সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আদালতে কন্যাশিশুর জবানবন্দি: ১৭ দিনে অনেকবার ধর্ষণ করেছেন লন্ডনি সারোয়ার

saj-3sobuj_bartaবিয়ানীবাজার প্রতিনিধি ::
সিলেটের আদালতে লন্ডনির হাতে ধর্ষণের লোহমর্ষক জবানবন্দি দিয়েছে ১২ বছরের মেয়ে। মাত্র ১৭ দিনে কতবার তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, তাও জানায় সে। তাঁর মা-বাবার উপর ধর্ষক সারোয়ারের নির্যাতনের কথাও সে আদালতকে অকপটে জানিয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার ধর্ষিতার পিতা বাদি হয়ে সারোয়ারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ এখনো ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিয়ানীবাজার থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. মোখলেছুর রহমান জানান, আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন। তিনি জানান, ১৭ দিনে বহুবার শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। প্রতিদিন ২-৩ বার তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করতেন সারোয়ার আহমদ। হাত-পা টিপে দেয়ার কথা বলে তাকে বিছানায় নিয়ে আসতেন তিনি। এরপর কখনো জোর করে, কখনো লন্ডন নেয়ার নাম করে আবার কখনো যৌনশক্তিবর্ধক ঔষদ সেবন করিয়ে শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতন করা হতো। বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল বাশার বদরুজ্জামান জানান, গত কয়েকদিন থেকে সারোয়ারের স্ত্রী তাঁর বাপের বাড়িতে বসবাস করছেন। এই ক’দিনে মেয়েটির উপর বেশি নির্যাতন করা হয়।
মামলার তদন্ত সূত্র জানায়, শিশুটি তাঁর মায়ের কাছে ধর্ষণের কথা জানালে বিষয়টি সারোয়ারের মা ও স্ত্রীকে জানানো হয়। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। সারোয়ার তাঁর স্ত্রীকে পাঠিয়ে দেন শ্বশুরবাড়িতে। এরপর তিনি শিশুটিকে রেখে দেন তার নিজ ঘরে। শিশুটিকে নিয়ে তাঁর বাবা-মা বাড়ি চলে যেতে চাইলে তাদের ওপর নির্যাতন চালান সরোয়ার। সবশেষ নির্যাতনের মাত্রা এতটাই প্রকট হয় যে, মেয়েটিকে রেখেই পালিয়ে আসেন তাঁরা। এর আগে একই বিষয় নিয়ে নিজের স্ত্রীকেও বেদম মারধর করেন সারোয়ার। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লন্ডনির বাড়িতে একটি শিশুকে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হচ্ছে এমন অভিযোগ পেয়ে সারোয়ারের বাড়িতে ছুটে যান স্থানীয় কুড়ারবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের। এ সময় ওই বাড়িতে সারোয়ারের স্ত্রী ছিলেন না। কিন্তু তিনিও শিশুটিকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, শিশু ধর্ষণের ঘটনায় তাঁর পিতা বাদি হয়ে সারোয়ার আহমদকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। গতকাল সোমবার র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মেয়েটির মেডিকেল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে তাঁর মা-বাবার জিম্মায় রয়েছে।

জানা গেছে, ধর্ষিত শিশুকে বিচার পাইয়ে দেয়ার আশ্বাসে আটকে রেখে তাঁর ওপর আবারও যৌন নির্যাতন চালান লন্ডন প্রবাসী সারোয়ার আহমদ। তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের দেউলগ্রামের লতই মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ওই প্রবাসীকে আটক করে র‌্যাব। আর ধর্ষকের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

কানাইঘাট উপজেলার এরালিগুল গ্রামের এক দরিদ্র পিতার ১২ বছর বয়সি ধর্ষিতা মেয়েটি আগেও গণধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষিতার বড় ভাই একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর গ্রামের প্রভাবশালীরা তাদের গ্রামছাড়া করেন। এ সময় নির্যাতনের শিকার মেয়েকে বড় ভাইয়ের কাছে রেখে স্ত্রী ও অপর আরেক সন্তানকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যান হতভাগা ওই পিতা। স্ত্রী ও সাথে থাকা শিশু সন্তানটিকে নিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলার দেউলগ্রামের লন্ডন প্রবাসী সারোয়ার আহমেদের বাড়িতে আশ্রয় নেন। আক্ষেপ করে ধর্ষিতার বাবা জানান, যার কাছে আশ্রয় নিলাম, সেই সারোয়ার কয়েক দিন পর আমার এই মেয়ের ওপরই পাশবিক নির্যাতন শুরু করেন।

এদিকে গতকাল সোমবার সকালে বিয়ানীবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সারোয়ারের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর স্ত্রী তামান্না সুলতানা স্বামীর মুক্তি দাবি করেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: