সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২৬ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার

1497676380ডেস্ক রিপোর্ট:: সিলেট নগরী, নগরীর উপকণ্ঠসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার টিলা ও পাহাড়ের পাদদেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সহস্রাধিক পরিবার বসবাস করছে। প্রবল বৃষ্টি বা কোনো ধরনের বিপর্যয় দেখা দিলে ঝুঁকির বিষয়টি প্রশাসনের আলোচনার টেবিলে উঠে এলেও কিছুদিন যেতে না যেতে তা আবার তলিয়ে যায়। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় সরকারি টিলা দখল করতে অথবা দখল রাখতেই পাহাড়ের কূলে এসব ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সপরিবারে বসবাসকারীদের সহায়তায় বিভিন্ন কৌশলে রাতের আঁধারে চলে পাহাড় কাটা। তারা এমনভাবে পাহাড় কাটে যে চট করে তা বোঝা যায় না। প্রথমে শাবল-কোদাল দিয়ে পাহাড়ের ঢালে লম্বা করে সামান্য গর্ত করে রেখে দেওয়া হয়। বৃষ্টির সময় ওইসব গর্তে পানি ঢুকে মাটি নরম হয়ে গেলে একপর্যায়ে ধসে পড়ে পাহাড়ের একটি অংশ। পাহাড় কাটা রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত কোনো অভিযান নেই বলে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ।

নগরীর ৮নং ওয়ার্ডের জালালীয়া আবাসিক এলাকা, হাওলাধার পাড়ের টিলার পাদদেশে ও টিলার উপরে কয়েকশত পরিবার ঝূঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে টিলার বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এছাড়া নগরীর বালুচর, বিমানবন্দর সড়ক, খাদিমপাড়া, খাদিমনগর, জোনাকী, ইসলামপুর মেজরটিলা, মংলিরপাড় এলাকায় বিভিন্ন টিলার পাদদেশ ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে কয়েকশত পরিবার। এ ছাড়া জৈন্তাপুর উপজেলার নয়াখেল, আঞ্জা গ্রাম ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় বিভিন্ন টিলা ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে আরো কয়েক সহস্রাধিক লোক।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রভাবশালী চক্র টিলার পাদদেশে বাড়ি নির্মাণ করে ভূমিহীনদের কাছে ভাড়া দিয়ে থাকে। অপেক্ষাকৃত কমমূল্যে মৃত্যুঝুঁকি সত্ত্বেও এসব বাড়ি ভাড়া নেন অসহায় লোকজন। স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী ভূমিখেকোরা অবৈধভাবে টিলা কাটার ফলে বর্ষা মৌসুমে ধসের আশঙ্কা আরো বেড়ে গেছে। পর্যটন কেন্দ্র জাফলং পাথর কোয়ারী, বল্লাঘাট এলাকায় টিলা ও পাহাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা অস্থায়ী বস্তিতে অনেক লোক বসবাস করে। যাদের বেশিরভাগই পাথর শ্রমিক।

সিলেটের অনেক দুর্গম টিলায় কাঁচা-আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে তারা বসবাস করছে। স্থানগুলো এতই দুর্গম যে ওইসব স্থানে না আছে শিক্ষার ব্যবস্থা না আছে চিকিত্সার ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে এরা ওইসব স্থানে বসবাস করে আসলেও তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া বা পুনর্বাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। সিলেট জেলার ৮টি উপজেলায় এরকম টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে ঠিক কতটি পরিবার বসবাস করছে এরকম কোনো তথ্য নেই জেলা প্রশাসনের কাছে। বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে, নগরীর উপকণ্ঠসহ সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে সহস্রাধিক পরিবারের অন্তত দশ হাজার লোক ঝুঁকিতে রয়েছে।

গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামসহ পার্বত্য জেলাগুলোতে পাহাড় ধসে শতাধিক লোকের প্রাণহানির পর সিলেটেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বুধবার সিলেটের পাহাড় টিলা বেষ্টিত উপজেলাগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী লোকদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হয়। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিয়ে সভা করেছেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, সিলেটে বিভিন্ন সময় টিলা ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও এসব ঘটনায় কোনো তদন্ত হয়নি। একশ্রেণির দখলদার চক্র টিলা দখল ও কাটার সুবিধার্থে টিলার পাদদেশে ঘর নির্মাণ করে দরিদ্র ও ভূমিহীন লোকদের ভাড়া দেয়। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন তত্পর নয়। এসব কারণে প্রতিবছরই পাহাড় ধসে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে চলছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: