সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২১ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কোম্পানীগঞ্জে বসতবাড়ি মসজিদ ও বিদ্যালয়সহ বিস্তীর্ণ এলাকা গিলে খাচ্ছে পাথরখেকোরা

Pic-5বিশেষ প্রতিবেদক ::
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী মাঝেরগাঁও ও বিজয় পাড়–য়া গ্রামকে পাথরখেকোরা গিলে খাচ্ছে। এক সময় সবুজে ঘেরা গ্রামে আজ বড় বড় গর্ত করে তোলা হচ্ছে অবৈধভাবে পাথর। অনেককেই বাধ্য হয়ে বিক্রি করে দিচ্ছেন বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল বাপ-দাদার ভিটে। আবার অনেক স্থানে আছে দখলের অভিযোগ। পাথরখেকোদের থাবায় হুমকির মুখে স্কুল, মন্দির, মসজিদ ও আশেপাশের গ্রামের একমাত্র যোগাযোগের সড়কটি। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজশে বিলীন হচ্ছে এই জনপদ। সরেজমিনে দেখা যায়, মাঝেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনদিকেই রয়েছে বড় বড় গর্র্ত। যে-কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা সেখানে ঝুঁকি নিয়ে লেখাপড়া করছে। মাঝেরগাঁও সরকারি রাস্তার পাশেই রয়েছে বেশ ক’টি বড় বড় পাথরের গর্ত। সেখানে নুতন করে আরো গর্ত করা হচ্ছে । এমনকি সেখানে কৃষি জমি খনন করে তোলা হচ্ছে পাথর । কৃষি জমির মাটি অপসারণ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে এস্কেভেটর নামের দানবযন্ত্র। এ ছাড়াও মাঝেরগাঁওয়ের ভেতরে মন্দিরের চারপাশেই রয়েছে বিশাল গর্ত। এখানে মণিপুরি সম্প্রদায়ের বসবাস থাকলেও এখন তা হুমকির মুখে পড়েছে।
একই অবস্থা বিজয় পাড়–য়া গ্রামের । সেখানে গ্রামের ভেতরে সীমান্তঘেঁষা বসতবাড়ির সাথেই রয়েছে বড় বড় গর্ত । যে-কোনো সময় তা ধসে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, প্রথমে পাথরখেকোদের দল একটি জায়গা কিনে। পাথর তোলার পর জমির আবার মালিক নিয়ে যাবেন এই শর্তে বড় গর্ত করে পাথর তোলা হয়। পাথর তোলার সময় তখন পাশের জমি এমনিই ধসে পড়ে। তখন পাশের জমির মালিককেও বাধ্য হয়ে নিজের জমি বিক্রি করতে হয়। তা নাহলে জমি দখল করে নিয়ে যায় পাথরখেকোরা।
এভাবেই পাথরখেকোরা একের পর এক গ্রাম বিলীন করে দিচ্ছে। এব্যাপারে স্থানীয় কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে দেখানো হয় নানা ভয়ভীতি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের গ্রাম দুটিকে কালাইরাগের মতো বিলীন করে দেয়া হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলে তাঁরা বলেন, পরে সরকারি টাকায় রাস্তা নিমার্ণ করে দেয়া হবে এবং গর্তগুলো ভরাট করা হবে। পাথরখেকোদের হাতে মসজিদও নিরাপদ নয়। প্রাণসংকটে পড়েছেন এই এলাকার মানুষ। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যনের ফিরোজ মিয়ার বাড়ির সামনে বেশ ক’টি গর্ত রয়েছে।
এব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান ফরিদ বলেন “আমি অবৈধ পাথর উত্তলনের সাথে জড়িত নই। আমার এলাকায় যত গর্ত রয়েছে, সব ভরাট করতে জায়গা মালিকদের বলেছি। আমার নামে মিথ্যা অপবাদ রটানো হচ্ছে। অবৈধ পাথর উত্তলন বন্ধে আমি অনেক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
এ সম্পর্কে পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)-এর বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ শাহেদা জানান, লিজ থাকলেও তা লিজ এলাকার বাইরে থেকে পাথর উত্তলন করা হচ্ছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব লিজদাতার। কিন্তু তাঁরা তা করছেন না। তাদের স্বচ্ছতার অভার রয়েছে; তাই একের পর এক গ্রাম বিলীন হচ্ছে ।
এব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল লাইছ জানান, সেখানে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা থাকায় আলাদাভাবে পদক্ষেপ নেব ।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: