সর্বশেষ আপডেট : ১৬ মিনিট ২০ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রোজা শুরু বেচা কেনা নেই,হাওরাঞ্চলের ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

unnamedজাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া,সুনামগঞ্জ:: সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে একের পর এক হাওর ডুবায় কৃষকরা দিশেহারা। দিশেহারা হাওর পাড়ের বিভিন্ন বিপনী বিতানের শ্রমিক ও মালিকগন। সেই সাথে শহরের নামিদামী দোকানীরাও। রমাজান মাস শুরু ২৩দিন পর ইদুল ফিতর অথচ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারের প্রতিটি দোকান একবারেই ক্রেতা শুন্য বেচা-কেনা নেই। হতাশার মধ্য দিয়ে ক্রেতা বিহীন সময় পাড় করছে ভ্রাম্যমান ও রেডিমেট থ্রি পিচ,শার্ট ও শাড়ি,থান-কাপড়েরর ছোট-বড় হাজারও ব্যবসায়ীগন। সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,দিরাই,শাল্লা,বিশ্বম্ভরপুর,জগন্নাথপুর,ধর্মপাশা সহ ১১টি উপজেলায় ৯০ভাগ বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হাওর পাড়ের কৃষক পরিবারের মাঝে এখন কেবলেই হাহাকার বিরাজ করছে।

ফলে হাওরের জনসাধারন অনেকেই কাজের সন্ধ্যানে শহর মুখী হওয়ার ফলে শহরে বাড়ছে জনসংখ্যা। কমছে হাওরাঞ্চলের জনসংখ্যার পরিমান,ভাটা পরেছে বিভিন্ন বিপনী বিতানের বেচা-কেনায়। প্রতিটি বাজার এখন সারাদিন ফাঁকা আর বিভিন্ন দোকানের মালিক-কর্মচারীরা এখন অলস সময় পার করছে। সন্ধ্যায় পর বাজারে কিছু লোকজন আসলেও বেচাকেনা নেই। যা কিনলেই নয় যেমন চাল,ডাল,তৈল,লবন তাও প্রয়োজন ছাড়া কিনছে না। ক্ষতিগ্রস্থ এই সব সুবিধা বঞ্চিত হাওরবাসীরা শত শত বছর ধরে দুঃখ,কষ্ট,অভাব ও অনটনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ করে জীবনের কঠিন মুর্হুত কাল বৈশাখী ঝড়,তুফান,খড়া,শিলা বৃষ্টি,পাহাড়ী ঢলের সাথে। এই সব হাওর পাড়ের জনসাধারনের কাছেই এই সময়টায় বিভিন্ন বিপনী বিতানের মালিকরাগন আশায় থাকে প্রচুর বেচা-কেনার মধ্য দিয়ে অধিক মুনাফা লাভের আশায়। সেই লক্ষ্য নিয়েই লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে আনেছেন নতুন নতুন পোশাক সহ বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী। সেই ব্যবসায়ীরা এখন অলস সময় পাড় করছে দোকানে বসে বসেই। তাদের অবস্থা দেকে মনে হয় চৈত্র মাসের মাটিতে যেমন খড়ায় মাটি ফেটে চৌচির তেমন খড়া দেখা দিয়েছে তাদের ব্যবসায় এখন।

সারাদিনে ১হাজার টাকাও বিক্রি করতে পারে না। কারন হাওরাঞ্চলে এক ফসলী বোরো ধান পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা,কর্মচারী,ঠিকাদার ও পিআইসির প্রতিনিধিরা হাওর রক্ষা বাঁধে অনিয়ম আর দূর্নীতির করায় বাঁধ ভেঙ্গে ৯০ভাগ বোরো ধান সম্পূর্ন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সর্বতই হতাশার মধ্যে দিয়ে বেকার সময় পার করছে হাজার হাজার কৃষক ও শ্রমিক পরিবার। আর এই সব হাওর পাড়ের কৃষক পরিবারের উপরেই নির্ভরশীল ছিল হাওরাঞ্চলের ছোট বড় হাজার হাজার ব্যবসায়ীরা। হাওরপাড়ের কৃষকরা জানান,নিজেদের জীবন বাচাঁতে দৈনিক প্রয়োজনীয় দ্রব সামগ্রী যে গুলো না কিনলেই হয় না তা ছাড়া অন্য কিছু কেনার কোন আগ্রহ নেই। আগেত বাচঁতে হবে তার পর কাপড়,প্রসাধনী।

তাহিরপুর উপজেলার সদর বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম,সাদেক আলী,বাদাঘাট বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী রাশিদ ভূঁইয়া,জয়নাল,ইউসুফ আল মামুন,সোহাগ মিয়া,গ্রামেন্টস ব্যবসায়ী কবির ভূঁইয়া সহ অনেকেই জানান,ভাই এবার আমাদের ব্যবসা লাটে উঠেছে। রমজান মাস শুরু অতছ বেচা কেনার কোন লক্ষ্যন নাই। লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করছি এই ব্যবসায়। এখন সারাদিন অলস সময় পার করছি। কিভাবে নিজে চলব দোকান বাড়া,বিদ্যুৎ বিল আর কর্মচারীদের বেতন দিব ভেবে পাচ্ছি না।

অথচ এই সময় কৃষকরা নতুন ধান বিক্রি করে আনন্দের সাথে নিজের ও পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য নতুন নতুন ডিজাইনের নতুন কাপড় কিনত আর আমরাও সারা দিনেই ব্যস্থ সময় পাড় করতাম বেচা কেনা করে আর এখন সারাদিন অলস সময় পার করছি। বাদাঘাট বাজারের দর্জি কারিগর বাবুল মিয়া,তাহিরপুর বাজারের সুফিয়ান মিয়া সহ বিভিন্ন বাজারের অনেকেই জানান,এই সময় আনরেডী কাপড় কিনে দিত আমাদের কাছে নাপ নিয়ে শেলাই করতাম প্রচুর খাওয়ার সময়ও পাই নি বড় আনন্দ লাগত এখন কিছুই নাই। সারা দিনে সেলাইয়ের কাজ পাই না বললেই চলে। কর্মচারীদের বেতন কি ভাবে দিব আর নিজে চলব ভেবে পাচ্ছি না।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: