সর্বশেষ আপডেট : ৯ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ: সমস্যা ও সম্ভাবনা

1497069716নিউজ ডেস্ক:: অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির গতি বাড়াতে আঞ্চলিক বাণিজ্য বিরাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ছে প্রায় সময়েই। অনেক বাধা বিপত্তির কারনে মাঝে মধ্যে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য হোঁচট খাচ্ছে। তেমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশি দেশগুলোর বাণিজ্যিক লেনদেন বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। এর মাধ্যমে উপকৃত হবে বাংলাদেশ। বাণিজ্যের হাত ধরে এই অঞ্চলের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটতে পারে। ভারতের শুধু ত্রিপুরাতেই বছরে ৫০০ কোটি রূপির পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ রপ্তানির মাত্রা আরো বাড়াতে পারে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় এসব রাজ্যে পণ্য পরিবহনেও বিদ্যমান ব্যবস্থা অনেকটা অনুকুল। যে কারণে এসব রাজ্যে বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য অনেকটা বজায় রাখা সম্ভব। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, গত বছর অর্থাত্ ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে মায়ানমারে। এর মধ্যে রয়েছে বিবিধ পণ্য। যার মধ্যে গার্মেন্টস সামগ্রী, কৃষিপণ্য, হিমায়িত খাদ্য চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ঔষধপত্র প্রভৃতি রয়েছে। বর্তমানে নানা জটিলতার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশে আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য। অথচ বাণিজ্য সহজীকরণ করা হলে এ্ই রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমান অনেকগুন বাড়ানো সম্ভব। মায়ানমারে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সেখানে অর্থনৈতিক বাণিজ্যিক কর্মকান্ডে দারুন গতির সঞ্চার হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে এখন বাংলাদেশের সঙ্গে মায়ানমারের বাণিজ্য সম্প্রসারনের উদ্যোগ গ্রহনের সুবর্ণ সময় যাচ্ছে বলা যায়। মায়ানমারের ঔষধবাজার মূলত আমদানি নির্ভর। প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের ঔষধের বিরাট বাজার রয়েছে সেখানে। তারা প্রধানত থাইল্যান্ড, চীন থেকে ঔষধ আমদানি করে থাকে। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক কয়েক বছরে ঔষধ রপ্তানির ক্ষেত্রে লক্ষ্যনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ মায়ানমারে রপ্তানির পরিমান ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আরো আগেই। মায়ানমারে বাংলাদেশ থেকে পণ্য লেনদেনের জন্য ঋণপত্র বা এলসি খুলতে চাইলেও কোনো ব্যবসায়ী তা পারেননা, কোনো ব্যাংকে সেই সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশের কোনো ব্যাংকের সাথে তাদের চুক্তি নেই। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবেশি দেশ মায়ানমারে বর্তমানে পণ্য রপ্তানির জন্য ব্যবহূত রুট হচ্ছে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে মায়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গুন। সমুদ্র পথে এই দুরত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগে কমপক্ষে পাঁচ দিন। আর যদি বাংলাদেশের টেকনাফের পাশ্ববর্তী বন্দর সিটওয়ে বা সাবেক আকিয়াব অঞ্চলে কোনো পণ্য পাঠাতে হয় সে ক্ষেত্রে ইয়াঙ্গুন থেকে সড়ক পথে আরো ৩২ ঘন্টার পথ পাড়ি দিতে হয়। অথচ দুই প্রতিবেশি দেশ বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে নৌ-প্রকোটকল চুক্তি হয়ে গেলে ছয় থেকে আটদিনের এই দূরত্ব নেমে আসবে আট ঘণ্টায়। দুই দেশের মধ্যে নৌ প্রটোকল চুক্তি হলে স্বাভাবিকভাবেই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যাপকভাবে প্রসার ঘটবে।

ওদিকে প্রতিবেশি দেশ নেপালের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ লেনদেন আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে। নেপালে বাংলাদেশের পণ্য সামগ্রী রপ্তানি আয় বেড়েই চলেছে। আর হ্রাস পাচ্ছে আমদানি উভয় দেশের সরকারের ব্যবসা বান্ধব নীতি বিশেষ করে বাংলাদেশের কুটনৈতিক তত্পরতা বৃদ্ধি সহ দূরদর্শী কিন্তু পদক্ষেপের ফলে নেপালের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এখন বাংলাদেশের অনুকূলে চলে এসেছে। নেপালে বাংলাদেশের উত্পাদিত বিভিন্ন ধরনের ভোগ্যপণ্য, খাদ্য দ্রব্য, সৌখিন, গৃহস্থালি পণ্য ও নির্মাণ সামগ্রীর বিরাট চাহিদা রয়েছে, নেপাল অনেকদিন ধরেই আমদানিতে একচেটিয়া ভারত নির্ভরতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এ প্রেক্ষিতে নেপালে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার বিস্তৃতির সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে দিনে দিনে। এখানে সুযোগ রয়েছে রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরনের। বিপুল চাহিদার তুলনায় নেপালে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার এখনও অনেকটা সীমিত রয়ে গেছে। প্রাকৃতিক ভাবে বন্দর সুবিধা বঞ্চিত ভূমি ভূমি পরিবেষ্টিত (ল্যান্ড লক্ড) দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারিত করতে পারে। বাংলাদেশ তার নিজের বন্দর ব্যবহার করে নেপালে অনেক পণ্য পুন:রপ্তানি করতে পারে। গত বছর অর্থাত্ ২০১৬ সালে নেপালে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৩৮৬ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা আয় করেছে। আর বাংলাদেশ নেপাল থেকে আমদানি করেছে ১০৭ কোটি ৭ লক্ষ টাকা মূল্যের পণ্য। বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য সিরামিকস সামগ্রী, ঔষধ, আসবাবপত্র, পোশাক সামগ্রী প্রভৃতি নেপালে রপ্তানি হচ্ছে। নেপাল থেকে আমদানি করা হচ্ছে ডাল, মশলাসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য।

নেপাল, মায়ানমার, ভূটান, ভারতের কয়েকটি সীমান্তবর্তী রাজ্য আমাদের নিকট প্রতিবেশি। দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে হলে প্রথমেই দরকার এসব দেশ এবং রাজ্যের সঙ্গে কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে চার দেশীয় (ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভূটান) প্রস্তাবিত সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হলে বাংলাদেশ থেকে এসব দেশে রপ্তানির পথ সুগম হবে এবং রপ্তানির পরিমানও বৃদ্ধি পাবে। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়িয়ে বাংলাদেশ নেপালকে ট্রানজিট সুবিধা দিতে পারে। বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়লে দুই দেশের টেকসই উন্নয়নের পথ সুগম হবে।

প্রতিবেশি দেশ ভারত, নেপাল, মায়ানমার ও ভূটানের সাথে বাংলাদেশের আঞ্চলিক বাণিজ্য প্রসারের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের উত্পাদিত ও প্রক্রিয়াজাত বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য, পানীয়, রাসায়নিক দ্রব্য, সিরামিকস সামগ্রী, ঔষধ, আসবাবপত্র, স্টিল ও আয়রন সামগ্রী, সাবান, মেলামাইন, প্লাস্টিকজাত পণ্য,হোম টেক্সটাইল, টেরিটাওয়েল ও পোশাক সামগ্রী, খেলনা, পাটজাত দ্রব্য, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প পণ্য, বিভিন্ন সৌখিন দ্রব্য, মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, আইটি সামগ্রী ইত্যাদির বিরাট বাজার রয়েছে এসব দেশে। আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির নতুন সোপানে উন্নীত হতে পারে খুব দ্রুত।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: