সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২২ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘মা দিবসে মা হত্যার স্বীকারোক্তি’

1. daily sylhet 0-17মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ:: নবীগঞ্জের চাঞ্চল্যকর গৃহবধু আমিনা বেগম’কে গলা কেটে হত্যার দায় স্বীকার করলেন ঘাতক ছেলে আমির আহমদ। রবিবার সকালে হবিগঞ্জ আমল গ্রহনকারী আদালত-৫ এর বিচারক কাউছার আলম’র কাছে এই স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে পুত্র। মা’ দিবসে গর্ভধারীনি মা হত্যার স্বীকারোক্তি প্রদান করলেন এসএসসি পাশ করা মাদ্রাসার ছাত্র ছেলে। তার স্বীকারোক্তিতে ঘটনার লোমহর্ষন বর্ণনা দেয় আমির। এরমধ্যে সম্পত্তি ও পরকিয়া অন্যতম কারন।

রবিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুজিত চক্রবর্ত্তী গ্রেফতারকৃত ছেলে আমির আহমদ’কে আদালতে হাজির করলে সে স্বেচ্ছায় তার মা’কে হত্যার বর্ণনা দেয়। সে জানায়, তার মা নিহত আমিনা বেগম পরকিয়ায় আসক্ত। এছাড়া বাড়িঘরসহ সম্পত্তি তার মা’য়ের নামে থাকায় উক্ত সম্পত্তি থেকে সে বঞ্চিত থাকার আশংখ্যায় শুক্রবার সন্ধ্যায় শবেবরাতের রোজার ইফতারের আগে ২০টি ঘুমের ঔষধ রুহআফজা শরবতের সাথে মিশিয়ে ইফতারের সময় তার মা’কে খাওয়ায়। কিছুক্ষনের মধ্যেই তার মায়ের তন্দ্রাভাব দেখে সে তার শয়ন কক্ষে ফিরে আসে। তার ধারনা ছিল ঔষধের কারনে তার মা’য়ের মৃত্যু ঘটবে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার পিতা নিহতের স্বামী জাবিদ উল্লা ছেলে আমিরকে তার মা’কে ভাত খেতে ডাকতে বলে। বাবা কথায় বাড়ির উঠান থেকে মা মা বলে ডাক দেয়। কোন রা শব্দ না পেয়ে ফিরে আসে। তবে দরঝা খোলা দেখতে পায়। তখন তার সন্দেহ হয় ততক্ষনে ঘুমের ঔষধে তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এটা ভেবে তার ঘুম না আশায় তার মোবাইলে ভারতীয় বাংলা জিৎ এর সিনেমা দেখে। তখন ঘড়ির কাটা রাত সাড়ে ১১ টা। ছবি দেখে মা’য়ের খবর নিতে তার ঘরে যায়। গিয়ে দেখে দরঝা খোলা, নাকে হাত দিয়ে বুঝতে পারে শ^াস নিচ্ছেন। ঔষধে মরার সম্ভাবনা নেই ভেবে পড়নের ওড়না দিয়ে হাত-পা বেধেঁ পুণরায় তার ঘরে ফিরে আসে। রাত ১২ থেকে সাড়ে ১২ টার দিকে হাতে ছুরি নিয়ে আবার তার মা’য়ের ঘরে যায়। প্রথমে বালিশ দিয়ে মুখে চেপে ধরে। তখন তার মা’য়ের লড়াচড়া করতে দেখে সন্দেহ হয় চিৎকার দিতে পারে। এ সময় বাড়ির উঠান দিয়ে মানুষের পা’য়ের শব্দ পেয়ে ঘাবড়ে যায়। ধারনা করে চিৎকার দিলে ধরা পড়ে যাবে। এটা ভেবে এক হাত দিয়ে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে ধরে অন্য হাত দিয়ে গলায় ছুরি চালায়। এক পর্যায়ে মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে তার কক্ষে ফিরে আসে। ঘুম না আসায় ইসলামী গজল শুনে শুনে ঘুমিয়ে পড়ে। শনিবার সকালে লোকজনের সন্দেহ এড়াতে ঘুম থেকে উঠে মা’য়ের ঘরে যায় এবং হাকডাক দেয়। পরে তার সুর চিৎকারে গ্রামের লোকজন ছুটে আসে গৃহবধু আমিনা বেগমের গলা কাটা লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরন এবং পিতা জাবিদ উল্লা ও ছেলে আমির আহমদ’কে থানায় নিয়ে আসেন। এভাবেই ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় ঘাতক পুত্র আমির আহমদ।
উল্লেখ্য, ওই গ্রামের জাবিদ উল্লার স্ত্রী আমিনা বেগম (৪৫) প্রতিদিনের ন্যায় গত শুক্রবার রাতে খাওয়া ধাওয়া শেষে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। শনিবার সকাল ৮টার দিকে ছেলে আমির আহমেদ (১৭) দেখতে পায় তার মা ঘুম থেকে উঠেনি। দরজা খোলা দেখে সে ভেতরে প্রবেশ করে মায়ের মুখে বালিশ দেখতে পায়। বালিশ সরিয়ে মায়ের নিথর দেহ দেখতে পেয়ে সে চিৎকার শুরু করে। এ সময় আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে রক্তাক্ত মরদেহটি দেখতে পায়। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত আমিনার স্বামী জাবিদ উল্লাহ ও তার ছেলে আমির আহমেদকে থানায় নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে ছেলে আমির মাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সাংবাদিকদের জানিয়েছিল । তার দেয়া তথ্যমতে পুলিশের এসআই সুজিত চক্রবর্ত্তী রান্না ঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেন। গতকাল রবিবার পুলিশ ঘাতক পুত্রকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করলে সে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি প্রদান করে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: