সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২১ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কোম্পনীগঞ্জের কালাইরাগে বোমা মেশিনের সারি : বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদে ধস, ‘ম্যানেজ’ করতে প্রতিদিন উঠে ৫-৬ লাখ টাকা 

5maynewspic006ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
সিলেটের কাম্পানীগঞ্জে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ বোমা মেশিনের (ড্রিল ড্রেজার) মাধ্যমে পাথর উত্তোলন করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি। হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। বোমা সিন্ডিকেট কালাইরাগ গ্রামও বিলীন করে দিচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে কালাইরাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালাইরাগ ও দয়ার বাজারের বিস্তীর্ণএলাকা। কালাইরাগে সারি সারি বোমা মেশিন ।
বড় পাইপ বসিয়ে মাটির অনেক গভীর থেকে পাথর উত্তোলন করায় কালাইরাগ গ্রামটি ধসের মুখে পড়েছে। পাথরখেকোদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা স্কুল, মসজিদ ও মন্দির। বিলীন হয়ে গেছে মুুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত ‘মুক্তিযোদ্ধা আদর্শগ্রাম’। কালাইরাগ গ্রামের সংখ্যালঘুরা আজ সম্পূর্ণ দিশাহারা। পাথরখেকোদের বোমামেশিনের তান্ডবে বিলীন হয়ে গেছে তাদের অনেকের ঘরবাড়ি। বন্ধ হয়ে গেছে তাদের কচিকাঁচাদের মন্দিরভিত্তিক গণশিক্ষা ও দু’টি আনন্দস্কুল। কালাইরাগ পশ্চিপাড়ায় দীর্ঘকাল ধরে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছে প্রায় অর্ধশত হিন্দু পরিবার। গ্রামে রয়েছে তাদের দুর্গা মন্দিরসহ দুটি হিন্দু মন্দির। রয়েছে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত মন্দিরভিত্তিক সংখ্যালঘু কচিকাঁচাদের গণশিক্ষা কেন্দ্র ও দু’টি আনন্দ স্কুল। একটি ধর্মীয় মন্দিরসহ কয়েকটি বাড়ি ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। গণশিক্ষা কেন্দ্র ও আনন্দ স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষিকারা গ্রামের বাংলোঘরে গিয়ে পাঠদান করছেন শিশুকিশোরদের। বর্তমানে অবশিষ্ট আরেকটি মন্দির ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
স্থানীয় পাথরশ্রমিকরা জানান, অল্পখরচে কয়েক গুণ লাভ হচ্ছে বলে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করছেন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা। এর ফলে হাজার হাজার পাথরশ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এ অঞ্চলের ৬০ ভাগ মানুষ পাথরকেন্দ্রিক নানা কাজে জড়িত। অধিকাংশ শ্রমিক নদী ও সমতল ভূমি কেটে পাথর উত্তোলনের কাজে জড়িত থেকে জীবিকানির্বাহ করে থাকেন। কালাইরাগ এলাকার এক পাথরশ্রমিক সাথে কথা বলে জানা যায়, বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের ফলে অধিকাংশ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। কারণ বোমা মেশিনে খুব বেশি শ্রমিক লাগে না। এখন তাঁরা জীবন-জীবিকা নিয়ে মহাসংকটে পড়েছেন ।
অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে , স্থানীয় ব্যবসায়ী বিল্লাল আহমদ সম্পূর্ণ কালাইরাগ এলাকার বোমা মেশিন নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সকলকে ‘ম্যানেজ’ করার দায়িত্ব তাঁর। সেজন্য প্রতিদিন একটি মোটা অঙ্কের টাকা তাকে দিতে হয় । এব্যাপারে বিল্লাল আহমদ বলেন , ‘আমার দুটি বোমা মেশিন চলত; এখন আর কোনো বোমা মেশিন চালাই না, বোমার সাথে আমি যুক্ত নই । এসব দেখাশোনা করেন কলাবাড়ি গ্রামের প্রভাবশালী আমিনুল ইসলাম।
উপর মহলে পরিবারের যোগাযোগ থাকায় সহজেই সকলকে ম্যানেজ করে বোমা মেশিন নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রতিদিন বিভিন্ন মহলের নাম ভাঙিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা তোলা প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিল্লালের বিরুদ্ধে হত্যামামলা, ডাকাতি মামলা, চাঁদাবজিসহ বেশ কিছ মামলা রয়েছে। সে ও তাঁর পরিবার কালাইরাগ বোমা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে; যা দয়ার বাজারের তাজুল মোল্লার অফিস থেকে পরিচলনা করা হয়। আমার পরিবারের বেশ সুনাম রয়েছে এলাকায়, এই সুনাম নষ্টের জন্য তাঁরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে । কালাইরাগে বিল্লাল ও ধলাই নদীর বাংকারের পাশে আনোয়ার, রফিক ওরা নিয়ন্ত্রণ করেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, আমিনুল আগে নিয়ন্ত্রণ করলেও বর্তমানে বিল্লালের সাথে বিভিন্ন মহলের যোগাযোগ থাকায় আমিনুলকে সরিয়ে বিল্লাল কালাইরাগের সব বোমা মেশিন নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি আরও জানান, প্রতিদিন একটি বোমা মেশিন থেকে ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা তোলা হয়। ১০০ এর বেশি মেশিন চলে কালাইরাগে। ১০০ মেশিন থেকে প্রতিদিন উঠে ৫-৬ লাখ টাকা। যার ফলে বিনা বাধায় চলছে কালাইরাগের বোমা মেশিন।
কোম্পনীগঞ্জ উপজেলা র্নিবাহী র্কমর্কতা মুহাম্মদ আবুল লাইছ বলেন , আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। আরোও অভিযান চালানো হবে। কোথাও ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: