সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নিজের রেকর্ড ভাঙছেন মুহিত!

1. daily sylhet 0-9nডেস্ক রিপোর্ট:: দেশের ইতিহাসে টানা আট বার বাজেট পেশ করে গতবছর রেকর্ড করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। নিজেই সেই রেকর্ডকে টপকে এবছর নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন তিনি। এর আগে টানা ৬ বার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বাজেট পেশের রেকর্ড গড়েছিলেন আওয়ামী লীগের সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ.এম.এস. কিবরিয়া। ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছর থেকে ২০০১-০২ অর্থবছর পর্যন্ত টানা ৬টি বাজেট পেশ করেছিলেন তিনি।

জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১টা ৩০ মিনিটে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতবারের মতো এবারো ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাজেট উপস্থাপন করা হবে। জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট পেশের দিন বাজেট বক্তৃতা, বাজেটের সংক্ষিপ্তসার, বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি, সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি, মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিসহ বাজেট-সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট জাতীয় সংসদ থেকে সরবরাহ করা হবে এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

অন্যান্য ডকুমেন্টের মধ্যে ‘বিকশিত শিশু: সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রা:হালচিত্র ২০১৭’, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলা, জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন, সংযুক্ত তহবিল প্রাপ্তি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭, মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবিগুলো (অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন), বিস্তারিত বাজেট (উন্নয়ন), মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট সংক্ষিপ্তসার ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ জাতীয় সংসদ থেকে সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রণীত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যাবলি ২০১৬-১৭ জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতই প্রথম অর্থমন্ত্রী; যিনি টানা ৯ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত ৮টি বাজেট পেশ করেছেন তিনি। এর আগে ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছিলেন মুহিত। তবে সবচেয়ে বেশি বাজেট দেওয়ার দিক থেকে এখনও এগিয়ে রয়েছেন প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান। মোট ১২টি বাজেট উপস্থাপন করেছেন তিনি।

এছাড়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া টানা ছয়বার, তাজউদ্দীন আহমদ তিনবার, ডক্টর এআর মল্লিক একবার, জিয়াউর রহমান তিনবার, ড. মীর্জা নুরুল হুদা একবার, এম সাইদুজ্জামান চারবার, এমএ মুনিম একবার, ড. ওয়াহিদুল হক একবার, ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ একবার ও ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম দুবার বাজেট পেশ করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৩৪ সালে সিলেটের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি একজন অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিক, ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা। পাকিস্তান আন্দোলনের অন্যতম বিশিষ্ট নেতা ছিলেন মুহিত। তৎকালীন সিলেট জেলা মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট আবু আহমদ আব্দুল হাফিজের তৃতীয় সন্তান তিনি। তার মা সৈয়দ শাহার বানু চৌধুরী বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডসহ রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

লেখক হিসেবেও সমান পারদর্শী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মুক্তিযুদ্ধ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ইতিহাস, জনপ্রশাসন এবং রাজনৈতিক সমস্যা বিষয়ক গ্রন্থসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার ২৩টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের একজন পথিকৃৎ এই রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন এবং এর পূর্বসুরি ‘পরশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি।

পড়ালেখা শেষ করে পাকিস্তান আমলে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিলো তার। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তানে ওয়াশিংটন দূতাবাসে ফার্স্ট সেক্রেটারি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মাতৃভূমির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে করে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। তখন প্রবাসী বাংলাদেশি সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।

২০০১ সালে সিলেট সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে বিএনপির এম সাইফুর রহমানের কাছে হেরে যান তিনি। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে সাইফুর রহমানকে বিপুল ভোটে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুহিত। এর পর থেকেই বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। এর আগে ১৯৮২ সালের মার্চ থেকে ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী ১৯৮১ সালে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে দেশে বিদেশে গবেষণা, সামাজিক সংগঠন ও পরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটানা কাজ করে যাচ্ছেন। ৮৪ বছরের বর্ণাঢ্য জীবনে বিশ্রাম পেয়েছেন খুব সামান্যই। স্ত্রী ছেলে মেয়েসহ পরিবারের সবাই এবার তাকে বিশ্রাম দিতে চান। চিকিৎসকরাও বলেছেন, এই বয়সে এতো ঝক্কি ঝামেলা শরীর সহ্য করে না।

নবম সংসদে আওয়ামী লীগের অর্থমন্ত্রী থাকার সময় আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, তিনি জাতীয় সংসদের নির্বাচন করলেও মন্ত্রী হবেন না। কিন্তু ১০ম সংসদের সিলেট-১ আসন থেকে বিজয়ী হলে শেখ হাসিনা তাকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) চাইলে কি না বলা যায়?’।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা করবেন না বলে সম্প্রতি ঘোষণা দিলেও গত মঙ্গলবার গণমাধ্যমের কাছে বলেন, ‘যদি খালেদা জিয়া এই আসনে নির্বাচন করেন তবে তিনিও প্রার্থী হবেন।’ তবে খালেদা না আসলে রাজনীতি থেকে তিনি অবসর নেবেন বলেও জানিয়েছেন।

আবুল মাল আবদুল মুহিতের স্ত্রী সৈয়দ সাবিয়া মুহিত একজন ডিজাইনার। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে প্রথম কন্যা বেগম সামিনা মুহিত একজন ব্যাংকার এবং মুদ্রানীতি ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিউইয়র্কে, বড় ছেলে সাহেদ মুহিত স্থপতি ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ হিসেবে ঢাকায় কর্মরত রয়েছে। ছোট ছেলে সামির মুহিত টেক্সাসের হিউস্টনে শিক্ষকতা করছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: