সর্বশেষ আপডেট : ১৭ মিনিট ৩২ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখার জীবন সংগ্রামী পাঁচ নারীর কথা

1. daily sylhet 0-16মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:: জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ইচ্ছেশক্তির জোরে সমাজে নিজের অবস্থান শক্ত করে নিয়েছেন অনেক নারী-ই। পরিবারের পাশাপাশি সমাজের উন্নয়নেও তারা ভূমিকা রেখে চলেছেন সমানতালে। বন্ধুর পথে চললেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পেরেছেন। তারা সমাজের অনেক স্থানেই ছড়িয়ে আছেন। তারাই জয়ীতা, বাংলাদেশের আলোকবর্তিকা। এ রকমই ৫ জয়ীতা মৌলভীবাজারের বড়লেখায় নানা প্রতিবন্ধকতা, সমস্যা ও সংকটের সাথে লড়াই করে অর্থনৈতিকভাবে সফলতা অর্জন করেছেন।

জীবন সংগ্রামে বাঁধা-বিপত্তি পেরিয়ে সফলতার জন্য তারা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘জয়ীতা অন্বেষণে বাংলাদেশ ২০১৬’ নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ৫ জয়ীতার হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। সম্প্রতি মহিলা বিষয়ক অফিসের কর্মকর্তা হোসনে আরা তালুকদারের সভাপতিত্বে ও অফিস সহকারী মৃগেন কান্তি ভাদুড়ী’র উপস্থাপনায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম আবদুল্লাহ আল মামুন।

কীভাবে জীবন সংগ্রামে জয়ী হলেন এই ৫ নারী ? এটি জানতে কথা হয় তাদের সঙ্গে। সংক্ষিপ্ত ভাবে তুলে ধরা হলো সেই অনুপ্রেরণার বাস্তব গল্পগুলো।unnamed (6)

এক. সুনারা বেগম :
উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সুনারা বেগমের মাত্র ১২ বছর বয়সে বিয়ে হয় এলাকার যুবক ছিদ্দেক আলীর সাথে। বিয়েতে যৌতুক হিসেবে স্বামীকে ১৫ হাজার টাকা দেয়া হয় সুনারার পরিবারের পক্ষ থেকে। কিন্তু স্বামীর আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় স্বামী যৌতুকের জন্য প্রায়ই নির্যাতন করতো। এরই মধ্যে একে একে জন্ম নেয় ৩টি সন্তান। কিন্তু থেমে থাকেনি স্বামীর নির্যাতন। শারীরিক, মানসিক কঠিন নির্যাতনের শিকার হয়ে একপর্যায়ে বাবার বাড়ি চলে যান সুনারা। সন্তানদের দিকে তাকিয়ে নিজের মনোবল দৃঢ় রেখে নতুন উদ্যমে জীবনকে এগিয়ে নিতে কাজ শুরু করেন এই নারী। স্বামী পরিত্যক্তা হওয়া সত্ত্বেও প্রতিকূল পরিবেশে ৩ সন্তানকে নিয়ে এগিয়ে যান। ৩টি সন্তানকে সাথে রেখেই মাথায় সবজি নিয়ে বাড়ি বাড়ি বিক্রি শুরু করেন। এখন বাড়ির সামনে মুদি দোকান দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন জীবনের সংগ্রাম। এ অবস্থায় তিনি মেয়েদের ভরণ-পোষণসহ চালিয়ে যাচ্ছেন ছেলের পড়াশোনার খরচও। নিজের চেষ্টায় নিজেকে স্বাবলম্বী করতে সক্ষম হয়েছেন এই নারী।

দুই. শুক্লা রাণী :
তিন সন্তানের জননী শুক্লা রাণী। পিতার সংসারে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করতে পেরেছিলেন। বিয়ে হয় উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের চিন্ময় দেব’র সাথে। স্বামীর অনটনের সংসারে সহযোগিতা করতে তিনি সেলাইয়ের কাজ শেখেন। তারপরও মেটেনি সংসারের অভাব। অর্ধাহারে দিন কাটতে থাকে শুক্লার পরিবারের। কিন্তু অভাব আর অনটনের সংসারে সন্তানদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলেন তিনি। সারাদিন দর্জির দোকানে কাজ করে চালিয়েছেন সন্তানদের লেখাপড়া। সন্তানদের সুশিক্ষিত এবং উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে ধার-দেনা করেছেন। বিক্রি করেছেন শেষ সম্বল জমিও। তিন সন্তান শিক্ষা ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষরও রেখেছে। এর মধ্যে বড়ো মেয়ে শিক্ষকতা করছে। দ্বিতীয় মেয়ে ও তৃতীয় ছেলে মেডিক্যালে অধ্যয়নরত। বর্তমানে তার উপার্জন দিয়েই দুই সন্তানের খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে।

তিন. মাকসুদা বেগম :
বড়লেখা সদর ইউনিয়নের অজমীর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী মাকসুদা বেগম। কানসাই হাকালুকি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি। শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করা মাকসুদা বেগমের শিক্ষা জীবন সুখকর ছিলো না। পারিবারিক-সামাজিক আর বাল্যবিবাহের বাঁধা অতিক্রম করে অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে পাশ করেন বিএ.বিএড। শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থেকে তিনি নারী শিক্ষার প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন এই নারী।

চার.শাহ ফাহমিদা জান্নাত :
উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহ ফাহমিদা জান্নাত মদিনা। বর্তমানে বিএ’তে অধ্যয়নরত। অভাবের সংসারে বাবা তার মাকে ত্যাগ করেন। তিনি মায়ের সাথে ওঠেন মামা বাড়িতে। বাবা তাদের ছেড়ে দিলেও দমে থাকেননি ফাহমিদা। অদম্য স্পৃহা এবং মনোবল নিয়ে সংসার চালাতে দর্জির প্রশিক্ষণ নেন মহিলা বিষয়ক, প্রাণিসম্পদ ও আনসার ভিডিপিসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে। নিজের ঐকান্তিক চেষ্টায় গড়ে তোলেন একটি টেইলারিং শপ। তার এ উদ্যোগ কিছুদিনের মধ্যে সাড়া ফেলে। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে অসহায় পরিবারের ৬জন নারী কর্মরত। মাসে তার আয় হচ্ছে ২০ হাজার টাকার ওপরে। বর্তমানে তাকে আর অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হয় না।

পাঁচ. রুজিনা বেগম :
পরিবার ও সামাজিক বাঁধার কারণে লেখাপড়া করতে পারেননি বেশিদূর। ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করতে পেরেছেন। রুজিনা বেগম বর্তমানে বড়লেখা পৌরসভার (সংরক্ষিত নারী) কাউন্সিলর। সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখছেন। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য দরিদ্র মেয়েদের শিক্ষার প্রসারের কথা চিন্তা করতে তিনি ‘আশার প্রদীপ’ নামক যুব মহিলা সমিতি গড়েন। সমিতির মাধ্যমে তাদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলছেন। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদেরকে প্রশিক্ষিত করার জন্য তিনি বিভিন্ন দপ্তরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন। ফলে মেয়েরা প্রশিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: