সর্বশেষ আপডেট : ৩৬ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হাকালুকি হাওর তীরে ফসলহারা ও মনু নদীর ভাঙনে সর্বস্বহারা কুলাউড়ার মানুষ

unnamed (7)বিশেষ প্রতিনিধি : একদিকে হাকালুকি হাওরের অকাল বন্যায় শতভাগ বোরো ফসল হারানো মানুষের আহাজারি। অন্যদিকে খরস্রোতা মনু নদীর ভাঙনের কবলে সর্বস্ব হারা মানুষ। এরমাঝে কালবৈশাখী ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতেও হয়েছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। সবমিলিয়ে এত ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেনি কুলাউড়া উপজেলায়।

১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা ৩ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি লোকজনের বসবাস কুলাউড়া উপজেলায়। একদিকে পাহাড় আর অন্যদিকে এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। ভারতীয় সীমান্ত ঘেষা অপরূপ প্রকৃতির এই লিলাভূমি আজ ক্ষতবিক্ষত। চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময় অকাল বন্যায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের শতভাগ বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সেই ক্ষতের দাগ এখনও দগদগে। হাওর তীরের মানুষকে ঘুরে দাঁড়াতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী বোরো মৌসুমের অর্থাৎ পুরো একটি বছর।এর ২ মাস অতিক্রম হাওয়ার আগেই সীমান্তের অপার থেকে আসা কুলাউড়ার দুঃখখ্যাত মনু নদীর ভয়াল ছোবলে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে আরও ৬টি ইউনিয়ন। শুধু মনু নদী নয় পাহাড়ী ঢলে কুলাউড়া উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত গোগালী ও ফানাই নদীতেও ভাঙন সৃষ্টি হয়। ফলে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মানুষের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট আর আউশ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এদু’টি বড় বিপর্যয়ের মাঝে ছিলো কালবৈশাখীর তান্ডব ও শিলাবৃষ্টির আঘাত।
রমযান মাসে কুলাউড়া উপজেলার মানুষের মনে নেই স্বস্তি। দু’মুটো অন্নের সংস্থান করাই হয়ে পড়েছে দুষ্কর। বিশেষ করে কৃষি নির্ভর নিম্নআয়ের মানুষ যেন দিশেহারা। অকাল বন্যায় হাকালুকি হাওর তীরের ফসলহারা মানুষের জন্য ওএমএস’ও চাল বিক্রি করা হলেও চাহিদার তুলনায় যা অপ্রতুল। সেই চালের জন্য অভাবি মানুষকে সেহরির পর থেকে ৬ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। তারপরও সবার ভাগ্যে জুটে না ৫কেজি চাল। আর একবার পেলেও আবার পেতে অপেক্ষা করতে হয় ৬দিন। এদিকে মনু নদীর সুষ্ট ভাঙনের ফলে দিশেহারা মানুষ যেন নিরূপায়। সেখানে ত্রাণে এতই অপ্রতুলতা যে ১০ ভাগ মানুষের কাছে সেই ত্রাণ পৌঁছায়নি।
উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের অবর্নণীয় দুর্ভোগ আর দুর্দশায় বিপাকে পড়েছেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। তারা মানুষকে ঠিকমত সহযোগিতা করতে পারছেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে চেয়ারম্যান মেম্বাররা জানান, তাদের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেটা মানুষকে বুঝাতে পারছেন না। আর মানুষের চাহিদা পুরণ করাও সম্ভব হচ্ছে না।
‘হাওরে অকাল বন্যা, মনু নদী ভাঙন, কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের পাশাপাশি প্রবাসী, সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসার আহ্বান। আপনাদের একটু সহযোগিতাই পারে দুর্গতদের মুখে হাসি ফুটাতে ও ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে।
ভুকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির জানান, সাহায্য প্রার্থী, ওএমএস’র চাল না পাওয়া প্রতিদিন এসব মানুষের দাবি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌঃ মোঃ গোলাম রাব্বি জানান, হাওর এলাকার মানুষের জন্য ওএমএস চালু করা হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে তাদের জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া কুষকদের সুদমুক্ত কৃষি ঋণ দেয়া যায় কিনা সেটাও চিন্তা ভাবনা চলছে। আর মনু নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থদের প্রাথমিকভাবে ত্রাণ দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে মানুষের জন্য আর করণীয় নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: