সর্বশেষ আপডেট : ২৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ২ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শ্রীমঙ্গলেও বিক্রেতাবিহীন ‘সততা স্টোর’

unnamedশ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:: দোকানে প্রয়োজনীয় পণ্য থরে থরে সাজানো। কিন্তু কোনো বিক্রেতা নেই। ক্রেতারা পণ্য কিনে পণ্যের গায়ে লেখা দাম দেখে হিসাব করে নির্ধারিত বাক্সে টাকা রাখছেন। পণ্য নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

এ দৃশ্য কোনো গল্প, নাটক বা সিনেমার নয়। বাস্তবেই হয়েছে এ ধরনের দোকান। নাম ‘সততা স্টোর’। উদ্যোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। আর বাস্তবায়ন করবে দেশের বিভিন্ন এলাকার নির্ধারিত কিছু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ। শিশুকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের মনে সততা জাগ্রত করা এবং পুথিগত শিক্ষাদানের সাথে সাথে শিশু বয়স থেকেই শিক্ষার্থীদের সততার অভ্যাস করানোর লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলা হয়েছে বিক্রেতা বিহীন ‘সততা স্টোর’। এসব সততা স্টোরে কোন বিক্রেতা থাকবে না। স্টোরে খাতা, কলম, পেন্সিল, রাবার, কাটার, জ্যামিতি বক্স, পেন্সিল বক্স, রঙ পেন্সিল ইত্যাদি শিক্ষা সামগ্রী রক্ষিত থাকবে। এসব শিক্ষা সামগ্রীর প্রতিটিতেই ঝুলানো থাকবে মূল্য তালিকা। মূল্য তালিকা হবে বাজারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা যে সামগ্রী ক্রয় করতে ইচ্ছুক সে সামগ্রী নিয়ে সততা স্টোরে রাখা ক্যাশ বাক্সে নিজেদের উদ্যোগে টাকা রাখবে। এ মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিশুকাল থেকে অর্জন করবে সততার দীক্ষা।

সোমবার সকাল ১০টায় শ্রীমঙ্গল পৌরসভা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘সততা স্টোর’। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘সততা স্টোর’-এর উদ্বোধন করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিশ্বজিত কুমার পাল।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ইসমাইল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘সততা স্টোর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী ও জ্যোতিষ রঞ্জন দাশ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আয়ুব আলী।

সততা স্টোর গঠন ও পরিচালনা বিষয়ে তৈরি নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিক্রেতাবিহীন ওই দোকান স্কুল ক্যাম্পাসের উপযুক্ত কোনো কক্ষে স্থাপন করা হবে। দোকানের পুঁজির ব্যবস্থা করবে পরিচালনা পর্ষদ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে দোকানের জন্য প্রাথমিক পুঁজি সংগ্রহ করে বিনিয়োগ করবে।
ওই দোকান থেকে জিনিসপত্র কেনার বিষয়েও নীতিমালা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, দোকানে ঢোকার সময় রেজিস্ট্রার খাতায় শিক্ষার্থীর নাম, শ্রেণি ও রোল নম্বর লিখতে হবে। পরে পণ্যের মূল্যতালিকা দেখে কেনা পণ্যের দাম দোকানে রাখা ক্যালকুলেটরে হিসাব করে পরিশোধ করতে হবে। ক্রেতাকে একটি কাগজে পণ্যের নাম ও টাকার পরিমাণ লিখে টেবিলে রাখা খামে ভরে নির্ধারিত ক্যাশবাক্সে ফেলতে হবে।
চাহিদামতো পণ্য না পাওয়া গেলে সেখানে রাখা আরেকটি রেজিস্ট্রারে লিখে অগ্রিম ফরমাশ দেওয়া যাবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সংশ্লিষ্ট মহানগর/জেলা/উপজেলার সভাপতি বা সম্পাদক কর্তৃক গঠিত কমিটি সততা স্টোর পরিচালনা করবে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদ নেই, সেখানে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক মনোনীত তিনজন শিক্ষককে নিয়ে গঠিত কমিটি তা পরিচালনা করবে।

পর্যবেক্ষণ ও তদারকি
নীতিমালা অনুযায়ী স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সমন্বয়ে তিন সদস্যের বিশেষ মনিটরিং কমিটি সততা স্টোরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারক করবে। ওই কমিটি মাসে অন্তত একবার বৈঠক করে হিসাব যাচাই ও ক্রয়যোগ্য সামগ্রীর তালিকা করে প্রয়োজনীয় অর্থ স্টোর পরিচালনা কমিটির কাছে দেবে।
কমিটিকে এক দিন পর পর স্টোর পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কমিটি পণ্যের চাহিদা নির্ধারণ, নিয়মিত পণ্য ক্রয়ের ব্যবস্থা, পণ্যের গায়ে মূল্য লেবেল লাগানোর কাজ করবে। আর পণ্যের মূল্যতালিকা স্টোরের দৃশ্যমান স্থানে টাঙানো থাকবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: