সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৯ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সর্বোচ্চ ব্যয়ের বাজেট উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য

1496291098নিউজ ডেস্ক:: এগারো বারের মতো আজ বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে ২০০৯-১০ অর্থ বছরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৫ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে শুরু করেন মুহিত। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট দিতে যাচ্ছেন তিনি। বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে আগামী বাজেটে বেশি ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য বিশাল এই বাজেটে ঘাটতি ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। যা টাকার অংকে ১ লাখ ১২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা।

রাজস্ব আহরণ, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ব্যয়সহ বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহারের উচ্চাভিলাসী লক্ষ্য থাকছে। এ বছর ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হতে পারে বলে সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে। আসছে বাজেটে এটি বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। বাজেটে রাজস্ব আদায়েরও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য থাকছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আয়-ব্যয়ের ব্যবধান ঘোচাতে বাজেটে অভ্যন্তরীণ উত্স থেকে ৭৪ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৮ হাজার ৯৬ কোটি টাকা আসবে ব্যাংকিং খাত থেকে। এর বাইরে বিদেশি উত্স থেকে ঋণ নেয়া হবে ৫৪ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। ইআরডির এক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর থেকেই প্রতিবার বিদেশি সহায়তা ছাড় হচ্ছে প্রতিশ্রুতির প্রায় অর্ধেক। প্রচলিত এ ধারার বিপরীতে আগামী অর্থ বছর প্রতিশ্রুতির চাইতে বেশি অর্থ ছাড় করাতে চাইছে ইআরডি।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার ফাস্ট ট্র্যাকের ১১ মেগা প্রকল্প সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বাজেটে। এর মধ্যে চলমান আট প্রকল্পে ৩৩ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এ সব প্রকল্পে চলতি অর্থ বছরের বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে ২৪ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। বাজেটে দেশে এ যাবত্কালের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। এক লাখ ১৩ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকায় চলমান এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হবে ১১ হাজার ২৪৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পে ৬ হাজার ৫৩২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। আগামী বছরের এপ্রিল মাসে রাশিয়া থেকে পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের উপকরণ আসা শুরু হবে।

অন্যদিকে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরে চলমান পদ্মা সেতু প্রকল্পে মার্চ পর্যন্ত ১১ হাজার ৩৭৭ কোটি টাক ব্যয় হয়েছে। আগামী অর্থ বছর এতে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থ বছরের মূল বাজেটে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ২৬ কোটি টাকা। ফাস্ট ট্রাকের মধ্যে দৃশ্যমান সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে এ প্রকল্পে। অন্যদিকে ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ের পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৫ হাজার ৬৩ কোটি টাকা।

চলতি অর্থ বছর এ কাজে ৪ হাজার ১০২ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। মার্চ মাস পর্যন্ত এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে মাত্র চার কোটি টাকা। ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা চলমান মেট্রো রেল প্রকল্পে মোট খরচ হয়েছে ৭৬০ কোটি টাকা। নতুন অর্থ বছরে এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে তিন হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। চলতি অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিল দুই হাজার ২২৭ কোটি টাকা। এছাড়া আসছে অর্থ বছরে মাতারবাড়ী কয়লাভত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে এক হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। রামপাল বিদ্যুত্ প্রকল্প বাস্তবায়নে ১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরে থাকছে ৬শ কোটি টাকা। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০১ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে ৩ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হবে।

ভ্যাট ইস্যুতে সংশয়: এবারের বাজেটে নানা কারণে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে নতুন ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন ইস্যু। আইনটি জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে। এ নিয়ে বাজেটের আগেই জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে পণ্যমূল্য বাড়তে পারে বলে ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীদের তরফে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী নিজেও নতুন আইনটির বাস্তবায়নকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। নতুন আইনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যবসায়ী ও সরকার বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছে। তবে দুই শতাধিক পণ্য ও সেবাকে নতুন করে ভ্যাট অব্যাহতির আওতায় আনা হচ্ছে।

নির্দিষ্ট পরিমাণে জমি কিংবা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ভ্যাট অব্যাহতির তালিকায় আসছে। বর্তমানে জমি কেনাবেচায় আড়াই শতাংশ হিসেবে ভ্যাট প্রযোজ্য। নতুন ব্যবস্থায় এ খাতে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। বিমান ভাড়ার উপর বিদ্যমান আবগারি শুল্ক (এক ধরনের বিক্রয় কর) দ্বিগুণ হতে যাচ্ছে। ব্যাংকে আমানতের উপর বার্ষিক এককালীন আবগারি শুল্ক দ্বিগুণ হচ্ছে। তবে ২০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত স্থিতির উপর বিদ্যমান হারই প্রযোজ্য থাকছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: