সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ২৭ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মনু ও ধলাই নদীর ১১টি স্থানে ভাঙ্গন

unnamed (11)মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:: প্রবল বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। মনুনদীর ৬টি স্থানের ভাঙ্গন দিয়ে ও ধলাই নদীর নতুন এবং পুরাতন ৫টি ভাঙ্গন দিয়ে বন্যার পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, ফসলি জমিসহ সবজি ক্ষেত। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।

গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে জেলার বড়লেখা, কুলাউড়া, রাজনগর, কমলগঞ্জ ও জুড়ী উপজেলার ১০টি স্থানে মনু ও ধলাইনদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে শতাধিক গ্রাম পানির নীচে তলিয়ে গেছে। জেলার কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলায় বাঁধ ভেঙ্গে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেক এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অনেকে বাঁধে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। জনপ্রতিনিধিরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু ত্রাণ বিতরণ করেছেন। তবে সরকারি ত্রাণসামগ্রি কেউ পায়নি। তন্মধ্যে কমলগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৮৮টি গ্রামের ৭১ হাজার মানুষ পানিবন্দী। লাঘাটা ছড়ার পুরাতন ৪টি ভাঙা অংশ দিয়ে আদমপুর, আলীনগর, শমশেরনগর, মুন্সীবাজার ও পতনঊষার ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকেছে।

আদমপুর ইউপি’র আদকানী-আদমপুর-কোণাগাঁও রাস্তা, দক্ষিণ তিলকপুর রাস্তা, নঈনারপার-কাঁঠালকান্দি রাস্তা ও হোমেরজান-উত্তর ভানুবিল সড়কের ওপরে অন্তত ৩ ফুট পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন জানান, গতকাল ধলাই নদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এখানে অন্তত ৭ হাজার মানুষ পানিবন্দী।

আলীনগর ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। কামুদপুর এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের যাতায়াতের ৩টি রাস্তা ৪ ফুট পানির নিচে রয়েছে। আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক জানান, সেখানে ১১ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।
শমশেরনগর ইউপি’র ১৮টি গ্রামই প্লাবিত হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ জানান, তার ইউনিয়নে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী। পরিবারগুলোকে প্রাথমিকভাবে কিছু সহায়তা দেয়া হয়েছে। শমশেরনগর-সুরানন্দপুর সড়কের শিংরাউলি এলাকা ২ ফুট পানির নিচে রয়েছে। শমশেরনগর-কুলাউড়া সড়কের বিমানবন্দর রেলগেট এলাকায় ২ ফুট পানি রয়েছে।
মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ২৩টি গ্রাম এখনও প্লাবিত। ইউপি সদস্য শফিকুর রহমান জানান, এখানে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামছুদ্দীন আহমদ জানান, এবারের পানির আঘাত অনেকটা ব্যতিক্রমী। ৮৮টি গ্রামের আউশ ফসল রক্ষা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে মনুনদের ৪টি স্থানের বাঁধ ভেঙে রাজনগর উপজেলার ২টি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। গত রোববার রাতে কামারচাক ইউনিয়নের ভোলানগর ও চাটিকোণাগাঁও এবং টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও কোণাগাঁও এলাকায় বাঁধ ভেঙে যায়।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের মধ্যে কিছু এলাকায় গতকাল ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে কুলাউড়া উপজেলায় বাঁধ ভেঙে আরও ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ উপজেলায় অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী। টিলাগাঁও ইউনিয়নের মিয়ারপাড়া গ্রামে মনুনদের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় ১০-১৫টি পরিবার বাঁধের শুকনো স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে গত শনিবার রাতে পাশের শরীফপুর ইউপি’র নিশ্চিন্তপুর গ্রামে মনুনদের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া চাতলাপুর, টগরপুর, কামারচাক, রণচাপ, ভাঙ্গারহাটসহ আরও কয়েকটি স্থানে মনু প্রতিরক্ষা বাঁধে ফাটল দেখা দেয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: