সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২১ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঝিনাইদহের আস্তানার সন্ধান দেয় ‘জঙ্গি শামীম’!

24932_24837_Gulshan-Attackনিউজ ডেস্ক:: জঙ্গি শামীম ঝিনাইদহের দুই আস্তানার সন্ধান দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত শুক্রবার (০৫ মে) ঝিনাইদহ থেকে জঙ্গি শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। গুলশান হামলায় অংশ নেওয়া নিবরাসসহ কয়েকজন হামলার আগে ঝিনাইদহে অবস্থান করে। সে সময় তাদেরকে ঝিনাইদহে থাকার ব্যবস্থা করেছিল শামীম।’

তিনি বলেন, ‘শামীমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তার বাড়িতে মাটির নিচে বস্তায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক লুকানো আছে। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ঝিনাইদহ সদর এলাকায় বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। তার বাড়ির মাটির নিচ থেকে বস্তাটি উদ্ধার করা হয়, ধারণা করা হচ্ছে বস্তাটিতে বিস্ফোরক রয়েছে।’

কাউন্টার টেরোরিজমের প্রধান আরও জানান, শামীমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহেশপুরের আস্তানাটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযান শুরু হলে একজন ঘরের ভেতর থেকে সুইসাইডাল ভেস্টসহ বাইরে এসে বিস্ফোরণ ঘটায়। এর পর পাল্টা প্রতিরোধে পুলিশ সদস্যরা গুলি চালায়। সে পুলিশের গুলি অথবা আত্মঘাতী বিস্ফেরণে সেখানেই মারা যায়।

এ সময় সিটিটিসির এডিসি নাজমুল করিম ও ঝিনাইদহের এক এএসআই আহত হন। নাজমুলের হাত ভেঙে গেছে। তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হচ্ছে। মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত এএসআই আশঙ্কামুক্ত আছেন বলে জানা গেছে।

তিনি জানান, এর পর পরই আরেক জঙ্গি ঘরের দরজায় এসে বিস্ফোরণ ঘটায়। সেও ওই বিস্ফোরণে মারা যায়।

মহেশপুরের বাড়ির মালিক জহির ও তার ছেলেকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মনিরুল আরও বলেন, ‘আস্তানায় নিহত দুই জঙ্গি বহিরাগত বলে জানা গেছে। গত ২০ তারিখে ঝিনাইদহের পুরাহাটিতে জঙ্গি আব্দুল্লার বাড়িতে যে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরকের ল্যাবরেটরি পাওয়া যায়, এই দুজন সেখানেই থাকতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই আস্তানায় অভিযানের খবর পেয়ে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে জঙ্গি জহিরের বাড়িতে অবস্থান নেয় তারা।’

তিনি বলেন, ‘অভিযান এখনও চলছে, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট পথে রয়েছে। তারা পৌঁছলেই ভেতরে কি পরিমাণ বিস্ফোরক রয়েছে তা জানা যাবে। তবে এই অভিযানের কোনও নাম দেওয়া হয়নি। কারণ সোয়াট টিম অভিযানে অংশগ্রহণ করেনি। যদি সোয়াট অভিযান চালাত তাহলে অভিযানের নাম দেওয়া হত। অভিযানের নাম সোয়াট থেকেই দেওয়া হয়ে থাকে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন কৌশলগত কারণে বর্ডার এলাকায় বর্তমানে জঙ্গিরা আস্তানা গাড়ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহ হয়-কারণে হতে পারে। আবার বর্তমানে জঙ্গিদের বাসা ভাড়া পেতে সমস্যা হচ্ছে। সেজন্য সহযোগীদের থাকার জন্য অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ আস্তানা গড়ে তুলছে নিজেদের বাড়িতেই।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে নিজেদের আত্মরক্ষার্থে বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে প্রতিরোধ করতে প্রতি আস্তানাতেই প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক মজুদ রাখা হচ্ছে। এটা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

জঙ্গি শামীমের সঙ্গে নব্য জেএমবির সমন্বয়ক তামিম চৌধুরী সহযোগী হিসেবে ঝিনাইদহে অবস্থান করতো উল্লেখ করে মনিরুল বলেন, ‘সে পুরাতন জেএমবি থেকে নব্য জেএমবিতে যোগদান করে। ঝিনাইদহে আব্দুল্লাহ ছিল বড় নেতা। তার পরে হয়তো আরও দুই একজন আছে। যাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে নেতৃত্বশূণ্যতার কারণে নিচের দিকের অনেক নেতাই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে চলে আসছে।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: