সর্বশেষ আপডেট : ২৫ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জুড়ী সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে দলিল ও বালাম বই জালিয়াতির অভিযোগ

2.-daily-sylhet-666-2বিশেষ প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে দলিল ও বালাম বই জালিয়াতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি ২৬ এপ্রিল মৌলভীবাজারের জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ ও সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের দক্ষিণ সাগরনাল গ্রামের বাসিন্দা আমিন আলী ও তাঁর স্ত্রী জেসমিন আক্তার গত বছর একই এলাকার নগেন্দ্র চন্দ্র শীলের কাছ থেকে ২৬ হাজার টাকায় ৫ শতক জমি কেনেন। ওই বছরের ১৬ মার্চ তাঁরা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দলিল লেখক জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে একটি দলিল সম্পাদন এবং পরে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে তা নিবন্ধন করেন। পরে দলিল হাতে পেয়ে আমিন সেটির ৮ নম্বর কলামে গ্রহীতার মালিকানার বিবরণে ভুল তথ্য দেখতে পান।
৮ নম্বর কলামে জালিয়াতির মাধ্যমে তাঁর (আমিন) নামের স্থলে আবদুল কাইয়ূম ও স্ত্রীর নামের স্থলে রহিমা জান্নাত উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি দলিল লেখক জাহাঙ্গীর আলমকে জানালে তিনি তা সংশোধনের কথা বলে ঘষামাজা করে নাম ঠিক করে দেন।
আমিনের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘষামাজা করে নাম সংশোধন করে দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আমিনের সন্দেহ হয়। বালাম বইয়ে নামের তথ্য ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করে দেখতে দলিলের একটি নকল পেতে তিনি সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করেন। এ সময় বালাম বইয়েও গ্রহীতার মালিকানার বিবরণীতে ঘষামাজা দেখা যায়। অভিযোগে বিষয়টি তদন্ত করে দলিল লেখকের সনদ বাতিলসহ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা রেজিস্ট্রার বিষয়টি তদন্তের জন্য বড়লেখা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল করিমকে দায়িত্ব দেন। আবদুল করিম ১৮ মে বিষয়টির সরেজমিনে তদন্ত করে যান। এদিকে ঘটনার পর এ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যালয়ের নকলনবিশ সুমন দে-কে সাময়িকভাবে বরখান্ত করে।
জুড়ীতে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার ইলিয়াছ হোসেন বলেন, ‘বালাম বইয়ে টেম্পারিংয়ের (ঘষামাজা) কথা সুমন (বরখাস্ত হওয়া নকলনবিশ) স্বীকার করেছেন। তাই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আর কেউ জড়িত আছেন কি না, তা তদন্তকারী কর্মকর্তা বলতে পারবেন।’ ইলিয়াছ হোসেন আরও বলেন, ‘দলিল সংশোধনের নিয়ম আছে। এ ব্যাপারে দলিল গ্রহীতা আবেদন করে সরকারি ফি দিলেই তা সংশোধন করে দেওয়া যেত। কিন্তু তা না করে দলিল ও বালাম বইয়ে ঘষামাজা স্পষ্টত জালিয়াতি।’
সুমন দে দাবি করেন, দলিল লেখক জাহাঙ্গীর ও কার্যালয়ের অফিস সহকারী প্রবীর দত্ত তাঁকে চাপ দিয়ে বালাম বইয়ে ঘষামাজা করাতে বাধ্য করেন। তবে এ বিষয়ে প্রবীর দত্ত বলেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।
জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, তিনি দলিলে কোনো ঘষামাজা করেননি। আর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কোনো কর্মচারী বালাম বইয়ে ঘষামাজা করতে পারেন না।
দলিলে ভুল হলো কীভাবে এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ভুল হতেই পারে। সংশোধন করে দিতে পার্টিকে (আমিন আলী) দলিল নিয়ে আসতে বলেছিলাম। পরে তাঁরা আসেননি।’
তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল করিম বলেন, তদন্তকালে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য তিনি নিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন পাঠাবেন। এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
মৌলভীবাজারের জেলা রেজিস্ট্রার মতিউর রহমান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: