সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ২৭ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজারে সরকারি ত্রাণ পায়নি বন্যাদুর্গত লোকজন

unnamedমৌলভীবাজার প্রতিনিধি:: ‘আমাদের ছবি তোলার কোনো দরকার নাই, ভাগ্যে যা আছে, তাই ঘটবে। যৎসামান্য খাবার শেষ হয়ে গেলে না খেয়ে মারা যাবো। আজ পর্যন্ত সরকারি কোনো ত্রাণ পাইনি। পানি এবং সাদা ভাত খেয়ে রোজা রাখছি। গতকাল বিকেলে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কোণাগাঁও গ্রামে চৌধুরী আছিয়া রহমান একাডেমীস্থ বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের বন্যাদুর্গত লোকজন এভাবেই তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ঘরবাড়ি ভাঙা ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় লোকজন জানান, অনেক টিভি-চ্যানেল এসে আমাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, অনেক সাংবাদিক আমাদের ছবি তুলেছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি কিংবা সরকারি কর্মকর্তা আমাদের দেখতে আসেননি। স্থানীয় প্রবাসীদের সহযোগিতায় বেঁচে আছি। এ প্রতিবেদকের কাছে এমন কথা বলে দুঃখে কেঁদে ফেললেন আছিয়া রহমান একাডেমীতে আশ্রয় নেয়া বন্যাকবলিত ৫০টি পরিবারের লোকজন।unnamed (8)
সরেজমিন রাজনগর উপজেলার কোণাগাঁও বাজারে গেলে দেখা যায়, বাজারের পাশে আছিয়া রহমান একাডেমীর টিন সেডের সপ্তম ও অস্টম শ্রেণীর ক্লাসরুমে কোণাগাঁও গ্রামের ৫০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। স্কুলের বারান্দায় বেঁধে রাখা হয়েছে কয়েকটি গরু। বারান্দায় ভ্রাম্যমান চুলা বসিয়ে রান্না করা হচ্ছে। এ সময় মতিন মিয়া, ছয়াইদ মিয়া, আব্দুর রজ্জাক, মতাইর মিয়া, মাসুদ মিয়া, ফাহিম মিয়া ও কয়েছ মিয়া প্রমুখ আলাপকালে জানান, গত ৬দিন ধরে এখানে আশ্রয় নিয়েছি। মনুনদীর বঁাঁধ ভেঙে আমাদের ঘরবাড়ি চূর্ণ-বিচুর্ণ করে দিয়েছে। এখন আবার নতুন করে ঘর বানাতে হবে। কিন্তু আমাদের হাতে কোনো টাকা নাই। ঘর মেরামত করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। সেহরীর সময় সাদা ভাত ও পানি খেয়ে রোজা রাখছি। ইফতারের সময় এলাকার মাওলানা জুনেদ মিয়া আমাদেরকে খিচুড়ি দিয়ে ইফতার করান। এলাকার প্রবাসীরা বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদেরকে সহযোগিতা করছে। কিন্তু চেয়ারম্যান ও মেম্বারের পক্ষ থেকে আমাদেরকে কোনো সহযোগিতা করা হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্তরা আরও জানান, কয়েকদিন আগে ইউপি সদস্য পাবেল মিয়া ও মহিলা ইউপি সদস্য রুপিয়া বেগম ২৫ কেজির দুই বস্তা চিড়া নিয়ে আসলে তাদের দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহিলা সদস্য রুপিয়া বেগমকে নিয়ে যায়। কিন্তু আমাদেরকে কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। এ ৫০টি পরিবার ছাড়াও আরও ৪০-৫০ পরিবার পাশর্^বর্তী বিভিন্ন এলাকায় তাদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের সকলের দাবি, সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় খাদ্যের ব্যবস্থা যেনো করে দেয়া হয়।
কামারচাক ইউপি’র চাটী-কোণাগাঁও গ্রামের দুর্গতরা ত্রান পায়নি এমন অভিযোগের জবাবে ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হক সেলিম জানান, অভিযোগটি সঠিক নয়। কথা হয় খেলারুন বেগম, জেসমিন বেগম, সেলিনা বেগমসহ অনেকের সাথে। তারা জানান, গ্রামে কোনো সাহায্য আসেনি কিংবা কোনো ত্রাণও আসেনি। গ্রামের জয়নাল মিয়া, জব্বার মিয়ার অভিযোগ, বন্যার পানির ¯্রােতে হঠাৎ আঘাত করায় বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের পাশে রিংবাঁধ নির্মাণালে তাদের ত্রুটিপূর্ণ কাজের জন্য গ্রামবাসী এমন ক্ষতির শিকার হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফুল ইসলাম জানান, ত্রাণ না পাওয়ার কথা নয়। ত্রাণের অপ্রতুলতার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিবেন। আরও ত্রাণ বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানানো হয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) এর নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র চক্রবর্ত্তী জানান, রিংবাঁধে কোনো ত্রুটি হয়নি। গ্রামের কয়েকটি বাড়ির কিছু ক্ষতি হতে পারে তবে গ্রামের বৃহৎ অংশ রক্ষা পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: