সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মায়ের কথা বলি…

1494644547আসিফুর রহমান সাগর:: ‘মা’ ছোট্ট একটা শব্দ। কিন্তু তার পরিধি অসীম। সবার কাছেই মায়ের চেয়ে আপন আর কেউ নেই। সবচেয়ে কাছের মানুষ তিনি, সবচেয়ে প্রিয়। মানুষের খুব প্রিয় অন্য যে কোনো কিছুর সঙ্গে যখন তুলনা আসে তখনও মায়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়। কারণ প্রত্যেকের কাছেই তার মায়ের পরে আর কিছু নেই, মায়ের আসন সবার ওপরে। দেশ, নিজের জন্মস্থানও মা রূপে জ্ঞান করে সবাই। সেই মায়ের জন্য প্রাণ দিতেও পিছপা হয় না মানুষ।

আগামীকাল রবিবার মা দিবস। আধুনিক বিশ্বে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারটিকে ‘মা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে, যার সূত্রপাত ১৯০৮ সালের ৮ মে। সঙ্গে উপহার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সাদা কার্নেশন ফুল। সমীক্ষা বলছে, বছরের আর পাঁচটা দিনের তুলনায় এদিন অনেক বেশি মানুষ নিজের মাকে ফোন করেন, তার জন্য ফুল কেনেন, উপহার দেন।

মায়ের শরীরে সন্তানের জন্ম। জন্মের পর মাকেই শিশু সবার আগে চেনে। মায়ের বুকের হূদস্পন্দন তার কাছে পরিচিত। মায়ের বুকের দুধে, শরীরের উষ্ণতায় সবার বেড়ে ওঠা। যাকে অবলম্বন করে বেড়ে ওঠা সেই ‘মা’ ডাকের মতো মধুর ডাক পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। মানুষের মুখে ফোটা প্রথম শব্দটি ‘মা’। সন্তানের কাছে ‘মা’ ডাকটি যেমন সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে আপন। তেমনি একজন মায়ের কাছেও সন্তানের মুখ থেকে ‘মা’ ডাক শোনাটি সবচেয়ে ভালো লাগার মুহূর্ত। ‘মা’ শব্দটির সঙ্গে মিশে আছে মায়া-মমতা ও ভালোবাসা। তাই ‘মা’ কে নিয়ে কবি-সাহিত্যিকরা যত কবিতা লিখেছেন, যত গান রচিত হয়েছে এমনটা আর কাউকে নিয়েই হতে দেখা যায় না। মা-কে ঘিরে যে আবেগ তার যেন শেষ নেই। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তা বহমান।

অনেক সময় স্নেহের আধার এই মা পরিণত হন জাতীয় প্রেরণার প্রতীকে। বাংলাদেশে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আজাদের ‘মা’ তেমনি দুই ব্যক্তিত্ব। জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনলিপি’ ও শহীদ আজাদের মাকে নিয়ে লেখা আনিসুল হকের ‘মা’ উপন্যাস আমাদের সামনে মায়ের নতুন রূপ উন্মোচন করে।

আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় একজন মা যেভাবে নিজের জীবনকে উত্সর্গ করেন তেমনটা ছেলেদের করতে হয় না। সন্তানকে বড় করবার জন্য একজন মা তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টা উত্সর্গ করেন। খুব মেধাবি একজন নারী, একজন চাকরিজীবী তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টা সন্তান জন্ম দেয়া ও তার লালনে ব্যয় করেন। এর জন্য চাকরিতে ব্যবসায় তিনি পিছিয়ে পড়েন সমসাময়িক অন্যদের থেকে। কিন্তু সেই কষ্ট তিনি নির্দিধায় মেনে নেন সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে।

শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে সন্তানদের বিপথে চলে যাওয়া, জঙ্গি হওয়ার পেছনে পারিবারিক সম্পর্ক শিথিল হওয়ার কথা বলছেন সমাজবিদরা। এ পরিস্থিতিতে সন্তানকে সঠিক মূল্যবোধ শিক্ষায় মায়ের গুরুত্ব যে সবচেয়ে বেশি সে কথাও বলছেন তারা। কোন মা, তা তিনি যে পেশাতেই থাকুন না কেন, সাধারণ্যের বিচারে তিনি যত কুশ্রীই হন না কেন, সন্তানের কাছে তিনি কিন্তু দেবীর মতো।

আবার অনেক ছেলে-মেয়েই মায়ের সেই ত্যাগ ভুলে যায়। আজকাল অনেক ছেলে-মেয়েকেই মা-বাবার অযত্ন করতে, তাঁদের অবহেলা করতে দেখা যায়। তাঁদের রক্ত-মাংসে বেড়ে ওঠা সন্তানটি সব ভুলে মা-বাবাকে পাঠিয়ে দিচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে।

দেশে দেশে ‘মা’

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষায় ব্যবহূত ‘মা’ ডাকের শব্দগুলোর মধ্যকার উচ্চারণগত এই সাদৃশ্য কীভাবে ঘটল তা এক বিরাট রহস্য। তবে ভাষাবিদ রোমান জ্যাকবসন এর পেছনে যুক্তি দেখিয়েছেন যে, শিশুরা যখন তার মায়ের দুধ পান করে, তখন তারা তাদের মুখভর্তি অবস্থায় কিছু শব্দ করে। সেই শব্দগুলো নাক দিয়ে বের হয় বলে উচ্চারণগুলো অনেক ‘ম’ এর মতো শোনা যায়। তাই প্রায় সব ভাষায়ই ‘মা’ ডাকে ব্যবহূত শব্দগুলো ‘ম’ বা ‘এম’ দিয়ে শুরু হয়। ‘মা’ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘মম’, যা পূর্বে ব্যবহূত শব্দ ‘মাম্মা’র পরিবর্তিত রূপ। ধারণা করা হয়, ইংরেজি শব্দ মাম্মা এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘মাম্মা’ থেকে। যা ‘স্তন’ বোঝতে ব্যবহূত হতো। এই শব্দ থেকে ‘ম্যামেল’ উত্পত্তি। যা কিনা স্তন্যপায়ী প্রাণির ইংরেজি প্রতিশব্দ।

যেভাবে এলো মা দিবস

বর্তমানে প্রচলিত মা দিবসের সূচনা হয় ১৯০৮ সালে। গত শতাব্দীর শুরু দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার এক স্কুল শিক্ষিকা অ্যানা জারভিস সেখানকার পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা দেখে মর্মাহত হয়ে মায়ের জন্য বিশেষ দিন পালনের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করার কথা ভাবলেন। তার সে ভাবনা বাস্তবায়নের আগে ১৯০৫ সালের ৯ মে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর মেয়ে অ্যানা এম জারভিস মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করেন। বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে ১৯০৮ সালে তার মা ফিলাডেলফিয়ার যে গির্জায় উপাসনা করতেন, সেখানে সব মাকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মা দিবসের সূচনা করেন। ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে মায়েদের জন্য উত্সর্গ করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়। এখন বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মা দিবস পালন করা হয়।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা ‘মাকড়সা’

মা সন্তানের বেঁচে থাকার জন্য এবং মঙ্গল কামনার জন্য নিজেকে সম্পূর্ণ বিলিয়ে দেয় – এ চিরন্তন সত্যটি শুধু মানুষের মাঝেই নয়, প্রকৃতির অন্য প্রাণিদের ক্ষেত্রেও এটি সত্যি। তেমন এক প্রাণির নাম মাকড়সা। মাকড়সার ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। মা মাকড়সা সেই ডিম নিজের দেহে বহন করে বাচ্চা না হওয়া পর্যন্ত। যখন বাচ্চা হয় তখন মা মাকড়সা বাচ্চাদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিজের শরীর বিলিয়ে দেয় তাদের খাবারের জন্য। বাচ্চা মাকড়সারা মা মাকড়সার দেহই খেতে শুরু করে ঠুকরে ঠুকরে। সন্তানের জন্য মা নীরবে হজম করে সব কষ্ট-যন্ত্রণা। এমনি করে এক সময় মায়ের পুরো দেহই চলে যায় সন্তানদের পেটে। মাকড়সা মায়ের সন্তানের জন্য এ আত্মত্যাগের কারণেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা হিসেবে মাকড়সার স্থান অনেক ওপরে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: