সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সরাসরি প্রশ্নোত্তরে থেরেসাকে ছাড়িয়ে করবিন

f9d9c0ce6e553333bda990a561655ff3-592d587c9f276আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: টেলিভিশনে জেরেমি করবিনের সঙ্গে মুখোমুখি বিতর্কের বদলে আলাদাভাবে প্রশ্নোত্তর পর্বে হাজির হলে হয়তো কিছুটা সুবিধা মিলবে বলে ভেবেছিলেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। কিন্তু সেটি হলো না। কনজারভেটিভ সরকারের ব্যর্থতা এবং বারবার মত বদলানোর বিব্রতকর প্রশ্নগুলোই তাড়া করল তাঁকে। বিপরীতে লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন নিজের যুদ্ধবিরোধী অবস্থান ও কট্টর বামপন্থী নীতির প্রশ্নে কঠিন সময় পার করলেন ঠিকই; কিন্তু এগিয়ে রইলেন সমাজকে বদলে দেওয়ার বিকল্প প্রস্তাবে।

সোমবার রাতে স্কাই নিউজ ও চ্যানেল ফোরের যৌথ আয়োজনে দুই নেতা আলাদাভাবে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। দেড় ঘণ্টার ওই অনুষ্ঠানে দুই নেতার জন্য ছিল প্রথমে দর্শকদের প্রশ্নপর্ব। তারপর ধারালো প্রশ্নের জন্য সুখ্যাত সাংবাদিক জেরেমি প্যাক্সম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকার। টসে জিতে করবিন আগে হাজির হলেন মঞ্চে।
রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিদের কাছে বিষয়গুলো জানাই ছিল। নেতারাও নির্বাচনী প্রচারে বিভিন্ন সময় এসবের জবাব দিয়েছেন। কিন্তু বাকি ছিল সামনে ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি প্রশ্নগুলোর জবাব আদায়। সেটিই হলো ওই অনুষ্ঠানে।

দর্শকদের প্রশ্নের জবাবে করবিন বলেন, তিনি ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ) কার্যকর করবেন। তবে অভিবাসন কমানোর কোনো লক্ষ্য ঠিক করতে তিনি রাজি নন। কারণ, কনজারভেটিভ পার্টি লক্ষ্য ঠিক করে গত সাত বছরেও তার ধারেকাছে যেতে পারেনি। যুদ্ধনীতি বাদ দেওয়ার প্রশ্নে করবিন বলেন, লিবিয়ায় হামলা দেশটিকে সরকারহীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এ পরিস্থিতি সন্ত্রাস বাড়ায় এবং কারও জন্য নিরাপদ নয়।

জেরেমি প্যাক্সম্যান করবিনকে প্রশ্ন করেন, পরমাণু সংরক্ষণ না করা ও ব্যাংক-ব্যবস্থার সরকারীকরণের মত করবিনের ব্যক্তিগত নীতিগুলো ইশতেহারে নেই কেন? জবাবে করবিন বলেন, তিনি একনায়ক নন; নিজের মত তিনি চাপিয়ে দিতে পারেন না। বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নির্বাচনে লড়ছেন। হামাস, আইআরএর মতো বিতর্কিত গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে করবিন বলেন, সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানে বিশ্বাসী তিনি।

অন্যদিকে সাত বছর ধরে নানা কল্যাণ সেবা বাতিল, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাজেট কর্তন এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার প্রশ্নে দর্শকদের জবাব দিতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছেন থেরেসা মে।
সাংবাদিক জেরেমি প্যাক্সম্যানের ধারালো প্রশ্নের মুখে থেরেসা। ছবি: রয়টার্স
এরপর সাক্ষাৎকার পর্বে বারবার মত পাল্টানোর অতীত নিয়ে কঠোর প্রশ্নের সম্মুখীন হন থেরেসা। থেরেসা আগে ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ছিলেন, এখন ব্রেক্সিটের কড়া সমর্থক। বলেছিলেন, ২০২০ সালের আগে নির্বাচন হবে না, কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচন দিলেন, গত বাজেটে দলীয় অবস্থানের বিপরীতে ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স বাড়ালেন, আবার চাপের মুখে তা থেকে সরে এলেন। একই কাজ করলেন আসন্ন নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত প্রবীণদের কল্যাণ ভাতা নিয়েও। এসব বিষয়ে একে একে জেরা করে উপস্থাপক প্যাক্সম্যান বললেন, ‘আমি যদি ব্রাসেলসের নেতা হয়ে আপনার সঙ্গে ব্রেক্সিট সমঝোতায় বসতাম, তাহলে আপনার দিকে তাকিয়ে ভাবতাম—এটা এমন এক বিভাজনকারী, যিনি প্রথম গুলির আলামত দেখেই লুটিয়ে পড়েন।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: