সর্বশেষ আপডেট : ২১ মিনিট ২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দুই মাস আগে বানানো হয় জঙ্গি আস্তানাটি

xfull_876395033_1494484926.jpg.pagespeed.ic.OwN9r_9hjWনিউজ ডেস্ক:: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ পুলিশের অভিযানে এক নারীসহ ৫ জঙ্গি নিহত হয়েছেন। এসময় জঙ্গিরা আস্তানা থেকে বের হয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে ফায়ার সার্ভিসের এক উদ্ধারকর্মী নিহত হন।

নিহত পাঁচ জঙ্গির লাশ বাড়ির সামনেই পড়ে আছে। তাদের মধ্যে ওই বাড়ির মালিক সাজ্জাদ হোসেন, তার স্ত্রী বেলী, দুই ছেলে আলামিন ও শোয়েব এবং এক মেয়ে কারিমা রয়েছেন বলে তারা ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ সদস্যরা জানান, সকাল পৌনে ৮টার দিকে ওই বাড়ি থেকে দুই নারীসহ কয়েকজন বেরিয়ে আসে এবং বাইরে থাকা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ফায়ারম্যান আবদুল মতিনকে কোপাতে দেখা যায় এক নারীকে। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় ওই ফায়ার সার্ভিস কর্মীর।

সাজ্জাদের আরেক মেয়ে সুমাইয়াকে সে সময় ওই বাড়ির সামনে মাঠের মধ্যে বসে থাকতে দেখা যায়। পুলিশের সন্দেহ ছিল, তার শরীরে সুইসাইডাল বেল্ট থাকতে পারে। এর ঘণ্টা তিনেক পর পুলিশের কাছে ধরা দেন তিনি। ওসি জানান, ওই হামলা ও বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে সুমাইয়ার তিন মাসের মেয়েকে কোলে নিয়ে ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে তার আট বছর বয়সী ছেলে। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে নেয়।

রাজশাহী শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে মাছমারা বেনীপুর গ্রামে মাঠের মধ্যে মাস দুই আগে বাঁশ আর টিন দিয়ে ওই ঘর তোলা হয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

তারা বলছেন, বাড়ির মালিক সাজ্জাদ হোসেন তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে ওই বাড়িতে থাকতেন। এলাকাবাসীর সঙ্গে তাদের খুব একটা মেলামেশা ছিল না। সাজ্জাদ গ্রামে গ্রামে ফেরি করে কাপড় বিক্রি করতেন। আর তার দুই ছেলে আলামিন ও শোয়েব করতেন কৃষিকাজ। ধানক্ষেতের মধ্যে বিচ্ছিন্ন ওই বাড়ি স্থানীয়দের কাছে ‘আলামিনের বাড়ি’ হিসেবেই পরিচিত বলে জানান ওসি হিফজুল আলম মুন্সি।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার হাবাসপুরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছবি: প্রথম আলো

তিনি বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তথ্য পেয়ে বুধবার রাত ৩টার দিকে থানা পুলিশের সদস্যরা ওই বাড়ি ঘিরে ফেলেন। সেখানে ছয়জন জঙ্গি থাকতে পারে বলে তথ্য ছিল তাদের কাছে।

“সকালে ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে আসার জন্য হ্যান্ড মাইকে জঙ্গিদের আহ্বান জানানো হয়। জবাবে বাড়ি থেকে দুই রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়।”

এরপর পুলিশ সেখানে অভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ওই বাড়িতে পানি ছিটানো শুরু করলে এক শিশুকে কোলে নিয়ে আরেক বালককে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।

“সকাল পৌনে ৮টার দিকে হঠাৎ কয়েকজন বেরিয়ে আসে এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে জঙ্গিরা আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে পাঁচজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।” আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এসআই উৎপল ও কনস্টেবল তাজুল ইসলামকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওসি।

মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আজম তৌহিদ জানান, সাজ্জাদের মেয়ে সুমাইয়ার স্বামী জহুরুল জঙ্গি সংগঠন জেএমবির কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত চারমাস ধরে কারাগারে আছেন।

জহুরুলের বাড়ি গোদাগাড়ির দিয়ার মানিকচরে। এক সময় এলাকার মানুষ তাকে ‘পল্লী চিকিৎসক’ হিসেবে চিনলেও পরে তিনি জেএমবিতে জড়ান বলে চেয়ারম্যান আজমের ভাষ্য।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: