সর্বশেষ আপডেট : ২৪ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২১ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘মোরা’ কেড়ে নিল ৭ জনের প্রাণ

1496147763নিউজ ডেস্ক:: কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হেনে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ চট্টগ্রাম উপকূল দিয়ে বাংলাদেশের সীমা অতিক্রম করেছে। ঘূর্ণিঝড়টি বৃষ্টি ঝরিয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ভারতে গিয়ে নি:শেষ হয়। মোরার আঘাতে অন্তত সাতজন মারা গেছেন। সেন্টমার্টিন, কক্সবাজারসহ উপকূলীয় এলাকাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি নদ-নদীতে স্বাভাবিকের বেশি উচ্চতার জোয়ার হয়। জোয়ারে ভাঙা বাঁধ দিয়ে কিংবা বাঁধ উপচে পড়ে পানিতে প্লাবিত হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার কয়েকশ’ গ্রাম ও জনপদ। ভেঙে পড়েছে অনেক গাছপালা। ট্রান্সফরমার ও সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বহু এলাকা বিদ্যুিবহীন হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শ্রীলঙ্কা থেকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় মোরা গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টায় কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে আঘাত করে সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার থেকে ১১৭ কিলোমিটার।

এদিকে বৃষ্টি ঝরিয়ে মোরা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে যাওয়ায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে ১০ নম্বর মহা বিপদসংকেতের পরিবর্তে গতকাল ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় ও দক্ষিণের জেলাগুলোর বিভিন্ন এলাকা ৪-৫ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র প্রভাবে কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও ভোলায় মোট সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত প্রাপ্ত খবরে দেখা যায় যে, বক্সবাজার সদর ও চকরিয়া উপজেলায় তিনজন, রাঙ্গামাটি জেলা শহরে দুইজন, বান্দরবানের লামা উপজেলায় একজন এবং ভোলার মনপুরা উপজেলায় এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এসব স্থানে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির খবরও রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত সমস্ত খবরই পাঠিয়েছেন ‘ইত্তেফাকে’র নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাগণ।

কক্সবাজার ও রামু: গাছচাপা পড়ে ও আতঙ্কে ৩ জনের মৃত্যু হওয়ার পাশাপাশি উপকূলে শত শত বাড়িঘর বিধ্বস্ত ও গাছপালা উপড়ে গেছে। জেলার বিভিন্নস্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে এবং গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। জলোচ্ছ্বাসের ফলে প্লাবিত হয়েছে বহু এলাকা। ঘূর্ণিঝড় কবলিত এলাকাগুলোতে বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কক্সবাজার শহর ও উপকূলীয় এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর লোকজন সকাল থেকে যার যার মত করে বাড়ি ফিরে গেছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, ভোর ৬টার দিকে কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানে ‘মোরা’। ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাস নিয়ে মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম শুরু করে। তবে প্রচুর বৃষ্টিপাতে ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে রূপ নেয়। এখানে বেশকিছু গাছপালা উপড়ে গেছে। কক্সবাজারের টেকনাফ সেন্টমার্টিনসহ আশপাশের এলাকায় প্রবল বেগে ঝড়-বৃষ্টি হয়। পরে এলাকাগুলোতে দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়। কক্সবাজার বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ঝড় থেকে বাঁচতে আশ্রয়কেন্দ্রে আসার কিছুক্ষণ পরই হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মরিয়ম বেগম নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চকরিয়া উপজেলায় ঝড়ে গাছচাপায় অপর দুইজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন: পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের ৬নং জেটিঘাট এলাকার বদিউল আলমের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৫৫), চকরিয়ার বড়ভেওয়া এলাকার মৃত নূর আলম সিকদারের স্ত্রী সায়েরা খাতুন (৬৫) ও একই উপজেলার পূর্ব জুমখালী এলাকার আবদুল জব্বারের ছেলে রহমত উল্লাহ (৫০)।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূর আহম্মদ বলেন, এ ইউনিয়নে দেড় শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছপালা উপড়ে গেছে। আশপাশে যতদূর দেখেছি তাতে কমপক্ষে ৭০ ভাগ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। অনেক গাছপালা ভেঙে গেছে। আমার নিজের সেমিপাকা বাড়িটিরও আংশিক ভেঙে গেছে। এর আগে ভোর ৬টার দিকে ঘূর্ণিঝড় সেন্টমার্টিনে আঘাত হানে জানিয়ে তিনি সকাল ৮টায় বলেন, ঝড়ের আগেই সবাই আশ্রয়কেন্দ্রসহ উঁচু ভবনগুলোয় আশ্রয় নেয়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত তিনি কোনো হতাহতের খবর পাননি বলেও জানান।

টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন এলাকায়ও বেশকিছু বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে, উপড়ে গেছে কিছু গাছপালা। এ ছাড়া কিছু লোক আহত হয়েছে বলে শুনেছেন সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন। তবে তিনি আহতদের সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় এলাকার লক্ষাধিক মানুষকে রাতেই সাইক্লোন শেল্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। আশ্রিতদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। শতাধিক বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হলেও প্রভাব পুরোপুরি কেটে না যাওয়া পর্যন্ত ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে না।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহাবুবউল করিম জানান, ২ শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। উপজেলায় ৭২টি আশ্রয়কেন্দ্রে লক্ষাধিক মানুষ রয়েছে। তাদের শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। ৮টি মেডিক্যাল টিম মাঠে কাজ করছে।

রাঙ্গামাটি: বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাঙ্গামাটি জেলা। গতকাল তিন ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডবে বসতঘরে গাছ চাপা পড়ে রাঙ্গামাটি শহরে এক স্কুলছাত্রী ও অপর এক নারী নিহত হয়েছে। নিহত স্কুলছাত্রীর নাম জাহিদা সুলতানা মাহিমা ও অপর নারী হাজেরা বেগম। সকালে ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে শহরের ভেদভেদী ও আসামবস্তি এলাকায় বসতঘরের উপর গাছের ডাল ভেঙে পড়লে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে দু্জনই মারা যায়। ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়ে রাঙ্গামাটি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় গভীর নিম্নচাপ হয়ে অবস্থান করছে।

সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। তিন ঘণ্টাব্যাপী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে রাঙ্গামাটি শহরের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বসতঘর ও রাস্তার উপর ভেঙে পড়েছে গাছপালা। বৈদ্যুতিক লাইন, কেবল্ টিভির লাইন ও টেলিফোন লাইন ও মোবাইল টাওয়ারের বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাঙ্গামাটি শহর বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

শহরের আসামবস্তি এলাকায় ভেঙে পড়া গাছের আঘাতে গুরুতর আহত হন গৃহবধূ হাজেরা বেগম (৪৫)। তাকে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে মারা যায়। শহরের ভেদভেদীস্থ মুসলিম পাড়া এলাকায় গোড়া থেকে মাটি সরে গিয়ে উপচে পড়া গাছের নীচে চাপা পড়ে ৯ম শ্রেণির স্কুলছাত্রী জাহিদা সুলতানা (মাহিমা) (১৪) মারা যায়। জেলা শহরের কলেজ গেট, কল্যাণপুর, তবলছড়ি, আসামবস্তি, রিজার্ভ বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচলের রাস্তা ও বসতঘরের উপর গাছ ভেঙে পড়েছে বলে তারা জেনেছেন। রাঙ্গামাটি জেলার ১০টি উপজেলায় ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

লামা (বান্দরবান): উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের বৈদ্যভিটায় গাছ চাপায় কেচিংথোয়াই (৪৫) নামে একজন নিহত হয়েছে। সকালে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে গাছ চাপায় গুরুতর আহত হলে তাকে লামা হাসপাতালে আনা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বিকালে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়।

মনপুরা (ভোলা): মনপুরা উপজেলার ১নং মনপুরা ইউনিয়নের মূল ভুখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন কলাতলীচরের পুরাতন আবাসন বাজার থেকে মনির বাজার সংলগ্ন মনপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে মায়ের কোলে থাকা অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আবাসন বাজার থেকে ছালাউদ্দিনের স্ত্রী জরিফা খাতুন ছেলেকে কোলে নিয়ে সোমবার রাত ১টার সময় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য রওনা দেয়। মনির বাজার সংলগ্ন মনপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে বৃষ্টি ও ঠান্ডা বাতাসে শিশুটির ঠান্ডা লেগে যায়। ঠান্ডায় শিশুটি আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে মারা যায়।

বান্দরবান: বান্দরবানে ঘূর্ণিঝড় মোরা’র আঘাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ শত শত ঘরবাড়ি, গাছপালা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে পুরো জেলায়। আলীকদম উপজেলায় সড়কে গাছপালা ভেঙে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান, জেলা সদর, নাইক্ষ্যংছড়ি, আলীকদম, লামা, রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো বাতাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ শত শত ঘরবাড়ি, গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে বহু বিদ্যুতের খুঁটি। বান্দরবানে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। লামা উপজেলায় পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটেছে। তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

পৌর কাউন্সিলর লুভু প্রু মারমা বলেন, উজানীপাড়া, মধ্যমপাড়ায় গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পৌর শপিং কমপ্লেক্সসহ বাজারের অনেক দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও শহরের বনরূপা পাড়া, বালাঘাটাসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, আলীকদমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শত শত ঘরবাড়ি ও গাছপালা ভেঙে পড়েছে। রাস্তার ওপর গাছপালা এবং বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টির মধ্যে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর কাজ চলছে। বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে সকাল থেকেই।

ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোরা’র আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ইউনিয়ন। ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের চালসহ বাজারের দোকানপাটের টিন উড়ে গেছে। বিদ্যুতের খুঁটি এবং গাছপালা ভেঙে পড়েছে।

বাইশারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাইশারী বাজারের বহু দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাবার বাগানের গাছপালা ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

লামা উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী বলেন, লামা উপজেলায় গাছপালা ভেঙে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রূপসীপাড়া ইউনিয়নে গাছ ভেঙে পড়ে ক্যাচিং থোয়াই (৪০) নামে একজন আহত হয়েছে।

ভোলা: উপকূলীয় দ্বীপজেলা ভোলা সকাল ৮টার পর বাতাসের গতি বেড়ে যায়। সাথে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি, কোথাও মাঝারি বৃষ্টি। ভোলা সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে গিয়ে দেখা যায়, বেশকিছু ছোট ছোট জেলেনৌকা মাছ ধরতে নেমেছে। ভোলার জেলা প্রশাসক সেলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, পাশাপাশি ৪৮৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মোংলা (বাগেরহাট): ঘূর্ণিঝড় মোরার কোনো প্রভাব পড়েনি মোংলা বন্দরে। মঙ্গলবার সকালে ঝড়টি উপকূলে আঘাত হানলেও ভোর ৫টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত মোংলাসহ আশপাশে উপকূলীয় এলাকার আকাশ ছিল মেঘমুক্ত রৌদ্রোজ্জ্বল। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আকাশ কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন হয়ে সামান্য গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হলেও এ সময় কোনো ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়নি। সোমবার দিন-রাত মাইকিং করে জনসাধারণকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বলা হলেও কোনো লোকজনই বাড়িঘর ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ে যায়নি। মঙ্গলবার সকালে চাঁদপাই ও চিলা ইউনিয়নের দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে রাতে একজন মানুষও আসেনি। চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের মোঃ ফাইজুল বলেন, সারা রাত চিংড়ি ঘেরেই ছিলাম। আর পরিবারের অন্যরাও বাড়িতে ছিল। জলোচ্ছ্বাস হলে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতাম। চিলার মিনা হালদার বলেন, বাড়িতে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি রেখে আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে এ সব তো চোর নিয়ে যেত। তাই রাতে গবাদী পশু পাহারা দিতে হয়েছে, যাতে চুরি কিংবা কোনো ক্ষতি না হয়। পরিমল মণ্ডল বলেন, আশ্রয় কেন্দ্রত বাড়ির কাছেই, ঝড়-বৃষ্টি বেশি হলে তারপর যেতাম।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে নৌযান চলাচল মঙ্গলবারও বন্ধ ছিল। ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে এখানে সকালে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিও হয়েছে।

শিমুলিয়ায় তখন ৩ নম্বর সংকেত তবে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করছে। এতে দুপারে ৪শ’ যান পারপারের অপেক্ষায় রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিন মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টায় জানান, ১ নম্বর সংকেত থাকা অবস্থায়ই সোমবার বিকালে সব নৌযান বন্ধ করে দেয়া হয়। পাশের চাঁদপুরের ৮ নম্বর উপকূলীয় সংকেত চলছে। নদী উত্তাল। সীমিত আকারে কয়েকটি ফেরি চলছে মাত্র।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: