সর্বশেষ আপডেট : ২৪ মিনিট ১২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কমলগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি : দুর্গত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্রসঙ্কট

unnamedমো.মোস্তাফিজুর রহমান,কমলগঞ্জ:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেরার বন্যা পরিস্তিতি পৌরসভাসহ ৩টি ইউনিয়নের কিছুটা উন্নতি হলেও আরো ৩ টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে পতনউষার, শমসেরনগর, মুন্সিবাজার ইউনিয়নের প্রায় ৬০টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত। শত শত ঘরবাড়িতে হাটু পানি।রবিবার রাতে পানিবন্দী মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে উচুৃ স্থান বা বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নেন। চারি দিকে শুধু পানি আর পানি। দুর্গত এলাকায়পয়ঃনিষ্কাশন, শুকনো খাদ্য খাবার, গবাদিপশু সংরক্ষণ ও পশু খাদ্য বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বন্যার ফলে আউশ ধান, বীজতলা, সবজির ক্ষেতসহ ১১ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। ভেঙে গেছে গ্রামীন রাস্তাঘাট। বন্যায় আক্রান্ত এলাকাগুলোতে দুইদিনেও সরকারি কোন কর্মকর্তা বা ত্রাণসহায়তা ব্যব্স্থা গ্রহন না করায় বন্যার্ত মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বন্যা আক্রান্ত এলাকাঘুরে দেখা যায়,কমলগঞ্জ পৌরসভা,ইসলামপুর, আদমপুর ও কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও সোমবার সকালেপতনউষার, শমসেরনগর, মুন্সিবাজার ইউনিয়নের প্রায় ৬০টি গ্রাম বন্যার পরিস্থিতি অবনতি ঘটেছে। দ্রুত পানি বাড়ছে ওই এলাকাগুলোতে।পানি বন্দি অবস্তায় আছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। শিক্ষা প্রতিষ্টান, ধর্মীয় প্রতিষ্টানে পানি উঠেছে। শত শত মানুষের বাড়ি ঘরে পানি উঠায় তারা আশ্রয় নিয়েছেন উচুস্থান বা বিভিন্ন প্রতিষ্টানে।

পতনউষার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী তওফিক আহমদ (বাবু) বলেন,কমলগঞ্জের সবচেয়ে নি¤œাঞ্চল হচ্ছে এ ইউনিয়ন। তে করে উপজেলার উজান হতে দ্রুত পানি নেমে এসে ২৮টি গ্রাম পানিতে নিমজ্জিত আছে। চরম দুর্ভোগ রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। শত শত বাড়িতে পানি উঠেছে। পানি বন্দি লোকজন বাড়ি হতে বের হতে পারচ্ছেন না। তিনি ব্যক্তিগত সহায়তা দিলেও প্রশাসন হতে গত দুইদিনে বন্যাক্রান্ত লোকজনকে কোন ধরনের সহায়তা দেয়া হয়নি।

তিনি জানান, এলাকায় বিশুদ্দ পানি সংকট রয়েছে। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন বিভিন্ন উচু জায়গায়। তিনি প্রশাসনকে দ্রুত ত্রান প্রদানের সহায়তা প্রদানের দাবী জানিয়েছেন।

আদমপুর ইউনিয়নে আটটি গ্রাম বনগাঁও, কেওয়ালী ঘাট, হকতিয়ারখুলা, পশ্চিম জালালপুর, কান্দিগাঁও গোড়ামারা বন্দেরগাঁও, দক্ষিণ তিলকপুর, হোমেরজান গ্রামের সাত হাজার মানুষ এখন পানিবন্ধি আছে। আদকানী-আদমপুর-কোণাগাঁও রাস্তা,দক্ষিণ তিলকপুর রাস্তা, নঈনারপার-কাঁঠালকান্দি রাস্তা ও হোমেরজান- উত্তর ভানুবিল রাস্তায় তিন ফুট পরিমাণ পানিতে নিমিজ্জিত আছে।
আলীনগর ইউনিয়নের চা বাগানের নি¤œাঞ্চলসহ ১৪টি গ্রামের মানুষ এখন পানিবন্ধী। কামুদপুর এলাকায় আশ্রায়ন প্রকল্পের যাতায়াতের তিনটি রাস্তা চার ফুট পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে আছেন বলেচেয়ারম্যান ফজুলর হক জানান।
ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ বলেন, তার ইউনিয়নে ১৮টি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ এখন পানিবন্ধী অবস্থায় আছে। শমশেরনগর-সুরানন্দপুর সড়কের শিংরাউলী এলাকা দুই পরিমাণ পােিনত নিমজ্জিত আছে। শমশেরনগর-কুলাউড়া সড়কের বিমানবন্দর রেল গেইট এলাকায় দুই ফুট পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত আছে।

মুন্সীবাজার ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের ২৩ গ্রাম এখনও পানিতে নিমজ্জিত আছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান না পেলে ইউপি সদস্য শফিকুর রহমান জানান প্লাবনের পানিতে কমলগঞ্জ-মুন্সীবাজার সড়কের ঠাকুরের বাজার সড়ক, রাধানগর রুপশপুরের কারিতাস সড়ক এখন তিনফুট পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত আছে। মুন্সীবাজারের ২৩টি গ্রামের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্ধী আছেন বলে ইউপি সদস্য জানান। এ দিকে ৬টি ইউনিয়নের বন্যার পানিতে ১১ হাজার হেক্টর আউস ফসল সম্পূণ পানিতে নিমজ্জিত দুইদিন ধরে। কৃষকরা জানান, তারা মারাত্মক ক্ষতি স্বীকার হয়েছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, আশা করা যাচ্ছে সোমবার বিকাল থেকে পানি কমতে শুরু করবে। তবে কমলগঞ্জের নিমঞ্চলের গ্রামগুলির পানিবন্ধী মানুষজন ও ফসলি জমির রোপিত আউশ ফসল পানি না নামলে বলা যাবে না কি অবস্থায় আছে। উপজেলা প্রশাসন এ দিকে সার্বিক নজদারী করছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: