সর্বশেষ আপডেট : ১৫ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্কুল শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, স্বামী পেটালেন প্রধান শিক্ষককে

newspic0008বড়লেখা প্রতিনিধি ::
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রণধীর দাসের বিরুদ্ধে সহকর্মী এক শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে শিক্ষিকা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল আদালত এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।

সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রণধীর দাস একই বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে (জাকেরা আক্তার) দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি করে আসছেন। বিদ্যালয় চলাকালীন প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষিকাকে অকারণে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে অশালীন ভাষায় কথা বলাসহ বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় প্রধান শিক্ষক নিয়মিত স্কুলে যান না বলে অন্যত্র বদলির হুমকি-ধামকি দিতেন।

প্রধান শিক্ষকের এমন হয়রানির বিষয়টি শিক্ষিকা স্কুল কমিটির সভাপতি রুসন মিয়া, স্থানীয় ইউপি সদস্য সাজু মিয়াসহ আরও কয়েকজনকে অবহিত করেন। গত ১৬ মে বিদ্যালয়ে কক্ষে আটকিয়ে শ্লীলতাহানি ও জোরপূর্বক ধর্ষণ করার চেষ্টা করেন প্রধান শিক্ষক রণধীর দাস। এ বিষয়টি শিক্ষিকার স্বামী দুলার মিয়ার কাছে পৌঁছালে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষক রণধীর দাসকে সন্ধ্যায় লাটিপেটা করেন।

সূত্র আরও জানায়, শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই স্কুলে আব্দুল কাইয়ুম নামের আরও একজন সহকারী শিক্ষক কর্মরত আছেন। দীর্ঘদিন থেকে প্রধান শিক্ষক রণধীর দাস অনৈতিক কার্যকলাপে করে আসছেন শিক্ষিকার সাথে। বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা প্রায় ৯ বছর আগে স্কুলে যোগদান করেন। যোগদানের ২/৩ বছর পার হতেই তার প্রতি কুদৃষ্টি পড়ে ওই প্রধান শিক্ষকের। এমনকি তার সাথে অনৈতিকভাবে মেলামেশার জন্য কথার ফাঁকে কুপ্রস্তাব দিতেন। প্রায় সময় কাজের কথা বলে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে অযথা তার গায়ে হাত দিয়ে কথা বলতেন। এসব বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা আপত্তি জানালে প্রধান শিক্ষক তাকে হুমকি দিয়ে জানাতেন অন্যত্র বদলি করে দিবেন অথবা শান্তিতে চাকরি করতে দিবেন না। প্রধান শিক্ষক রণধীর দাসের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শিক্ষিকার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি।

সহকারী শিক্ষিকা লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, প্রধান শিক্ষক তার স্ত্রী ও সন্তান অন্যত্র রেখে বিদ্যালয়ের পাশর্^বর্তী এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন। ওই ভাড়া বাসায় তাকে একা যাওয়ার জন্য প্রায়ই প্রস্তাব দিতেন। এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক তার ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এমনকি হুমকি দেন তার সাথে জোরপূর্বক খারাপ করবেন। স্কুল শিক্ষিকার বাড়ি ও তার স্বামীর বাড়ি স্কুলের পার্শ্ববর্তী এলাকায় হওয়ায় মান-সম্মান হারানোর ভয়ে কাউকে প্রথমে কিছু বলেননি। প্রধান শিক্ষকের যৌন হয়রানির মাত্রা শিক্ষিকার প্রতি ক্রমশ বাড়তে থাকলে শিক্ষিকা বাধ্য হয়ে স্কুল কমিটির সভাপতি, সহকর্মী অপর সহকারী শিক্ষক ও এলাকার কয়েকজনকে বিষয়টি জানান। বিষয়টি সমাধানের জন্য গত ১৩ মে প্রধান শিক্ষকের সাথে তারা আলোচনায় গেলে কোনো সদুত্তর পাননি।

স্কুল শিক্ষিকা জানান, গত মে সকালে বিদ্যালয়ে প্রবেশের পর দেখেন প্রধান শিক্ষক তার অফিস কক্ষে বসা। স্কুলে শিক্ষার্থী খুব বেশি আসেনি। এ সময় প্রধান শিক্ষক তার অফিস কক্ষে ডাকেন। অফিস কক্ষে প্রবেশের সাথে সাথে প্রধান শিক্ষক কক্ষের দরজা আটকিয়ে শ্লীলতাহানি জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। প্রধান শিক্ষকের শ্লীলতাহানির কারণে কক্ষ থেকে বের হয়ে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে স্কুলের পাশে একটি বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শিক্ষিকার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি ও জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার বিষয়টি স্বামী জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষক রণধীর দাসকে ওইদিন সন্ধ্যায় মারধর করেন। ঘটনার পরপর প্রধান শিক্ষক মৌলভীবাজার মডেল থানায় স্কুল শিক্ষিকার স্বামী দুলাল মিয়াকে প্রধান আসামী করে ৪জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন থেকে প্রধান শিক্ষক রণধীর দাসের দ্বারা যৌন নিপীড়নের ঘটনা শিক্ষিকার স্বামীর পারিবারিক সম্মান ও মানমর্যদা হারানোর ভয়ে অন্যত্র না জানিয়ে শুধু স্কুল কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানান। তাদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা না হওয়ায় গত ২২ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ট্রাইব্যুনাল আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত-২০০৩) এর ৯ (৪) খ ধারায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন।

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক রণধীর দাসের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে অভিযোগটি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, গত ১৬ মে বিকেলে বাড়িতে যাওয়ার পথে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা জাকিরা আক্তারের স্বামী দুলাল মিয়াসহ আরও কয়েকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করেন। আহত অবস্থায় তিনি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে শিক্ষক নেতারা তার পক্ষে ১৮ মে মানববন্ধন পালন শেষে হামলাকারীকে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেন। এ ঘটনায় আসামীরা তার ক্ষতি সাধনের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে মর্মে ও মারপিট উল্লেখসহ নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে উল্লেখপূর্বক মৌলভীবাজার মডেল থানায় তিনি মামলা করেন। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকা পৃথকভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: