সর্বশেষ আপডেট : ৫৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৩ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হাইল হাওরের প্রাণ গোপলা নদী এখন বিপন্ন

unnamed (16)জালাল আহমদ, মৌলভীবাজার:: সরকারি সংস্থা ও ভূমিখেকো চক্রের থাবায় হাইল হাওরের প্রাণ গোপলা নদী এখন বিপন্ন। এক সময়ের খর¯্রােতা বিলাশ ছড়া ও গোপলা নদী দখল করে ফিসারি, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। গোপলা নদীর গতিপথ বদলে ফেলা হয়েছে। হাইল হাওরের ভাটিতে গোপলা নদীর কাগাবলায় রাবার ড্যাম নির্মাণ করে নদীর ভাটি এলাকা শুকিয়ে দেয়া হয়েছে। এর প্রভাবে ভাটির জেলা হবিগঞ্জের বিজনা নদী মরে গেছে।

খনন না করায় মাটি জমে ভরাট হয়ে নদীর রূপ হারাচ্ছে গোপলা। কয়েক দশক আগেও নদীর অধিকাংশ স্থানের গভীরতা ১৫-১৬ হাত ছিলো। এখন সেই গভীরতা কমে ২-৩ হাত হয়েছে। এতে একদিকে শুকনো মৌসুমে কৃষকেরা পানির অভাবে ক্ষেতে সেচ দিতে পারেন না, অন্যদিকে বর্ষাকালে নদীর পানি উপচে দুই পারের ফসল তলিয়ে যায়। এ কারণে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য স্থানীয় লোকজন নদীটি খনন করার জোর দাবি জানিয়েছেন। এটি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীতে পানি না থাকায় কৃষকদের পাশাপাশি জেলেরাও বিপদে পড়েছেন। কারণ, আগের মতো নদীতে আর মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় লোকজন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মৌলভীবাজার কার্যালয় সূত্র জানায়, গোপলা নদীটি জেলার হাইল হাওর থেকে উৎপন্ন হয়েছে। হাইল হাওরের তিন দিকেই পাহাড়ি টিলাভূমি ও চা বাগান। এই পাহাড় ও চা বাগান থেকে অসংখ্য ছড়া (খাল) বেরিয়ে এসে হাইল হাওরে পড়েছে। গোপলা নদী প্রায় ৩০ কিলোমিটার অতিক্রম করে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বিজনা নদীতে গিয়ে মিশেছে। বিজনা গিয়ে মিশেছে কুশিয়ারা নদীতে। কুশিয়ারা আবার কালনী নদী হয়ে মিশে গেছে মেঘনায়। এতে গোপলার মাধ্যমে মেঘনা নদীর সঙ্গে হাইল হাওরের সংযোগ তৈরি হয়েছে। গোপলা নদী হাইল হাওরের পানি বেরিয়ে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম।
কাগাবলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন জানান, এই গোপলা নদীর উৎপত্তি হাইল হাওর থেকে। একসময় ৩৫২টি ছড়ার (খাল) পানি হাইল হাওরে গিয়ে পড়তো। আর সব পানি নিষ্কাশন হতো গোপলা দিয়ে। সেই নদী এখন মরে গেছে। শুকনো মৌসুমে কৃষকরা সেচ দিতে নদীতে পানি না পাওয়ায় অনেক জমি পড়ে থাকে, চাষ হয় না। পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে গোপলা নদী খনন করতে হবে।

স্থানীয় লোকজন জানান, গোপলা নদী যখন গভীর ছিলো, তখন সব জাতের মাছ পাওয়া যেতো। একসময় গোপলার বেতঘোলা (গুলশা), ঘাগট (আইড়), গনিয়া ও বোয়ালের খ্যাতি ছিলো। এগুলো এখন স্বপ্ন হয়ে গেছে। ৩০-৪০ বছরে গোপলা ভরাট হয়ে গেছে। শুকনো মৌসুমে নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁধ, মাছ ধরার জন্য বাঁশের খুঁটি স্থাপন এবং ধানের চাষ করায় নদী ভরাট হচ্ছে। এতে পানিপ্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকায় সেচ ও মাছ সংকট দেখা দিয়েছে। এই নদীর ওপর নির্ভরশীল এলাকার লামাকাগাবলা, আটকান্দি, সুইলপুর, মীর্জাপুর, পচাউন, শতকসহ একাধিক গ্রামের মৎস্যজীবি পরিবার এখন সংকটে পড়েছে।
কাগাবলা ইউনিয়নের আথানগিরি গ্রামের বাসিন্দা হাসনাত কামাল জানান, আমার ছোটবেলা কেটেছে গোপলার পাড়ে পাড়ে। নদীর বিভিন্ন স্থানে ডহর (গভীর স্থান) ছিলো। সেসব ডহরে শুকনা মৌসুমেও ঠাঁই মিলতো না। ভয়ে সেই ডহরের কাছে আমরা যেতাম না। ডহরের আশপাশে বাঁশের চোঙা, হগরা (মাছ ধরার বাঁশের তৈরি ফাঁদ) দিয়ে অনেক বড় বড় মাছ ধরেছি। এখন নদীর দিকে তাকালে খুব কষ্ট হয়।
কাগাবলা ইউনিয়নের বুরুতলা গ্রামের রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত আদর্শ কৃষক হুমায়ূন কবীর জানান, নদীর অনেক স্থান ভরাট ও ছোট হয়ে গেছে। হাইল হাওরের উজানে চা বাগান ও জনবসতিতে খোঁড়াখুঁড়ির সব মাটি হাইল হাওর হয়ে গোপলা নদীতে গিয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে ও নদী খনন না করা হলে কয়েক বছরের মধ্যেই নদীটি একটি মরাখালে পরিণত হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মৌলভীবাজার জেলা শাখার সমন্বয়ক আসম সালেহ জানান, খনন না করায় জেলার অনেক নদীই মরে যাচ্ছে। গোপলার অবস্থাও করুণ। এখনই খননের উদ্যোগ না নেওয়া হলে আমাদের এ অঞ্চলে পানির তীব্র সংকট দেখা দিবে। হাইল হাওরের পানি বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা থাকবে না।
এ বিষয়ে পাউবো মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শংকর চক্রবর্ত্তী জানান, গোপলা নদীর বিষয়টি আমি জানি। গোপলাকে খনন করে আগের অবস্থায় নিয়ে যেতে হবে। খননের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: