সর্বশেষ আপডেট : ১৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৩ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরে এবার মরছে হাঁস

1. daily sylhet 0-14বালাগঞ্জ সংবাদদাতা:: ‘বোরো ধান ক্ষেত করেছিলাম। সব পানি নিয়ে গেছে। ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ থেকে ঋণ নিয়ে ছিলাম দু বারে ৪০ হাজার টাকা। এ টাকা দিয়ে হাঁসের খামার দিয়েছিলাম। কিন্তু গত তিন দিনের ব্যবধানে আমার ৭শ হাঁস মরে গেছে। এখন আমি অন্ধকার দেখছি। ছেলে-মেয়ে নিয়ে কীভাবে থাকব ভেবে পাচ্ছি না।’ কান্নাজড়িত কন্ঠে কথাগুলো বললেন বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব গৌরীপূর ইউনিয়নের গোড়াপুর হাওরপারের নতুন সুনামপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম।

গত মঙ্গলবার বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদে গেলে দেখা হয় তাঁর সাথে। তিনি এমন অভিযোগ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে আসেন। নুরুল ইসলামের মতো আরো অনেকের এভাবে হাওরে হাঁস মরে গেছে। অনেকে হঠাৎ মৃত্যুর ভয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন।
বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরে সরকারি হিসেব মতে প্রায় ১৬ হাজার কৃষকের বোরো ধান অকাল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। যদিও বেসরকারি হিসেব মতে ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুন। ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ফসলের কৃষকরা সীমাহীন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অনেকে এখনো সরকারি সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেনে। হাওরপারে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দেখা মিললে তাঁরা কোনো ধরনের সরকারি সাহায্য সহযোগিতা না পাওয়ার কথা জানান। এখন মরে যাচ্ছে হাওরপারের মানুষের শেষভরসা হাঁস। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা প্রতিদিন নানা সমস্যা নিয়ে হাজির হচ্ছেন উপজেলা ভবনের সামনে। অসংখ্য অভিযোগ জমে আছে প্রশাসনের কাছে।

গোড়াপুর হাওরের নতুন সুনামপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাবার পর ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে তিনি বালাগঞ্জ উপজেলার ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ থেকে ঋণ নিয়ে ছিলেন দু বারে ৪০ হাজার টাকা। এ টাকা দিয়ে হাঁসের খামার দিয়েছিলেন। কিন্তু গত এপ্রিল মাসের ২৫ থেকে ২৭ তারিখ তিন দিনের ব্যবধানে ৭শ হাঁস মারা গেছে। কৃষক নুরুল ইসলাম এখন অন্ধকার দেখছেন। নুরুল ইসলামের মতো হাওরপারের অনেক কৃষকের হাঁস মারা গেছে।

এ বিষয়টি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে চিকিৎসা দিয়েও কোনো উপকার হয়নি। আলামত সংগ্রহ করে গত মাসের ২৪ তারিখ ঢাকায় প্রেরণ করেন। এ বিষয়ে তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হলে কী কারণে মারা গেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঢাকা থেকে রিপোর্ট আসলে বলতে পারব।
বালাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল ইসরাম বলেন, হাঁস মরার আলামত ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর বলা যাবে কেন মারা গেল।
বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য চলছে এবং পাঠানো হচ্ছে। হাঁস মরার অভিযোগ জেনেছি। লিখিত আবেদন দিতে বলেছি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: