সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলে সুন্দরবন বিস্তৃত হবে : প্রধানমন্ত্রী

1496605646নিউজ ডেস্ক:: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সুন্দরবন যে আমাদের একটা ঐতিহ্য শুধু তাই নয়, এই সুন্দরবনের কারণেই কিন্তু বাংলাদেশ টিকে আছে। এই সুন্দরবন যাতে আরো বৃদ্ধি পায় সেজন্য আমরা আর্টিফিসিয়াল ম্যানগ্রোভ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছি। সাথে সাথে সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলে এর বিস্তৃতি ঘটাবার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল রবিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলা ২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ইশতিয়াক আহমেদসহ অন্যরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার বিশ্বের সর্ববৃহত্ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন সুরক্ষায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়নে সরকার যে পদক্ষেপই নিক না কেন সুন্দরবন যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটি সব সময়ই খেয়াল রাখা হয়।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কার্বন জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। সেখানে সহ-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে এবং পরিবেশ পর্যটনের বিকাশে উন্নয়ন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এই সময় জাতির পিতার দূরদর্শিতার উল্লেখ করে বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে ‘পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ’ জারি করেন। তখন পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়। এ অধ্যাদেশ ও প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় সৃষ্টি হয়েছে আজকের পরিবেশ অধিদপ্তর।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য সরকার দ্বিমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সাড়ে ৮ বছরে আমাদের দেশের মোট বনভূমির পরিমাণ ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। স্থানীয় দরিদ্র নারীসহ সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে বন অধিদপ্তর সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে সাফল্য অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাংলাদেশের ভূমিকা না থাকলেও আমরা এর বিরূপ প্রভাবের নির্মম শিকার। বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে আমাদের। আমাদের সরকার ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয় মোকাবিলায় ২০০৯ সালে প্রণীত বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্রাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যান (বিসিসিএসএপি) যুগোপযোগী করছে।

তিনি বলেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে ২০১০ সালে ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করি। এ খাতে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গঠিত গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড এবং এলডিসি ফান্ড হতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ প্রাপ্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আমাদের দেশে বায়ু দূষণের অন্যতম উত্স ইটভাটা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে দেশের দুই-তৃতীয়াংশ ইটভাটা জিগজ্যাগ এবং অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তির ইটভাটায় রূপান্তরিত হয়েছে। বাকি ইটভাটাসমূহও রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের প্রধান নদীসমূহ খনন করে তার নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদীকে ‘প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে তা ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ ট্যানারি শিল্প সাভারের হরিণধরায় স্থানান্তর করা হয়েছে। দেশের সকল কারখানায় ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইটিপি ছাড়া কোনো নতুন কারখানা স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র আঘাত হানার সময় সরকারের আগাম ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

পরিবেশ রক্ষায় সরকার সমন্বিত উদ্যোগ

নিয়েছে : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

এদিকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু অনুষ্ঠানে বলেছেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকার একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। পরিবেশ রক্ষা এখন শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়। এর সঙ্গে পানিসম্পদ, কৃষি, শিল্প এবং মত্স্যসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ও জড়িত। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী চিন্তার কারণে পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশ একটি বিরল ফান্ড গঠন করে। যে কারণে এখন পরিবেশ বলতে দেশের মানুষ শুধু সুন্দরবন আর বঙ্গোপসাগরকে বোঝে না, পুরো বাংলাদেশকে বোঝে।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দেশের অর্থনীতিকে ইতিবাচক ধারায় রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। এর মধ্যেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি উচ্চধারায় রয়েছে। পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে দেখছে মার্কিন ডলারের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি বলেন, এমন এক মুহূর্তে আমরা কথা বলছি যখন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে। এই চুক্তি মেনে চলার ক্ষেত্রে আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বিষয়টি নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। যদিও কেউ এখনো স্পষ্টভাবে বলেনি যে এই চুক্তি থেকে তারা বেরিয়ে আসবেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরো বলেন, যেভাবে আমাদের পরিবেশের পরিবর্তন ঘটছে তা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তা হলে আমাদের সময় কোনোভাবে কেটে গেলেও ভবিষ্যত্ বংশধরদের জন্য এই পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় আমরা কাজ করছি। একটি সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গঠন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে পরিশ্রম করছেন তা শেষ পর্যন্ত বৃথা যাবে না।

এদিকে আজ সোমবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশেও বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে— ‘প্রাণের স্পন্দনে প্রকৃতির বন্ধনে।’ অপরদিকে ‘বৃক্ষরোপণ করে যে সম্পদশালী হয় সে’ স্লোগান নিয়ে আজ থেকে তিন মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও শুরু হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি কাঁঠাল গাছের চারা রোপণ করে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলা-২০১৭-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন-২০১৭, বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার-২০১৬ ও সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশের চেক প্রদান করেন।

বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান এবং ঢাকার কলাবাগানের মোকারম হোসেন ব্যক্তিগতভাবে বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পরিবেশ পুুরস্কার-২০১৭ এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠানগতভাবে এই পুরস্কার লাভ করে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইসুল আলম মণ্ডল এবং প্রধান বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুল আলম চৌধুরী বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: