সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নবীগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট গ্রাহক: রাতে জুতা মিছিল, অফিস ঘেরাও, গ্লাস ভাংচুর

unnamed (1)মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ:: নবীগঞ্জে পল্লীবিদ্যুতের খামখেয়ালীপনা ও ঘন ঘন লোডশেডিং‘র কারণে অতিষ্ট পৌর এলাকাসহ উপজেলার ৩৫৪ গ্রামের সাধারন মানুষ। বিদ্যুৎ এই আছে, এই নেই, এটিই হলো বর্তমান সময়ে নবীগঞ্জের প্রতিদিনের চিত্র। সাধারন মানুষকে কোন রকম অবগতি ও নোটিশ ছাড়াই সারা দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ও লোডশেডিং করা হচ্ছে। এতে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে উপজেলার সকল মানুষকে। ঘনঘন লোডশেডিং চরম দূর্ভোগে ফেলেছে সাধারণ মানুষকে। বিদ্যুতের এ রকম ভেলকীবাজী দেখে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন বাংলার জনগণ দেখে ছিল তা হয়তবা বাস্তবে পূরণ হবেনা কখনো এই ধারনা অনেকের মনে। লোাডশেডিংয়ের কোন নিয়ম নীতির বালাই নেই নবীগঞ্জে।

সোমবার রাতে প্রচন্ড দাবদাহে এমন লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে পড়ে রাস্তায় নেমে আসেন নবীগঞ্জ পৌর এলাকার বিক্ষোব্ধ জনতা। রাত ৯ টার দিকে শত শত মানুষ জুতা মিছিল নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে রাখে। এক পর্যায়ে বিক্ষোব্দ জনতা বিদ্যুৎ অফিসকে লক্ষ করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে অফিসের কয়েকটি গ্লাস ভেঙ্গে গেছে। পরে বিক্ষোব্দ জনতা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়কে মিছিল দিতে থাকেন, এ অবস্থায় জনতার তুপের মুখে রাত ১১ টার দিকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, হারিকেনের আলোয় চারিদিক আলোকিত হলেও এর নিচে যে থাকে অন্ধকার তা অবিশ্বাস হলেও সত্য। নবীগঞ্জবাসীর অবস্থা আলোর নিচে অন্ধকারের মতই। নবীগঞ্জবাসী যেন আলোর নিচে অন্ধকারেই বাস করছেন।
সুত্রে জানা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র নবীগঞ্জ বিবিয়ানা। এটি বাংলাদেশের গ্যাস চাহিদার মোট ৬০ শতাংশ পূরণ করছে। উত্তোলনকৃত গ্যাস ও বিদ্যুৎ বাংলাদেশের প্রধান জ্বালানীকারক হিসাবে চাহিদা মিটাচ্ছে। বিবিয়ানা গ্যাস উত্তোলনের পাশাপাশি ৯০০ মেগওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র চালু হলে গ্যাস ও বিদ্যুত জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে। গত ২৯ নভম্বের ২০১৪ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবীগঞ্জ আসলে উদ্বোধন করেন বিবিয়ানা ১১ নং গ্যাস কুপ ও পারকুলে ৯০০ মেগোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কুইক রেন্টাল। কিন্তু নবীগঞ্জবাসী পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোড শেডিং ও কম ভোল্টেজ এর কারণে অতিষ্ঠ। নিরববিচ্ছিন বিদ্যুৎ এর জন্য বিবিয়ানা গ্রীড সাব স্টেশন স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নবীগঞ্জবাসী।

এদিকে, গেল বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ৯ তারিখ নবীগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং ও তৎকালিন ডিজিএম এর অপসারণের দাবীতে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র জনতা ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন বিক্ষোভ মিছিল করে পল্লী বিদ্যুতের অফিস ঘেরাও করে ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখে। এ সময় বিক্ষুদ্ধ জনতা নবীগঞ্জ-কাজিরবাজার রোড প্রায় ২ ঘন্টা সময় অবরোধ করে রাখলে কয়েক শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা ও থানার অফিসার ইনচার্য একদল পুলিশ নিয়ে আন্দোলনকারীদের আলোচনা সাপেক্ষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। এর পর বদলি হয়েছেন সেই ডিজিএম ভজন কুমার বর্মনের কিন্তু উন্নতি হয়নি পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক সেবার।

অপর দিকে গ্রাহকদের অভিযোগ, নবীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র প্রচন্ড দাবদাহে এমন লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক লক্ষাধীক সাধারণ মানুষ। প্রচন্ড দাবদাহের মধ্যে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং চরম দূর্ভোগে পড়েন উপজেলাবাসী। এমনকি গত তিন বছর যাবৎ লাইন মেরামত করার অজুহাতে সপ্তাহে ২ দিন (শুক্রবার ও শনিবার) সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু কোন কোন দিন রাত ১০ টাও হয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে।

অনেক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে লোডশেডিং হলে আমরা পূর্ব থেকে প্রস্তুত থাকতে পারি। এ অবস্থায় লোডশেডিং চলতে থাকলে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকাই ভালো। লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করার ফলে বিপাকে পরেছেন স্কুল কলেজে পড়–য়া শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, খলকারখানার মালিকগন, সংবাদকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। হঠাৎ করে ঘন ঘন লোডশেডিং হওয়ার ফলে সাংবাদিকদের পরতে হয় নানান বিপাকে। সাংবাদিকরা নির্দিষ্ট সময়ে সংবাদ না পাঠালে তা প্রকাশের উপযোগী হয়না। শুধু সাংবাদিদের নয় ব্যবসায়ীদেরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। যার ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতি মাসে। তাছাড়া বিদ্যুতের আলোতে পড়াশোনা করে অভ্যস্থ ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারে না। সামান্য বৃষ্টি ও বাতাসের আভাস পেলেই পল্লীবিদ্যুত কর্তৃপক্ষ কোন রকম অবগতি ছাড়াই বিদ্যুত লাইন বন্ধ করে দেয়। বিদ্যুত না থাকার কারন জানতে চেয়ে অফিসে একাধিক বার ফোন করলে রিসিভ করা হয় না আর ফোন রিসিভ করলেও প্রতিদিনই থাকছে কোন না কোন টালবাহান, এমন অভিযোগ গ্রাহক সাধারনের। সাধারণ মানুষ মনে করেন, এই ধরণের সমস্যার জন্য পল্লীবিদ্যুতের নিয়মিত অনিয়ম ও খায়খেয়ালীপনাই দায়ী। এ ব্যাপারে পল্লীবিদ্যুতের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেও কোন প্রতিকার পাননি সাধারন মানুষ।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম আব্দুল বারী জানান, নবীগঞ্জের গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য শাহজীবাজার গ্রীড সাব-স্টেশন হতে ৫৪ কিঃ মিঃ দূরে ৩৩ কেভি বৈদ্যুতিক লাইনের মাধ্যমে নবীগঞ্জ উপজেলায় স্থাপিত ১৫ এমভিএ বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
একই লাইনের মাধ্যমে নবীগঞ্জ, শায়েস্থাগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচং বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। আন্ডার সাইজের একই লাইনে ৪ উপজেলায় সংযোগ দেয়ায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। ৪ উপজেলার এক লাইন হওয়ায় যে কোন এক উপজেলায় কোন সমস্যা হলে এক যোগে ৪ উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়।
ডিজিএম আরো জানান, গত সোমবার রাতে শাহজীবাজার লাইন বন্ধ থাকায় নবীগঞ্জসহ ৬ উপজেলায় বিদ্যূৎ ছিল না এ কারণে উত্তেজিত হয়ে জনতা অফিস ঘেরাও করে গ্লাস ভাংচুর করেছে। তিন বছর ধরে যে সপ্তায় দুদিন বিদ্যুৎ বন্ধ করে কাজ করা হয়, এ কাজ আর কত দিন পর শেষ হবে এমন প্রশ্নের স্পষ্ট কোন জবাব দেননি ডিজিএম।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: