সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৪১ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ১৮ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

৯৬ সন্তানের জনক তিন পাকিস্তানি

pak-men20170610181548আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ৯৬ সন্তানের জনক পাকিস্তানি তিন নাগরিক। জনসংখ্যার যে বিস্ফোরণ ঘটেছে পাকিস্তানে তা এই তিন জনের মতো অনেকেরই কারণে। দক্ষিণ এশিয়ায় সন্তান জন্মের শীর্ষে অবস্থান করছে পাকিস্তান। গত ১৯ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম দেশটিতে সবচেয়ে বেশি হারে জনসংখ্যা বেড়েছে।

জনসংখ্যার উর্ধ্বগতিতে যেখানে দেশটির বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন যে, এমনহারে জনসংখ্যা বাড়তে থাকলে তা দেশটির অর্থনীতি ও সামাজিক সেবাকে কঠিন করে তুলবে। কিন্তু তাতে কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই ওই তিন জনকের। তাদের কথায়, ‘আল্লাহই ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করবেন।’

বিশ্বব্যাংকের এক পরিসংখ্যান বলছে, দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মহারে সবার শীর্ষে অবস্থান পাকিস্তানের। দেশটির প্রত্যেক নারীর গড়ে তিন সন্তান রয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান ও আদমশুমারিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির এ হার অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে।

৩৬ সন্তানের জনক গুলজার খান বলেন, পুরো বিশ্ব এবং সব মানুষকে সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ। সুতরাং কেন আমি সন্তান জন্মের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বন্ধ করব। ইসলামে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ নিষিদ্ধ; পাকিস্তানের এমন একটি অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব রয়ছে গুলজারের।

pak-men-pak-men

দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে উপজাতীয়দের সঙ্গে পারিবারিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার প্রতিযোগিতাও জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ। ৫৭ বছর বয়সী গুলজার তার তৃতীয় স্ত্রীর সঙ্গে এই অঞ্চলের বান্নু শহরে বসবাস করেন। তার স্ত্রী বর্তমানে গর্ভবতী।

গুলজারকে ঘিরে ধরে রয়েছে ২৩ সন্তান। তিনি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, আমরা শক্তিশালী হতে চেয়েছি। তিনি মনে করেন, একটি পুরো ক্রিকেট ম্যাচ খেলার জন্য তাদের কোনো বন্ধুর দরকার নেই। বহুবিবাহ বৈধ হলেও পাকিস্তানে বিরল। তবে এই ধারণার বিস্তৃতি আছে সেখানে।

পাকিস্তানে সর্বশেষ আদমশুমারি পরিচালনা করা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। সেসময় দেশটির জনসংখ্যা সাড়ে ১৩ কোটি ছিল। চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশটিতে আবারও আদমশুমারি পরিচালনা করা হয়।  আগামী জুলাইয়ের শেষের দিকে এই আদমশুমারির ফলাফল প্রকাশ হতে পারে। আদমশুমারির প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, দেশটির বর্তমান জনসংখ্যা ২০ কোটির কাছাকাছি।

এক দশকের মধ্যে পাকিস্তানের অর্থনীতির দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটেছে। গত মাসে ইসলামাবাদ উন্নয়ন বাজেট ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি যেকোনো ধরনের উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উদীয়মান এ দেশে চাকরির পরিমাণ কম এবং অন্তত ৬০ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করেন।

পাকিস্তানে নিযুক্ত জাতিসংঘের জনসংখ্যা পরিষদের কান্ট্রি ডিরেক্টর জেবা আ. সাতহার বলেন, এটি অবশ্যই একটি সমস্যা। কারণ এটি স্বাস্থ্যের ফলাফলে প্রতিকূলভাবে প্রভাব ফেলছে এবং উন্নয়ন অর্জন খেয়ে ফেলছে।

pak-men-pak-men

‘আল্লাহ ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করবেন’

গুলজার খানের ভাই মাস্তান খান ওয়াজির। তার ১৫ ভাই-বোনের একজন। মাস্তান খানেরও তিন স্ত্রী রয়েছে। তিনিও তার ভাইয়ের মতো ২২ সন্তানের জনক। মাস্তান খান বলেছেন, তার নাতি-নাতনি অনেক। উত্তর ওয়াজিরিস্তানের উপজাতীয় জেলায় তিনি একজন তারকা।

ওয়াজিরিস্তানের ঐতিহ্যবাহী টার্বান পোশাক পরিহিত মাস্তান এএফপিকে বলেন, সৃষ্টিকর্তা অঙ্গীকার করেছেন যে, তিনি মানুষকে খাবার ও সম্পত্তি দান করবেন। কিন্তু মানুষের বিশ্বাস কম।

বেলুচিস্তান প্রদেশের কুয়েটার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দা জান মোহাম্মদ। ৩৮ সন্তানের জনক তিনি। এর আগে তার পরিবারের সদস্যদের ভরণ-পোষণ দিকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে জান মোহাম্মদ ১০০ সন্তানের জনক হওয়ার আশা প্রকাশ করেছিলেন বার্তাসংস্থা এএফপির কাছে। কিন্তু চতুর্থ স্ত্রী হিসেবে ঘরে তোলার জন্য কোনো নারীকেই পাননি তিনি। তবে এখনো আশা ছেড়ে দেননি তিনি।

pak-men-pak-men

জান মোহাম্মদ বলেন, যত বেশি মুসলিম জনসংখ্যা বাড়বে, তাদের শত্রুতিা ততবেশি ভয়ে থাকবে। মুসলিমদের উচিত বেশি বেশি সন্তান জন্ম দেয়া।

‘নারীর ক্ষমতায়ন’

স্বামীদের অনুমতি ছাড়া কোনো নারীই কথা বলতে রাজি হননি এএফপির সঙ্গে। ইসলামে পরিবার পরিকল্পনার বিষয়েও ওই তিন জনের স্ত্রীরা কোনো মন্তব্যও করেননি। দেশটির নারী অধিকার কর্মী আইশা সারিওয়ারি বলেন, সন্তান জন্মদানের ব্যাপারে নারীদের মতামতকেও গুরুত্ব দেয়া উচিত।

তিনি বলেন, নারীদের সন্তান জন্মদান নিয়ন্ত্রণ ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। খান বলেন, আমাদের চারপাশে পর্যাপ্ত পরিমাণে সম্পত্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে উপজাতীয়দের সঙ্গে প্রতিযোগিতা কমেছে।

তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় এখন পরিস্থিতি পুরো পরিবর্তন হয়েছে। যুদ্ধ এবং দ্বন্দ্ব শেষ হয়েছে। সুতরাং এখন জনসংখ্যা বৃদ্ধির লাগাম টানা হলে তা খারাপ হবে না।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: