সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২৩ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিয়ানীবাজার হাসপাতালে নার্সের সন্ত্রাসী হামলা : শিশু রোগীর পিতা আহত

1022.jpegবিয়ানীবাজার প্রতিনিধি ::
বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপক্সের সেবিকা (নার্স) রাবিয়ার হামলার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এক শিশু রোগীকে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে উল্টো তাঁর পিতার উপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা অভিযোগ উঠেছে নার্সের বিরুদ্ধে।
হামলার শিকার শিশু সাফোয়ানের পিতা বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের উত্তর দুবাগ এলাকার বাসিন্দা শিব্বির আহমদ এবং হামলাকারী নার্স রাবিয়া আক্তার বিয়ানীবাজার পৌরসভার ফতেহপুর এলাকার সবুজ মিয়ার স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে জ্বরে আক্রান্ত্র ১৭ মাস বয়সি একমাত্র সন্তান সাফওয়ান আহমদকে নিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান শিব্বির আহমদ। হাসপাতালে ভর্তি পর তাঁর ছেলেকে দায়িত্বরত স্টাফ নার্স রাবিয়া আক্তার একটি স্যালাইন লাগিয়ে দেন। স্যালাইন দেয়ার কিছুক্ষণ পর সাফওয়ানের হাত থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকলে তিনি নার্স রাবিয়াকে বিষয়টি অবহিত করেন। তখন নার্স রাবিয়া আসবেন বললেও তিনি শিশুটিকে দেখতে যাননি। শিব্বির পর পর দু’বার নার্স রাবিয়ার কাছে গেলে তিনি তাঁর সঙ্গে রূঢ়ভাষায় কথা বলেন। এসময় উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এক পর্যায়ে একে-অন্যের উপর হামলার চেষ্টা চালালে উপস্থিত লোকজন উভয়কে নিবৃত্ত করেন। নার্স রাবিয়া এসময় শিব্বিরকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। পরে সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে তাকে পাশর্^বর্তী আয়শা হক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন শিব্বির।
এদিকে ঘটনার সময় হাসপাতালে দায়িত্ব পালনরত মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুম আহমদকে বিষয়টি না জানিয়ে নার্স রাবিয়া তাঁর স্বামী আহমেদ হাসান সবুজকে জানান। স্ত্রীর ফোন পেয়ে সবুজ হাসপাতালে এসে শিব্বিরকে না পেয়ে হাসপাতালের আরএমও ডা. এসএম শাহরিয়ারের চেম্বারে গিয়ে তাঁর সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করে তাঁর উপর হামলা করতে উদ্যত হয়। এসময় নিকটবর্তী ফার্মেসির লোকজন সবুজকে নিবৃত্ত করেন। এরপর নার্স রাবিয়া দায়িত্বরত পোশাক পরেই তাঁর স্বামী সবুজ ও ১৫-২০ জন যুবক নিয়ে আয়শা হক হাসপাতালে গিয়ে শিব্বিরকে হাসপাতাল থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে বেধড়ক মারধর করেন। শিব্বিরকে বাঁচাতে হাসপাতালের দায়িত্বরতরা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারধর করেন তাঁরা। এসময় শিব্বির ও অন্যান্যদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যান নার্স রাবিয়া ও তাঁর সঙ্গীরা। এঘটনায় আহত শিব্বির ওই হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছেন।
অপরদিকে এই ঘটনার পর উল্টো আহত শিব্বিরকে অভিযুক্ত করে বিয়ানীবাজার থানায় অভিযোগ দিয়েছেন নার্স রাবিয়া আক্তার।
তবে আহত শিব্বিরের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি বলেন, আমি আহত হওয়ায় আমার ভাই অভিযোগ নিয়ে বিয়ানীবাজার থানায় গেলে আমার অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়নি। আহত শিব্বির জানান, সন্তানের জীবন বাঁচাতে এসে এখন নিজের জীবন নিয়েই শঙ্কিত। আমার উপর একজন দায়িত্বশীল নার্স তাঁর বাহিনী নিয়ে এসে যেভাবে হামলা করেছেন, তা কোনো সভ্যলোকের কাজ হতে পারে না।
এ ব্যাপারে নার্স রাবিয়া আক্তার বলেন, ‘সে আমাকে বলেছে পারলে কিছু করার জন্য। তাই আমি ওই হাসপাতালে গিয়েছিলাম। তবে তাকে কে মেরেছে তা আমি জানি না।
এ বিষয়ে জানতে ঘটনার সময় হাসপাতালে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুম আহমদের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি যেহেতু দায়িত্বপালনরত অবস্থায় আছি, কোনো সমস্যা হলে নার্স আমাকে জানাবেন কিন্তু তিনি আমাকে বিষয়টি জানাননি।
একই কথা বলেন হাসপাতালের আরএমও ডা. এস এম শাহরিয়ার। তিনি বলেন, আমি চেম্বারে ছিলাম। হঠাৎ এক লোক এসে আমার উপর চড়াও হলে জানতে পারি সে নার্স রাবিয়ার স্বামী। কিন্তু সে যেভাবে কথা বলেছে, তা কোনো ভদ্রলোকের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে এ ঘটনায় নার্স রাবিয়া তাকেও বিষয়টি অবহিত করে নি বলে তিনি জানান।
এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুয়াজ্জিম আলী খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি তখন বাইরে ছিলাম ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানিও না। নার্স রাবিয়াও আমাকে অবহিত করেনি। রাতে বিয়ানীবাজার থানা থেকে একটি ফোন আসে আমার কাছে নার্স রাবিয়ার একটি অভিযোগ বিষয়ে। আমি তাদের বলেছি, যেহেতু বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবহিত নই, সেহেতু আমি কিছু বলতে পারব না। এই ঘটনায় আয়শা হক হাসপাতাল কিংবা শিব্বিরের পক্ষ থেকেও তাকে কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে আয়শা হক হাসপাতালের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম মানিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমাদের হাসপাতালে ও রোগীর উপর নার্স রাবেয়া ও তাঁর বাহিনীর হামলার বিষয়টি বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. এসএম শাহরিয়ারকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফয়েজ আহমদকেও অবহিত করা হয়েছে। এখন তিনি সিদ্ধান্ত নিবেন কী করবেন না করবেন। তবে আমরাও চাই এরকম ঘটনা যাতে আর না ঘটে।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। ডাক্তারদের সাথে এ নিয়ে আলোচনা করে তারপর ব্যবস্থা নেব। তিনি বলেন, শিব্বির আহমদের কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: