সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ২৯ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

উত্তর আমেরিকায় রমজান ও ইসলামী জীবনযাত্রা

unnamed (10)গোলাম সাদত জুয়েল:: আমেরিকায় প্রবাসীরা কেমন করে রোজা রমজান পালন করেন ? এ নিয়ে বাংলাদেশে সহ বিশ্বের অনেক দেশের প্রবাসীদের কৌতুহলের শেষ নেই । আমার ১৬ বছরের আমেরিকার প্রবাস জীবনে আমার মনে হয়েছে আমেরিকায় সবচেয়ে ভাল ভাবেই প্রবাসীরা রোজা পালন করেন । আমেরিকার বাহিরে থেকে অনেকে মনে করতে পারেন আমেরিকায় হয়ত বাংলাদেশ বা আরব দেশের মত রোজা রমজান পালন সহজ নয় ।

আসলে কথাটা ভিন্ন । মসজিদের শহর আমেরিকা । দুই হাজার পাঁচ শত মসজিদ আমেরিকায়। মাদ্রাসার সংখ্যা কয়েক শত । ইসলাম ধম পালনের সবচেয়ে সহজ জায়গা আমেরিকা । ৫০ টি ষ্টেটের মধ্যে ২৫ /৩০ ষ্টেটে মুসলিম সম্প্রদায় বাস করেন। কয়েক শত ছোট বড় শহরের মুসলিম সম্প্রদায় আছে্ন ভাল ভাবে । হালাল খাবার ও মসজিদ আজ আমেরিকায় মোড়ে মোড়ে । প্রতি বছর কয়েক শত কোরআনে হাফেজ বেড় হছেছ , তারা নানা শহরে রমজানের তারাবীহ নামাজ পড়ানোর জন ছুটছে । রমজানের প্রস্তুতি প্রবাসীরা সবচেয়ে ভালভাবেই গ্রহন করেন । মসজিদে টেন্ট বসিয়ে রোজাদারদের ইফতার খাওয়ানো্ হয় । ২০০ থেকে ৫০০ জন রোজাদার মসজিদে মসজিদে ইফতার করেন , ৩০ দিনে মসজিদে ইফতার দেবার জন্য প্রতিযোগীতা শুরু হয়ে যায় । আমেরিকার ২৫০০ মসজিদে একই চিত্র । তবে বাংলাদেশী অধ্যূষিত মসজিদ গুলোতে তা বেশী দেখা যায় । ১৫ ঘন্টার রোজা আমেরিকায় , প্রতি মসজিদে খতমে তারাবী নামাজ পড়ানো হয় । রাত ১০ টায় শুরু হয়ে রাত সাড়ে এগারটায় শেষ হয় । ইয়াং হাফিজরা এক ষ্টেট থেকে অন্য ষ্টেটে যান নামাজ পড়াতে ,অনেক সময় লন্ডন থেকেও নতুন প্রজন্মের কোরআনে হাফিজদের আনা হয় । পুরো আমেরিকা জুড়ে রমজান মাসে অন্য রকম আবহ তৈরী হয়ে যায় । নামাজিদের সংখা বেড়ে যায় । মুসলিম প্রধান এলাকায় হালাল গ্রোসারী গুলোতে চলে নানান পণ্যের সেল । আরবী,পাকিস্তানী, বাংলাদেশী প্রবাসীরা রমজানে কাজ কমিয়ে এবাদতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন । রমজানের শেষ দশ দিনে মসজিদে এতেকাফে প্রবাসীদের ভীড় দেখা যায় । ও

মসজিদের ইফতার দেবার ও রোজাদার দের খেদমতে অনেকে ভলান্টিয়ারী করেন । নিউইয়র্ক , মিশিগান, ফ্লোরিডা, আটলান্টা, নিউজাসি , বাফেলো, টেক্সাস সহ বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকার মসজিদ গুলোতে বাংলাদেশী প্রবাসী দের ভীড় দেখা যায় রমজানে । প্রবাসী বা্ংলাদেশীদের অনেক নতুন প্রজন্ম ইসলামি স্কুল ও মাদ্রাসায় পড়ে তাদের বেশীর ভাগের স্কুল ও মাদ্রাসা রমজানে বন্ধ থাকে তাই তাদের রোজা রাখতৈ অসুবিধা হয় না । এবার রমজান কিছুটা সামার এ হবার কারনে অনেক প্রবাসী ছেলেমেয়েরা রোজা রাখতে পারবে । নি্উ ইয়ক , নিউ জাসি ও মিশিগানে অনেক নতুন প্রজন্ম মাদ্রাসা শিক্ষার শেষ ধাপে হাফিজী শেষ করে তারা আলিমি পড়াশুনা করছে তাদের বেশীর ভাগ বিভিন্ন ষ্টেটে তারাবীহ নামাজের জন্য ব্যস্ত সময় কাটাচেছ ।unnamed (9)

সব সম্ভবের দেশ আমেরিকা এখানে সব সম্ভব , যে ডাক্তার হতে চায় সে চেষ্টা করে ডাক্তার হবার । যে প্রকৌশলী হতে চায় সে চেষ্টা করে প্রকৌশলী হতে পারে । যে আইনজীবী হতে চায় সে আইনজীবী হতে পারে । যে দ্বীনের রাস্তায় যেতে চায় সে ইসলামী ধারা লেখা পড়ার শেষ ধাপে যেতে পারে । হাফিজী শেষ করতে পারে , তারপর আলিমী পড়াশুনা করতে পারে । আবার উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য সাউথ আফ্রিকায় বা ইংলান্ডে যায় । তারপর সে আমেরিকার স্বাভাবিকি লেখা পড়া করে তার ক্যারিয়ারও গড়ে । আমার ভাগ্নে ১৪ বছর বয়সে হাফিজী শেষ করেছিল। অসম্ভব মেধাবী শাহির রহমান তারপর ল ডিগ্রী শেষ করে এখন ওয়াশিংটনে বারে কাজ করছে । সে ২০০৮ সালের ওবামার নিবাচনের ওরলান্ডো ফ্লোরিডার ক্যাম্পেইন ম্যানেজার ছিল। সে গত বছরের হিলারীর নিবাচনে হিলারী জন্য ও্য়াশিংটিনে কাজ করছে ।

শাহির রহমান ছাড়াও আমার আরও দুটি ভাগ্নে মাহফুজুর রহমান ও মাসুদুর রহমান ও কোরআনে হাফিজী সম্পন্ন করে সাধারন ক্যারিয়ার গড়েছে । তারা সবাই বিভিন্ন মসজিদে বছরের পর বছর তারাবীহ নামাজ পড়িয়েছে । আমেরিকার ‍ইয়াং হাফিজদের পরিসংখানে দেখা যায় এর সংখ্য কয়েক হাজার । কয়েক শত মাদ্রাসা ও ইসলামী স্কুল থেকে কোরআনে হাফিজ বের হচেছ প্রতি বছর । আমেকিকায় ইসলামী জীবন যাত্রা দুদশক আগে যেমন কঠিন ছিল তা আজ আর সেরকম নেই । ৫০ / ৬০ টি পরিবার মুসলিম পরিবার এক হলেই মসজিদ গড়ে উঠে বছর খানেক পর তা কয়েকশত চলে যায় । কে যদি চায় তার জীবন ইসলামী কালচারে চালাবে সে চালাতে পারে । সেটা নিভর করে তার ইচছার উপর । তাবলিগ সারা আমেরিকায় সরব গতিতে চলমান । বছর ব্যাপী চলে তাদের ‍ইসতিমা । মহিলারা আমেরিকায় যতটুকু পরদা মেনে চলেন তা বাংলাদেশে তা কেউ মানছেন না । রাস্তায় বের হলে খুব কম মুসলিম মহিলা পাওয়া যাবে যারা হিজাব দেন না ।

 

আমেররিকায় বাংলাদেশীদের দ্বীতিয় প্রজন্ম চলছে তাই দেশে বেড়ে উঠা পিতা মাতারা খুব সজাগ তাদের ছেলেমেয়েদের জীবন যাত্রা নিয়ে । অবাধ স্বাধীনতার আমেরিকায় পিতা মাতারা একটু অসাবধান হলেই সন্তানরা বিপদে চলে যাবে । যারা এটা বিশ্বাস করেন তারা অনেক সচেতন । অনেকে আবার সন্তান সন্তানাধি হারিয়ে অকুল সাগরে ভাসছেন । সময় মত সন্তানদের দেখাশুনা না করায় তারা তাদের সন্তানদের হারিয়ে ফেলেছেন । তাই অনেক পিতা মাতা মসজিদের আশে পাশে থাকারে চেষ্টা করছেন । আমেরিকায় যদি পিতা মাতারা তাদের সন্তানদের ছোটবেলা থেকে ঠিক মত শাসন করতে না পারেন তাহলে তাদের অনেক মুল্য দিতে হয় । অনেকে প্রতি বছর দেশে নিয়ে যান বাচছাদের দেশী য় কালচারে শেখানোর জন্য ।

মুক্ত স্বাধীনতার দেশ আমেরিকায় এখানে যেমন ইয়াং হাফিজ বাড়ছে আবার সে অনুপাতে অনেক ইয়াং পিতা মাতা ছেড়ে মেয়ে বনধু নিয়ৈ উধাও হয়ে যাচেছ ,পিতামাতারা চোখের পানি ফেলছেন । রমাজানের সংযমের উপলব্দী বুঝে যারা প্রবাসে রোজা রাখে তারা জানে এটার গুরুত্ব অনেকে তা বুঝে না । মনে করে আমেরিকায় ডলার কামানোর জায়গা,সুখের জায়গা, ভোগের জায়গা । তারা বুঝতে চায় না জীবন ক্ষনিকের । আল্লাহ যে কোন সময় যে কাউকে নিয়ে যাবেন । রমজানে আত্মসুধ্বি লাভের সুযোগ তা কাজে লাগাতে হবে । তাহলেই জীবনে সফলতা আসবে । ।

 

লেখক:: সাংবাদিক,কলামিষ্ট ( ফ্লোরিডা )

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: