সর্বশেষ আপডেট : ২৬ মিনিট ৫২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজার পাউবো : অভিযোগের অন্ত নেই ভুক্তভোগীদের

2.-daily-sylhet-666-2মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:: বর্ষ মৌসুমের শুরুতেই মৌলভীবাজার জেলার কয়েকটি নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর কর্মকর্তাদের ওপর স্থানীয়দের অভিযোগের অন্ত নেই। সরেজমিন ভাঙনকবলিত বাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে পাউবো’র কর্মকর্তারা পড়েছেন স্থানীয়দের তোপের মুখে। শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয়রা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামতের অভিযোগ দিলেও আমলে নেন না তারা। আর বর্ষায় নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙনের খবর পেলে তোড়জোড় চলে মেরামতের। উদ্দেশ্য একটাই লোক দেখানো। কাজের পুরো বরাদ্দ পকেটস্থ করা।

মৌলভীবাজার পাউবো’র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ জেলার নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন থেকে জুড়ী, কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও মৌলভীবাজার উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ থাকা নদীগুলোর মধ্যে জুড়ী, কন্টিনালা, মনু, ফানাই, ধলাইসহ অনান্য নদী ও পাহাড়ি ছড়াগুলো খনন কিংবা মেরামতের জন্য বারবার পাউবো অফিসে ধর্ণা দিয়েও কোনো কাজ হয় না। বরাদ্দ নেই এমন অভিযোগে সান্তনা দিলেও প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বর্ষা মৌসুমে বন্যাকবলিত হলে তখন মেরামতের জন্য শুরু হয় তাদের দৌঁড়ঝাঁপ আর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ।

সম্প্রতি জেলার রাজনগরে মনুনদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ, কমলগঞ্জের ধলাই ও জুড়ী নদীর ভাঙনকবলিত প্রতিরক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে গেলে পাউবো’র কর্মকর্তারা পানিবন্দী দুর্ভোগগ্রস্তদের তোপের মুখে পড়েন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওইসব কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণেই বাঁধ ভেঙে উপজেলার অন্তত শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তাদের দাবি, সময় মতো মেরামত কাজ করা হলে তারা হঠাৎ এমন দুর্ভোগে পতিত হতেন না।

স্থানীয়রা জানান, গত ২/৩ দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার রাজনগর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও জুড়ী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। ওই সব স্থান দিয়ে পানি ঢুকে অন্তত শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। নতুন করে আরও একাধিক এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

এদিকে কুলাউড়ার কর্মধা, রাউৎগাঁও ও ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়ন দিয়ে বয়ে যাওয়া ফানাই নদীর ৩টি স্থানে ভাঙনে কর্মধা ইউনিয়নের হাসিমপুর, বাবনিয়া, মহিষমারা; রাউৎগাঁও ইউনিয়নের কবিরাজী, ভবানীপুর, মুকুন্দপুর ও জয়চ-ী ইউনিয়নের গোগালী নদীর বাঁধটি একাধিক স্থানে ভাঙনের ফলে লামাপাড়া, কামারকান্দি, দানাপুর; কুলাউড়ার নিশ্চিন্তপুর, শঙ্করপুর, জনতাবাজার, লক্ষ্মীপুর ও প্রতাবী গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ আকষ্মিক বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফ হোসাইন জানান, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মাতারকাপন ও বাঁশতলা এলাকায় পৃথক দু’টি স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে কমপক্ষে ২০টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুখলেছুর রহমান তালুকদার জানান, মনুনদীর ৪৪টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের মধ্যে ২৪টি স্থানে ফাটল দিয়ে পানি বের হচ্ছে। যে কোনো বড়ো ধরণের ভাঙন সৃষ্টি হতে পারে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শংকর চক্রবর্ত্তী জানান, মনুনদীর ৩-৪ টি স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কিংবা ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষোভ থাকতেই পারে। আসলে মিথ্যা আশ^াস দিয়ে কোনো লাভ নাই। বরাদ্দ অনুসারে কাজ হচ্ছে। বরাদ্দের টাকা পকেটস্থের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: