সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রাজনগরে কলেজছাত্রী শাম্মীকে হত্যা করা হয় যেভাবে

21maynewspic009রাজনগর প্রতিনিধি ::
মৌলভীবাজারের রাজনগরে কলেজছাত্রী শাম্মী আখতার (১৮) হত্যার রহস্য বেরিয়ে এসেছে। পুলিশের হাতে গ্রেফতার শাম্মী আক্তারের প্রেমিক আলকুমের বর্ণনায় উঠে এসেছে হত্যার পরিকল্পনা ও হত্যাকান্ডের শিউরে উঠা বর্ণনা। জবানবন্দিতে এসেছে এক লন্ডন প্রবাসী প্রেমিকের নামও। গত শনিবার সন্ধ্যা রাতে মৌলভীবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার সবকিছুই জানিয়েছেন আলকুম।
জবানবন্দির সূত্রে জানা গেছে, রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের কাছাড়ী করিমপুর গ্রামের হারুন মিয়ার মেয়ে তারাপাশা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্রী শাম্মি আখতারের (১৮) প্রেমের সম্পর্ক ছিল ওই এলাকার গনি মিয়ার ছেলে আলকুম মিয়ার (২৩), তমজির আলীর ছেলে বরকত হোসেন সুমন (ওরফে বক্কর) (২৫), মকবুল মিয়ার ছেলে মো. দিপু মিয়া, মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সুনাটিকি গ্রামের ছকা মিয়ার ছেলে মাজহার মিয়ার (২৫) ও একই এলাকার লন্ডন লন্ডন প্রবাসী আছহাবের সঙ্গে। মাজহারের সাথে ছিল গভীর সম্পর্ক। প্রেমিক দীপুর মাধ্যমেরই প্রবাসী আছহাবের সঙ্গে সম্পর্ক হয় শাম্মীর। লন্ডন প্রবাসী আছহাবের সাথে সম্পর্ক হওয়ায় শাম্মীর সঙ্গে রাগারাগি হয় মাজহারের। দেড় মাস আগে লন্ডন প্রবাসী আছহাব দেশে এলে মাজহারের সঙ্গে সম্পর্ক বন্ধ করে দেয়ে শাম্মী আখতার। লন্ডন প্রবাসী আছহাব দেশে এসে শাম্মী আখতারকে জামাকাপড় ও একটি আইফোন উপহার দেয়। এ কারণে শাম্মী তাঁর পুরানো প্রেমিকদের তেমন পাত্তাই দিচ্ছিল না। তিন-চার দিন পূর্বে ওই এলাকার ওয়াপদা বাঁধে বসে মাজহার পরিকল্পনা করে শাম্মী আক্তারকে মেরে ফেলার। ওই পরিকল্পনায় অংশ নেন মাজহার, লোকমান ও বরকত।
আলকুম তাঁর জবানবন্দিতে বলেছেন, গত ১৮ মে দুপুর ২টায় মাজহার শাম্মী আখতারকে ফোনে কল দিয়ে বলেন, তাঁর সঙ্গে কাজ আছে। রাতে মিসড্কল দিলে শাম্মী যেন ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। ঘটনার দিন (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ৮টার সময় শাম্মী আখতারকে মাজহার মিসড্কল দিলে তিনি বেরিয়ে আসেন। হত্যায় অংশ নেয়া বরকত আগে থেকেই মছকন মিয়ার আকাশি গাছের বাগানের দক্ষিণের পাশের পতিত জমিতে ছিলেন। পরে মাজহার ও শাম্মী সেখানে যান। এরপর ঘটনাস্থলে যান আলকুম। বরকত একটি সাদা পাউডারের প্যাকেট মাজহারের হাতে দেন। ওই পাউডার শাম্মী আখতারকে খাইয়ে দেন মাজহার। এতে শাম্মী আখতার অজ্ঞান হয়ে পড়েন। মাজহার তাঁর টিশার্ট খুলে শাম্মীর মুখ চেপে ধরে হত্যা করেন।
আলকুমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হলেও তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না তা জানা যায়নি। হত্যার সময় ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না ময়নাতদন্তের আবেদনে জানতে চেয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক। এদিকে বরকত, দিপু ও মাজহারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে রাজনগর থানার পুলিশ।
এদিকে শাম্মী আখতার তাঁর বান্ধবীকে দেয়া হোয়াটস্আপ মাধ্যমে চ্যাটের মাধ্যমে জানিয়ে ছিলেন ‘আলকুম আমারে (আমাকে) মারি লাইব (মেরে ফেলবে)’। ওই চ্যাটের সূত্রে লাশ উদ্ধারের সময়ই আলকুমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে শাম্মী আখতারের পিতা হারুন মিয়ার কথার ভিত্তিতে প্রথমে বরকত হোসেন সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাঁর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. দিপু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁর বক্তব্যে অসংলগ্নতা পাওয়ায় তাদের আটক করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আলকুম হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন। পরে তাঁর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার পরিকল্পনাকারী মো. মাজহার মিয়াকে রাতেই পুলিশ তাঁর বাড়ি থেকে আটক করে। গত শনিবার রাতে পুলিশ হত্যারকাজে ব্যবহৃত মাজহারের টিশার্ট উদ্ধার করে রাজনগর থানার পুলিশ।
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, আলকুমের দেয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মাজহার। অন্যদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হবে।

21maynewspic010

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: