুরাহা না করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বিকেলে ওই ছাত্রী তার মাকে গিয়ে ঘটনাটি জানালে লোকলজ্জায় মা বিষয়টি গোপন রাখেন। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। ভুক্তভোগীর পরিবার অসহায় হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। শুক্রবার জুমআর নামাজের পর কর্তৃপক্ষ ওই ছাত্রীর চাচাকে ডেকে নিয়ে জানান যে, আগামী সোমবার অথবা মঙ্গলবারের দিকে বিষয়টি দেখে দেয়া হবে।

এ ব্যপারে দারুল ক্বেরাত ফুলতলি ট্রাস্টের পূর্ব ফটিগুলী জামে মসজিদ সেন্টারের নাজিম দিলু মিয়া ও ক্বারী নুরুল ইসলাম শেফুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমরা তাৎক্ষণিক ক্বারী মোজাম্মেলকে সেন্টার থেকে বহিস্কার করেছি। এমনকি তার সনদ বাতিল করার জন্য ক্বারী সোসাইটিতে সুপারিশ করেছি। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর চাচা জানান, মসজিদ বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্রতম জায়গা। সেখানে গিয়েও যদি ছাত্রীরা নিরাপদ না থাকে তাহলে আমরা যাবো কোথায়? প্রশ্ন রাখেন তিনি। একজন ইমাম ও ক্বারী যদি মসজিদের ভেতর রোজা রেখে এ ধরণের অনৈতিক ঘটনা ঘটান তাহলে সাধারণ মানুষ কি করবে? আমরা ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুক মিয়া জানান, বিষয়টি আমি জানি না। দারুল ক্বেরাত ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ আমাকে আজ সেখানে যাওয়ার জন্য বলেছিলেন কিন্তু আমি যেতে পারিনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: