সর্বশেষ আপডেট : ২১ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে মহাসমারোহে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা,ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়

unnamed (8)নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেটের ইসকন মন্দিরে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রাকে কেন্দ্র করে ভিড় হয় চোখে পড়ার মত। শুধু সিলেটই নয়, দেশের অন্যান্য প্রান্তেও জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা পালিত হয় মহাসমারোহে।

কিন্তু কী এই স্নানযাত্রা?

জ্যৈষ্ঠমাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্বয়ম্ভু মনুর ‌যজ্ঞপ্রভাবে প্রভু জগন্নাথ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাই এই তিথিকে জগন্নাথদেবের জন্মদিন হিসাবে পালন করার নির্দেশ দেন স্বয়ং মনুই। সেই জন্মদিন উপলক্ষেই এই বিশেষ স্নান উৎসব পালিত হয়ে আসছে। জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার একশো আটটি কলস ভর্তি সুশীতল জলে মহাস্নান হয়ে থাকে।

কথিত আছে সমস্ত দেবদেবীরা যাতে জগন্নাথ দেবের এই স্নানযাত্রা ভালভাবে দেখতে পারেন সেই উদ্দেশ্যে মহারাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন স্না‌নযাত্রাকালে স্নানবেদির চারদিকে রত্মশোভিত চাঁদোয়া ও আবরণবস্ত্র দিয়ে আচ্ছাদিত করে দিতেন। পরবর্তীকালে স্নানবেদি জীর্ণ হয়ে পড়লে তা নতুন করে নির্মাণ করেন শ্রীঅনঙ্গভীম দেব। স্নান‌যাত্রার দিন চন্দন, আতর সহ বিভিন্ন সুগন্ধি দিয়ে পবিত্র জল এনে রাখা হয় স্নানবেদিতে। সুগন্ধি ধূপ দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া হয় স্নানমঞ্চ। তারপর মন্দিরের দক্ষিণ কূপ থেকে স্নানের জল আনেন প্রভু জগন্নাথের সেবকরা। সেই জল সুগন্ধ দ্রব্যে সুবাসিত করে ‘পাবমানী’ মন্ত্রে সোনার কলস পরিপূর্ণ ও অধিবাস করেন গর্ভমন্দিরে। এ
বার শুরু হয় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে স্নানমঞ্চে নিয়ে আসার প্রস্তুতি। সুন্দর পট্টবস্ত্র দিয়ে ঢেকে জগন্নাথদেব সহ বলরাম ও সুভদ্রাকে নিয়ে আসা হয় স্নানমঞ্চে। স্নানমঞ্চে নিয়ে আসার সময় চামর ও তালপাতা দিয়ে বাতাস করতে করতে তিন দেবতাকে বাতাস করা হয়। সকলে যাতে স্নানের অনুষ্ঠান ‌দর্শন‌করতে পারেন সেজন্য সিলেট ইসকন মন্দিরের মাঝখানে একটি উঁচু বেদী করা হয়েছে। যাতে মন্দিরের চারপাশ থেকেও সকলে প্রভুর স্নানযাত্রা প্রত্যক্ষ করতে পারেন।

অবশেষে মহা সমারোহে ব্রহ্মার সঙ্গে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার স্নান সম্পূর্ণ করা হয়। স্নানের পর জগন্নাথ ও বলরামের হাতিবেশ বা গণেশবেশ হয়ে থাকে। স্বয়ং জগন্নাথদেব মহারাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মহাস্নানের পর তাঁর অঙ্গরাগবিহীন রূপ যেন কেউ না দেখেন। তাই স্নানযাত্রার পর থেকে ১৫ দিন মন্দিরের দরজা সাধারণের জন্য বন্ধ থাকে।

কথিত আছে এসময়ে স্নানের পর জগন্নাথদেবের জ্বর হয়। জ্বর সারাতে দয়িতা-পতিরা ওষুধ পথ্য অর্থাৎ মিষ্টি রসের পানা বিশেষ পাচন ও নানা ধরণের মিষ্টান্ন ভোগ দেন। এসময়ে মন্দিরে জগমোহনের পাশে ‘নিরোধনগৃহে’ অবস্থান করেন জগন্নাথদেব। এরপর যখন নবমূর্তিতে জগন্নাথদেব নানা বেশভূষায় সুসজ্জিত হয়ে দর্শন দেন তখন সেই উৎসবকে বলা হয় নেত্রোৎসব বা নবযৌবন উৎসব। জগন্নাথদেবের এই মহিমা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। যা আজও সমানভাবে দেশ বিদেশের মানুষকে আকর্ষিত করে।unnamed (9)

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসকন সিলেট’র ইউথ ফোরা মের পরিচালক দেবর্ষি শ্রীবাস দাস জানান, স্নানযাত্রা জগন্নাথ দেবের আবির্ভাব উৎসব। জগন্নাথদেবের কৃপা অত্যন্ত প্রকট। শ্রীকৃষ্ণকে স্নান করাতে হলে উপবাস থাকতে হয়,রামচন্দ্রকে স্নান করতে হলে উপবাস থাকতে হয়,নৃশং দেবকে স্নান করাতে হলে উপবাস থাকতে হয়, মহাপ্রভুকে স্নান করাতে হলে উপবাস থাকতে হয়। কিন্তু জগন্নাথদেব এতই কৃপাময় যে উনাকে স্নান করাতে হলে উপবাস না রেখে স্নান করাতে হয়। উপবাস রেখে জগন্নাথ মহাপ্রভুর স্নান যাত্রা হয়না। স্নান যাত্রার মাধ্যম জগন্নাথদেব সকল মানুষের পাপ গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, এই দিনে জগন্নাথদেবকে স্নান করানো,উনাকে স্পর্শ করা অনেক পবিত্রদায়ক। এই দিনে যারাই স্নান করাক না কেন,সকলে পাপমুক্ত হবেন। যদিও তিনি ভগবান তবুও আমাদের কলুসষতা যখন তিনি গ্রহণ করেন তখন তিনি জ্বর লীলা করে থাকেন। রথযাত্রারর আগের দিন পর্যন্ত যে লীলা চলে। আর যারা এই স্নান যাত্রায় আসতে পারেনি তাদের জন্য রথযাত্রার দিন জগন্নাথদেব রাস্তায় বের হন। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৫শে জুন বিশ্বের সমস্ত বড় বড় সড়কে জগন্নাথদেব তার ভক্তদের দর্শন দিবেন। যাতে ভক্তরা তার কৃপা লাভ করতে পারে। তাই জগন্নাথদেবের কৃপা লাভের জন্য সকলে রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করুন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: