সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এবার আউশ ধানে স্বপ্ন বুনছেন মৌলভীবাজারের কৃষককূল

1. daily sylhet 0-9nজালাল আহমদ, মৌলভীবাজার:: মাঠের পর মাঠ কৃষিজমিতে চলছে আউশ ধানের আবাদ। বীজতলা থেকে চারা তোলা, জমি তৈরি ও চারাগাছ রোপণসহ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় নানা কাজ চলছে সমানতালে। জেলার ৭ উপজেলার ক্ষেতের মাঠে এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে। এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার বিভিন্ন উপজেলার চাষীরা। আউশ ধান রোপণ আর পরিচর্যায় তাদের এই ব্যস্ততা।
এ বছর আকষ্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়েছেন জেলার কৃষককূল। হঠাৎ চৈত্রের আগাম বন্যায় একটি বোরো ধানও ঘরে তুলতে পারেননি তারা। বোরো ফসল ঘরে তুলতে না পারায় নি:স্ব হাওর ও নদীপাড়ের কৃষকরা। তাই এমন ক্ষতি পোষাতে দ্বিগুণ ফসল উৎপাদনের স্বপ্ন বুননের প্রত্যাশায় এবার অনাবাদি জমিও আউশ ধান চাষাবাদের আওতায় এনেছেন জেলার চাষীরা। তাই সকাল-সন্ধ্যা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কৃষি জমিতেই সময় পার করছেন তারা।

গেলো ক’দিনের টানা বৃষ্টিতে উঁচু কৃষিজমিতেও পানি জমেছে। এতে আউশ ধান চাষের জন্য সময় সাশ্রয় ও সেচ সহায়ক হয়েছে চাষীদের। এমন অনেক উঁচুজমি শুধু শীত মৌসুমে সবজি চাষের জন্য আবাদ হলেও ধান চাষ হতো না। এ বছর আউশ ধানের পর ওই ধরণের জমিতে চাষ হবে শীতকালীন সবজি ফসলের চাষ। জেলার চাষীরা জানান, এ বছর হাওরাঞ্চলের বোরো ধান চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জেলার ধান উৎপাদনের সমতা রাখতে তারা অনাবাদি জমিও ধানচাষের আওতায় এনেছেন। তাদের প্রচেষ্টা সফল হলে নতুন করে আউশ ধানের উৎপাদন নিয়ে আগ্রহী হবেন স্থানীয় কৃষকরা। আর প্রতিবছরেই আউশ ধান চাষের আওতায় আসবে অনাবাদি কৃষিজমি। বাড়বে আউশ ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও। উৎসাহ পাবে জেলার কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ অফিস সূত্র জানায়, এ বছর বোরো ধান অকাল বন্যায় পানিতে তলিয়ে যাবার পর আউশ ধান চাষাবাদের ওপর গুরুত্ব দেয় স্থানীয় কৃষি বিভাগ। তারা কৃষকদের মনোবল ধরে রাখতে ও জেলায় ধান উৎপাদনের সমতা রাখতে তারা উদ্যোগী হন। সেই লক্ষ্যে জেলার অনাবাদি পতিত জমিগুলো আবাদের আওতায় আনতে তারা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেন। তাদের এমন উদ্যোগ সাদরে গ্রহণও করেন চাষীরা।

চাষীরা জানান, এবার আগাম বৃষ্টি হওয়ার কারণে আউশ ধান চাষে সহায়ক হয়েছে। তাই অনেকেই আগাম আউশ ধানের চাষাবাদ করতে পেরেছেন। তাদের প্রত্যাশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আউশের বাম্পার ফলন হবে। তবে জেলার নদী ও হাওর এলাকায় কৃষকদের আউশের বীজতলা চারা গজানোর পর বানের পানিতে নিমজ্জিত থেকে নষ্ট হয়েছে। কৃষকদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, তারা এ পর্যন্ত অধিকাংশ জমিতে আউশ ধান রোপণ করেছেন। চাষের জন্য তৈরি হওয়া জমিতে দ্রুত চলছে রোপণের কাজ। আবার অনেক কৃষক এক সপ্তাহ আগেই রোপণের কাজ শেষ করেছেন। তবে সকল চাষীই ভালো ফলনের আশায় ফসলের যতœ নিতে ক্ষেতের জমিতে সময় দিচ্ছেন। লাগানো চারা ধানগুলোর নানাভাবে পরিচর্যা করছেন। কৃষকদের দাবি, সার ও কীটনাশকসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ দেয়া হোক। কৃষকরা জানান, স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে শুধু চাষাবাদের পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনো সহযোগিতা পাই না। আর সবসময় অফিসে গিয়ে তাদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করাও সম্ভব হয় না। তারা জানান, এ বছর আমরা আগাম বন্যার কারণে নদী ও হাওরের বির্পযয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তাই আমাদের সরকারি সহযোগিতার খুবই প্রয়োজন। সূত্র জানায়, চাষের সময় ও আবওয়ার ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের ধান উৎপাদন ৩টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এই প্রধান তিনটি ভাগ হচ্ছে-আউশ, আমন ও বোরো। তারই মধ্যে দ্রুত (আশু) ফসল উৎপন্ন হওয়ার বিচারে এই ধানের নাম করা হয়েছে আউশ। এখন চলছে আউশ ধান রোপণের ভর মৌসুম। তাই কৃষকদের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও ব্যস্ত। এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ভালো ফলন উৎপাদনের মাধ্যমে তাদের ক্ষতি পোষাতে সার্বিক পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে এ জেলায় আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের চাইতে ২ হাজার হেক্টর বাড়ানো হয়েছে। এবার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় আউশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৩০ হেক্টর। জুড়ীতে ২ হাজার ৪২২ হেক্টর, বড়লেখায় ২ হাজার ৪৭৩ হেক্টর, মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ৪ হাজার ১৯০ হেক্টর, রাজনগরে ৪ হাজার ৮০৬ হেক্টর, কমলগঞ্জে ১১ হাজার ৮০ হেক্টর ও শ্রীমঙ্গলে ১০ হাজার ৩৮৯ হেক্টর। মোট ৪৩ হাজার ৯০ হেক্টর ও ৭ উপজেলা মিলে বাড়তি আরও ২ হাজার হেক্টর জমি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা কৃষি বিভাগ।
চাষীরা জানান, তারা ভালো ফলনের আশায় উচ্চ ফলনশীল আউশের জাত, বিআর-২৩, ১২, ১৪,২৭, ৪২, ৪৩, ৪৮, বাউ-৬৩সহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান আবাদ করছেন। এ সকল উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানগুলো রোপণের ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে তাদের স্বপ্নের সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে আউশ ধান আবাদ কার্যক্রম লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এ অঞ্চলের কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এ বছর ৪৫ হাজার হেক্টরের অধিক জমিতে আউশ ধান চাষাবাদ করছেন এই জেলার কৃষকরা। আউশ মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো উৎপাদনের প্রত্যাশা কৃষকদের ন্যায় জেলা কৃষি বিভাগেরও।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: