সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২০ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পাড়া-মহল্লায় কমেছে আতঙ্ক, রাতে স্বস্তির ঘুম

1. daily sylhet 0-9জীবন পাল:: কিছুদিন আগেও যেসব এলাকার মানুষদের রাত কাটতো নিদ্রাহীন,আতঙ্কে সেসব এলাকার মানুষরাই এখন রাত কাটাতে পারছেন স্বস্তির ঘুম ও আতঙ্কমুক্ত অবস্থায়। সরেজমিনে এরকম তথ্যই পাওয়া গেল শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন পাড়া মহল্লার মানুষদের কাছ থেকে।
কদিন আগেও যাদের মনে ভয় জায়গা করে নিয়েছিলো তাদের মনেই এখন ভয়ের জন্য নেই কোন ঠাঁয়। বুকভরা সাহস সেসব মনে বাসা বেধেছে।

শ্রীমঙ্গলবার্তার অনুসন্ধানী টিমের অনুসন্ধানের সময় অনুসন্ধামী টিমের কাছে বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন মানুষদের অনুভূতিগুলো ছিলো এরকম…

‘কিতা কইতাম আফনারারে, কয়দিন আগেও আমরা আমরার বাচ্চাকাচ্চা নিয়া ডরের মইধ্যে রাইত কাটাইতাম। রাইত যত বাড়তো ডরটাও বাড়তে থাকতো। ডরে চোখে ঘুম আইতো নায়। রাইত জাগিয়া নিজেরার ঘর পাহারা দেওয়া লাগতো।’ কথাগুলো বলছিলেন মুসলিমবাগ এলাকার বাসিন্দা মো: আব্দুল হাসিম।

একই এলাকার শামিম আহমদ বলেন, ‘আজকে এই এলাকাত তো কালকে ঐ এলাকা,কেউর মটরসাইকেল তো কেউর ঘরের মালামাল। খালি চুরি হইলে এক কথা,চুরির সাথে সাথে খানির সাথেও না কিতা ঔষুধ মিশিয়া অজ্ঞান করি দেয়,মাইরধর করে।এইগুলা শুনিয়া তো ঘরের মানুষরে নিয়া নিজের ঘরেই শান্তিতে ঘুমাইতে পারসিনা। এখন তো অনেকটা শান্তিতেই ঘুমাইতে পারি। জানিনা এই শান্তিটা কতদিন থাকবো’।

শ্রীমঙ্গলের পাড়া-মহল্লার চুরি-ডাকাতিটা কিছুদিন আগে এতোটাই বেড়ে গিয়েছিলো যে পুলিশ প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলেছিলো।
আজ এ এলাকা তো কাল আরেক এলাকা,আজকে পাড়ার ঘর তো কালকে শহরতলীর দোকান। এমনকি থানার পাশ্ববর্তী দোকানও চুরি হতে চুরদের হাত থেকে রেজায় পাইনি তখন।

তাছাড়া, প্রায় ঘরে চুরি-ডাকাতির মধ্যে অধিকাংশ চুরি-ডাকাতি সংঘঠিত হওয়া ঘরগুলোর পরিবারের সদস্যদের খাবারের সাথে চেতনানাশক ঔষধ মিশিয়ে অচেতন করে চুরি-ডাকাতি করার কৌশলটা জনমতে আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি একরকম কৌতুহলের জন্ম দিয়েছিলো।
যে আতঙ্ক ও কৌতুহল শ্রীমঙ্গলবাসীর প্রায় সকল মানুষদের মনেই বাসা বেধেছিলো।

নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে শহরের এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রশাসন তখন চৌকস ছিলনা। যার কারনেই তখন দিনের পর দিন,একের পর এক এরকম ভয়ঙ্কর চুরি-ডাকাতি সংঘঠিত হয়েছিলো। তা না হলে এখন সেসব বন্ধ হলো কিভাবে? প্রশাসনের কাজ জনগনের ভয় দূর করা,জনগনকে শান্তি দেওয়া।
তিনি বলেন, তখন আমরা প্রত্যেকে রাতের পাহারাদার হয়ে রাত জাগতাম। যে রাত জাগাটা ছিলো সেই সময়ের নিত্যদিনের একটি কাজের অংশ,যা নিজেদের দায়িত্বে পরিনত হয়ে গিয়েছিলো প্রতি পাড়া-মহল্লাতে আইনশৃঙ্খলার মিটিং হলেও তা ফলপ্রসূ ছিলনা বলে আমি বলবো। তা ফলপ্রসূ হলে জনমনের আতঙ্ক দূর হত। সেই তুলনায় এখন পুরোদমে শান্তিতে আছি বলতে হয়। যার কারনে দুশ্চিন্তায় রাত জেগে আর নির্ঘম রাত কাটাতে হয়না।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সন্ধানী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা দুলন দত্ত বলেন, ‘কয়েকমাস আগে আমরার শান্তির শহরটা অশান্তির শহরে পরিনত হইসিলো। যে অশান্তি এখন আর নাই। ঐ সময় কাজ থাকি বাড়িত ফিরায়াও শান্তিত থাকতে পারতাম নাই। রাত জাগিয়া ঘর পাহারা দেওয়া লাগতো। তার কারণ একটাই, শহরের প্রতি পাড়া-মহল্লাতেই তখন প্রায় প্রদিনই চুরি-হারি হইতো। বউ,বাইচ্চা-কাইচ্চা নিয়া ডরের মইধ্যে রাইত কাটানি লাগতো। যে ডর আর এখন নাই। এখন আসরা অনেক শান্তিতে আসি।
তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে রাইত আড়াইটার (আনুমানিক) দিকে আমার ঘুম ভাঙ্গলে আমি বাইরে বাইর হইয়া দেখি পুলিশের ভ্যান টহল দের। যেটা দেখিয়া আমি অনেক খুশি হইসিলাম। কিন্তু জানিনা এই খুশিটা কতদির থাকবো’।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক সরকারী কর্মচারী বলেন, শ্রীমঙ্গল শান্তির শহর। যে শান্তিটা কিছুদিন আগে আমরা হারিয়ে ফেলেছিলাম। প্রতিরাতে পাড়া-মহল্লায় চুরি-ডাকাতিটা আমাদের অশান্তির কারনে পরিনত হয়েছিলো। আমরা প্রত্যেকে ছিলাম আতঙ্কগ্রস্ত।
সারাদিন অফিস করে রাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারতাম না। ঘুমঘুম চোখে নিজেদের স্বার্থে রাত জেগে পাহারা দিতে হতো ঘরবাড়ি। সারাদিনের পরিশ্রমের পর রাত জাগাটা ছিলো বাড়তি পরিশ্রম। কিন্তু তার বিপরীত কোন উপায়ও ছিলোনা।

আগের ঐ অবস্থা ও বর্তমানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ, কে এম জাহান নজরুল এই প্রতিবেদককে বলেন, আসলে অন্য কোন কারণ আমি বলবো না। প্রথমত, শীতকালে চুরি-ডাকাতির প্রবনতাটা এই এলাকাই স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। তখন শীতের কারনে মানুষের বের না হওয়া,ঘন কূয়াশার ফলে চুর-ডাকাতরাও চুরি-ডাকাতির মত অপরাধ করার উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নিয়ে থাকে। যা গরমকালে পারেনা। আর দ্বিতীয়ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রতিটি এলাকার মানুষ সচেষ্ট হওয়া ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে সহযোগিতা করার কারনে চুরি-ডাকাতের মত অপরাধটা কমে গেছে।
তিনি বলেন, এরকম ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য আমরা সকলের সহযোগিতা নিয়ে আমাদের সর্বাত্বক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এর মধ্যে আমরা বড় কয়েকজন ডাকাতকে গ্রেফতার করতে সম্ভব হয়েছি।

তিনি আরোও বলেন, কষ্ট হচ্ছে বটেই,তবুও আমি নিজেও ভোর রাত পর্যন্ত টহলে থাকছি। এর কারণ, অপরাধ সংগঠিত হতে না দেওয়া, জনগনকে স্বস্তি দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্তিতিটা স্বাভাবিক রাখা।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: