সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৫০ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নবীগঞ্জে ফের বন্যায় সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী

unnamed (9)মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ:: আবারো বন্যায় প্ল্যাবিত হয়েছে নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক গ্রামের ১০ টি গ্রাম। এতে প্রায় সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে নদীর পাড় ডুবে ও দীঘলবাক ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রবল স্রোতে পানি প্রবেশ করে সহস্রাধিক বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, স্কুল, মাদ্রাসা, দোকান, আউশ ধান, বিভিন্ন জাতের সবজি ক্ষেত, পুকুর ও মাছের ফিশারি (ঘের) তলিয়ে গেছে। ওই এলাকার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাৎক্ষনিকভাবে বেড়ি বাধ নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অপদিকে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ের দক্ষিণ গ্রাম, নাদামপুর ও পঠানহাটি গ্রামগুলির প্রায় শতাধিক পরিবার একই অবস্থায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। কুশিয়ারা নদীতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি নড়খাই নদী দিয়ে ঢোকে গত সপ্তাহ খানেক ধরে উলে¬খিত দুটি ইউনিয়নের গ্রামগুলো প্ল¬াবিত হয়। অন্যদিকে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ কুশিয়ারা ডাইক এর বেশ কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। যে কোন সময় কুশিয়ারার ডাইক ভেঙ্গে নবীগঞ্জ উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন প¬াবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া ও হুমকির মুখে পড়তে পারে দেশের বৃহত্তম গ্যাস কুপ বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড ও বিবিয়ানা বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লান্ট। যে কোন সময় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ কুশিয়ারা ডাইক ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় লোকজন।unnamed (10)

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীঘলবাক বাজারের অনন্ত শতাধীক দোকান পানি বন্দী অবস্থায় আছে। অনেক বাড়ী ঘওে পানি উঠায় ঘওে তালা ঝুলিয়ে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে গেছেন অনেকেই।

দীঘলবাক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলজার মিয়া বলেন, বর্ষার মৌসুমে আমাদের শতাধীক দোকান পানিবন্দী হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ২/৩ মাস দোকান বন্ধ রাখতে হয়। অনেক ব্যবসায়ীর পরিবার না খেয়ে বাচঁতে হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মহসিন মিয়া বলেন, দীঘলবাক এলকার প্রায় ৯৫% ঘর বাড়ী পানিবন্দী অবস্থায় আছে। কুশিয়ারার পানি বিপদ সিমার উপর প্রবাহিত হওয়ায় অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

আরো অনেকেই কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, অকাল বন্যায় আমরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি, কিন্তু কোন চেয়ারম্যান, মেম্বার অথবা জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ত্রাণ সহায়তা পাইনি। দূর্গতরা অনেকেই উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন, কেহ কেহ ঘরবাড়ী ছেড়ে আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে বিভিন্নস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

সরজমিন পরির্দশন কালে দেখা মিলে এক বাড়ির, ঘরের ভিতরে থেকেই সবজি কাটছেন আছিয়া বেগম নামের এক মহিলা, তিনি বলেন, পানির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারি না। বাজার হাটে যেতে পারিনা তাই ঘরে বসেই সব কিছূ করতে হয়। এর পর দেখা যায় শেখ আব্দুল আছাদের বাড়ি। বাড়িতে দুটি ঘর রয়েছে এর মধ্যে দুটিতেই হাটু পানি ঘরের ভিতরেও। অনেকটা আতংকের মধ্যে তাকছেন তারা। দিন যায় যেমন তেমন রাত হলেই বেড়ে যায় তাদের সাপ সহ বিভিন্ন আতংক। আছাদ জানালেন, তারা প্রায় ১ সাপ্তাহ যাবত এ অবস্থায় আছেন। তাদেও পরিবাওে ১০ সদস্য, সবাই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সব সময়ই ফালং এর উপর থাকতে হচ্ছে তাদের। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করেছের তারা।
ওই এলাকার বাসিন্দা সাহিত্যিক নিলুফা আক্তার নিলু জানালেন, কুশিয়ারার পানি বিপদ সিমার উপর অতিবাহিত হয়ে হাজার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

দীঘলবাক ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ এরলা মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় দীঘলবাকের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ডাইকের বাহিরের গ্রামগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাৎক্ষনিক কোন ব্যবস্থা না নিয়ে দীঘলবাক বিলিন হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে তিনি যোগাযোগ করেছেন।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাজিনা সারোয়ারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আগে কেউ জানায়নি, তাই জানতাম না। কিছূক্ষন আগে জেনেছি এবং সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ইউএনও ।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: