সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কমলগঞ্জে লাঘাটা খালের বিপন্ন দশা !

unnamed (6)মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান,কমলগঞ্জ:: খাল ভরাট, ঝোপজঙ্গলে ভরপুর, ক্রসবাঁধ, স্লুইসগেট, বাঁশের খাঁটি এসব নানা কারণে কমেছে খালের প্রশস্ততা। খনন না করায়, ঝোপ জঙ্গলে ভরে আর নানা কারণে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে লাঘাটা খাল আজ বিপন্ন প্রায়। এ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের ভারতীয় ত্রিপুরার পাহাড়ি এলাকা থেকে লাঘাটা খালের উৎস। আঁকাবাঁকা পথে খালটি রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে মনু নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। কমলগঞ্জ ও রাজনগর দুই উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও দু’টি হাওরের মধ্য দিয়ে এই খালটি প্রবাহিত। লাঘাটাকে কেন্দ্র করে বিস্তীর্ণ এলাকায় চাষাবাদ গড়ে উঠে। হাওরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত খালে মাছের প্রবাহ মৎস্যজীবিদের জন্য ছিল জীবিকা নির্বাহের অবলম্বন। অবিলম্বে খনন করার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর, আদমপুর, আলীনগর, শমশেরনগর, পতনউষার ইউনিয়ন ও রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে লাঘাটা খাল প্রবাহিত হয়ে মনু নদীর সাথে যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খালের বাঁধ ভেঙ্গে পড়া, উন্মুক্ত বাঁধ, বালিমাটি উত্তোলন, ভরাট ও গভীরতা কমে গেছে। নিম্নাঞ্চলের পতনঊষার ও কামারচাক ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে দু’পাশে তমাল, হিজল, জারুলসহ নানা জাতের গাছ গাছালি আর ঝোপজঙ্গলে ভরপুর হয়ে উঠছে। স্থানে স্থানে সুযোগ সন্ধানীরা মাছ শিকারে বাঁশের বেড়া স্থাপন করেছে। কোন কোন স্থানে পরিণত হয়েছে ছোট্র নালায়। বাঁধ মেরামত, খনন ও সংস্কার না হওয়ায় খালের প্রশস্ততা আর গভীরতা হ্রাস পেয়েছে।unnamed (3)

বর্ষা মৌসুমে সঠিকভাবে নিষ্কাষিত হতে পারে না পানি। ফলে নিম্নাঞ্চলে সপ্তাহব্যাপী দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। পতনঊষারের কেওলার হাওর ও কামারচাক ইউনিয়নের করাইয়ার হাওরের মাঝদিয়ে লাঘাটা খাল প্রবাহিত হওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও মাছের বিচরন ভূমিতে কৃষক ও মৎস্যজীবিদের মিলন মেলায় পরিণত হতো। লাঘাটা খালটি প্রায় মরে যাওয়ায় এখন পূর্বের মতো কৃষক ও মৎস্যজীবিদের বিচরণ দেখা যায় না। পাহাড়ি ঢলে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরী হয়েছে। কারেন্ট জাল আর অসাধূ শিকারীদের হাতে মাছের সাথে বিভিন্ন জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, খালের উৎস থেকে মনু নদ পর্যন্ত আঁকাবাঁকা প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ লাঘাটা খাল। ইসলামপুর থেকে কামারচাক পর্যন্ত খালের দু’পাশে রয়েছে কৃষিজমি। সতিঝিরগ্রাম ও কাটাগাং এলাকায় খালের উপর দু’টি স্লুইসগেট। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে বোরো চাষাবাদের জন্য স্থানে স্থানে দেয়া হয় ক্রস বাঁধ। খালকে কেন্দ্র করে কেওলার হাওর ও করাইয়া হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো আবাদ হয়। প্রায় পাঁচ সহ¯্রাধিক কৃষক খাল থেকে সেচ সুবিধা গ্রহণ করে চাষাবাদ করেন। প্রতিকুল পরিবেশে খালের মরনাপন্ন দশায় শুষ্ক ও বর্ষা মৌসুমে বিনষ্ট হচ্ছে কৃষি আবাদ। লাঘাটা খালের সাথে হাওর সমুহ ভরাট হয়ে যাওয়ায় মাছের বিচরণ স্থলও হারিয়ে যাচ্ছে। বিপন্ন হচ্ছে মাছসহ জলজ জীববৈচিত্র্য ।

কৃষক আকতার মিয়া, তোয়াবুর রহমান, পরিবেশবিদ নুরুল মোহাইমীন, সমাজসেবক আব্দুল হান্নান (চিনু) ও দুরুদ আলী বলেন, লাঘাটা খালটি ভরাট, নি¤œাঞ্চলে দু’পাশে মাত্রাতিরিক্ত গাছ গাছালি ও ঝোপ জঙ্গলে পানি নিস্কাষিত হতে পারছে না। ফলে শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ব্যাপক এলাকার প্রায় এক হাজার হেক্টর বোরো ফসল সম্পূর্ণরুপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা বলেন, এই খাল খনন ও সংস্কারের জন্য দুই ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন বলেন, লাঘাটা খাল খনন ও সংস্কার প্রয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ এই খালের সাথে কেওলার হাওর ও করাইয়ার হাওর দু’টিও ভরাট হয়ে গেছে। ফলে হাওর সমুহে যখন পানিতে ভলপুর থাকার কথা তখন জলাবদ্ধতা তৈরি হয় না। তিনি বলেন, লাঘাটা খাল সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী মকাবিলসহ দু’একটি স্থানে মৎস্য অভয়াশ্রমের মধ্যদিয়ে খালের কিছু স্থানে খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: