সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৮ মে, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

লাইনে দাঁড়িয়েও হাকালুকির ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা পাচ্ছেন না ওএমএস’র চাল!

unnamed (7)জালাল আহমদ:: মৌলভীবাজারের বড়লেখার হাকালুকি হাওরপারের বোরো ফসল হারানো হাজার হাজার কৃষকের দুর্ভোগ এখনও কমেনি। ১৫ টাকা কেজি দরের ওএমএস’র চাল বিক্রি গত ৮ মে থেকে শুরু হলেও তালিমপুর ইউনিয়নে চালু করা বিক্রয় কেন্দ্রটি দুর্গত এলাকা থেকে অনেক দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় এর সুফল ভোগ করতে পারছেন না প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা। অবশেষে গত মঙ্গলবার (১৬ মে) থেকে হাওরপারের কানুনগো বাজারে চালু হয় খোলা বাজারে চাল বিক্রি। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও দুর্গত মানুষজন শেষ পর্যন্ত চাল না পেয়ে নিরাশ বদনেই বাড়ি ফিরছেন।

গত মঙ্গলবার দুপুরে হাওরপারের ২টি বিক্রয় কেন্দ্রে হতাশার এমন চিত্র দেখা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাওরপারের বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ও সুজানগরের অন্তত ২০ হাজার মানুষ বন্যায় বোরো ফসল হারিয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

গত ৯ মে সড়ক, যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চৌধুরী এমপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে হাকালুাকির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান। তিনি সেখানে আগামী বোরো ফসল ঘরে উঠার পূর্ব পর্যন্ত হাওরপারের বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এমনকি ৬ হাজার ভিজিএফ কার্ড প্রদানেরও ঘোষণা দেন।

দুর্গত লোকজনদের জন্যে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে উপজেলা প্রশাসন নিয়োগ দেয় ৪জন ওএমএস’র ডিলার। গণহারে ক্ষতিগ্রস্ত তালিমপুর ইউনিয়নের ডিলার নিয়োগ দেয়া হয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ৩-৪ কিলোমিটার দূরবর্তী স্থানে। ফলে সরকারের আসল উদ্দেশ্য দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মহৎ উদ্যোগটি ভেস্তে যায়। এসব দুর্ভোগ নিয়ে প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রতিবেদন ছাপা হলে উপজেলা প্রশাসন দূরবর্তী স্থানের ডিলার বাতিল করে তালিমপুর ইউপি’র কানুনগোবাজারে খোলা বাজারে চাল বিক্রির ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেয়। অবশেষে ৮ দিন পর সফিক উদ্দিনকে প্রতিদিন জনপ্রতি ৫ কেজি ২০০ দুর্গত মানুষের কাছে বিক্রির জন্য ১ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।

সরেজমিনে সুজানগর ইউপি’র আজিমগঞ্জ বাজারের ওএমএস’র দোকানে গিয়ে দেখা যায় দুর্গত মানুষের দীর্ঘ লাইন। ডিলার মোক্তার আলী জানান, প্রতিদিন ২০০ মানুষের কাছে চাল বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু দোকান খোলার সাথেই ৫০০-৬০০ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ভীড় জমান। এ অবস্থায় বরাদ্দ শেষ হওয়ায় বিক্রি বন্ধ রাখতে গিয়ে চাল না পেয়ে লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাচ্ছে। সরবরাহ না বাড়ালে চাল বিক্রি নিয়ে নানা ঝামেলা সৃষ্টির আশংকা রয়েছে।

ওএমএস’র চাল কিনতে আসা সুজানগর ইউপি’র সালদিগা গ্রামের ইন্দ্রজিৎ বিশ^াস, মাখন দাস, রিপন দাস; ভোলারকান্দি গ্রামের রুশনা বেগম, পারভীন বেগম প্রমুখ জানান, ৫ কেজি চাল কিনতে কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অবশেষে ডিলার জানায় চাল শেষ। এভাবে তারা ২ দিন চাল না পেয়ে ফিরে গেছেন। নূর ইসলাম নামের এক উপকারভোগী জানান, ৫ কেজি চালের জন্য পুরো দিন চলে যায়।
তালিমপুর ইউনিয়নের ওএমএস’র দোকানে কয়েকশ’ নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন থাকতে দেখা গেছে। ডিলার সফিক উদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে ১৫০ জনকে চাল দেয়া শেষ করেছেন। লাইনে অন্তত ২০০ জন লোক দাঁড়ানো রয়েছেন। আরও ৫০ জনকে দেওয়ার পর অবশিষ্টদের চাল নেই বলা মাত্রই বিশৃক্সক্ষলা সৃষ্টি হয়।

সুজানগর ইউপি চেয়ারম্যান নছিব আলী ও তালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যুত কান্তি দাস ও বর্ণি ইউপি চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন জানান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ টন চাল বিক্রির ব্যবস্থা নিলে লাইনে দাঁড়ানো দুর্গত লোকজন অন্তত চাল না নিয়ে বাড়ি ফিরবে না। এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল জানান, ওএমএস’র চাল বরাদ্দ দ্বিগুণ করার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: