সর্বশেষ আপডেট : ২৪ মিনিট ১ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২১ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেট অগ্রগামীতে ১৩৬ টি জিপিএ-৫, উচ্ছ্বসিত ছাত্রীরা

18318096_10207179232518145_574927913_o

 

 

 

বিশেষ প্রতিবেদক:: সবে মাত্র দুপুর সাড়ে ১২টা। মাথার উপর সূর্যের তাপদাহ আর প্রচন্ড গরমে অস্থির জনজীবন। এরই মধ্যে ক্যাম্পসে জড়ো হতে শুরু হলো বালিকার দল। একটি নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষায় সবাই। বিশাল সবুজ মাঠের বৃক্ষতলায় যেন বসেছে অভিভাবকদের মিলনমেলা। ফলপ্রার্থী শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের চোখে মুখে উৎকন্ঠার ছাপ। ক্যাম্পাসের দক্ষিণ দিকে ফলাফল ঘোষণা মঞ্চ প্রস্তুত। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ২টা বাজতেই সকলের চোখ পড়ল প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের পথে। ২টা ৫ মিনিটে ফলাফলপত্র হাতে বাইরে আসেন সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক বাবলী পুরকায়স্থ। প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকমন্ডলীকে পাশে রেখে সহকারী শিক্ষক শাহ মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান মাইকে ঘোষণা দেন, এখনই এসএসসির ফলাফল দেয়া হবে। মুহূর্তে মঞ্চের সামনে উপস্থিত হন শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ অপেক্ষারত মিডিয়া কর্মীরা। এরপর সাফল্য গাথা ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী শিক্ষক রাফিজা বেগম। একে একে ঘোষণা করেন জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের নাম। বাঁধভাঙা আনন্দ উচ্ছ্বাসে পুরো ক্যাম্পসের দখল নেয় মেধাবীরা।

বৃহস্পতিবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিন এমন পরিবেশের সৃষ্টি হয় সিলেট সরকারি অগ্রগামী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গনে।
এবছর এ বিদ্যালয় থেকে মোট ২৭৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করে ২৬৭জন এবং ফেল করে ৮জন। পাসের হার ৯৭.০৯ শতাংশ। তবে গতবারের চেয়ে এবার জিপিএ বেড়েছে ২৩টি। গত বছর পাসের হার ছিল ৯৫.০৩ শতাংশ।
কৃতকার্য ২৬৭ জনের মধ্যে এ প্লাস পেয়েছে ১৩৬ জন, এ গ্রেড পেয়েছে ১১৩ জন, এ মাইনাস পেয়েছে ১৫ জন এবং বি গ্রেড পেয়েছে ৩ জন। বাকপ্রতিবন্ধী তিমা ইসলাম বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ গ্রেড এবং জয়া বর্ধন মানবিক বিভাগ থেকে এ মাইনাস পেয়ে কৃতকার্য হন। এ দুই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ফলাফলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অভিভাবকসহ শিক্ষকমন্ডলী। অকৃতকার্যদের মধ্যে রয়েছেন বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন, মানবিক বিভাগে ২ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ১ জন।

গতবছর এসএসসি পরীক্ষায় ২৯৩জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করে ২৮৮ জন। এর মধ্যে এ প্লাস পায় ১১৩ জন, এ গ্রেড পায় ১৫৭ জন, এ মাইনাস পায় ১৫ জন এবং বি গ্রেড পায় ৩ জন। অকৃতকার্য হয় ৫ জন।

গতকাল ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবলী পুরকায়স্থ বলেন, লেখাপড়ায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং শিক্ষকমন্ডলীর পরিশ্রমের ফলে এধরনের ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে। আগামীতে আরো ভালো ফলাফলের জন্য তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সুদৃষ্টি কামনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক নুসরত হক, মমতাজ বেগম, সহকারী শিক্ষক শাহানা বেগম, সুলতানা রোকেয়া পারভীন, সুলতানা ইয়াছমিন, মুহিবুর রহমান, মোকাররমা পারভীন, শরীফা খাতুন ও সমিরন দাস।
গতকাল ফলাফল ঘিরে মেয়েদের এই প্রতিষ্ঠানে অর্জিত ফলাফলে সন্তুষ্ট হয়ে বালিকারা আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেন। হাত তুলে ভি চিহ্ন দেখিয়ে সাদা পায়রার মতো উড়ে উড়ে ফটোসেশনে বন্দি করেন হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্ত। কিন্তু সন্তুষ্টজনক ফলাফল না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। এসময় অন্য শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ শিক্ষকরা শান্তনা দেন তাদের।
এ প্লাসপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন নুসরাত জাহান জেসিকা, স্বর্ণা দেব, শান্তনা দাস মৌ, মারিয়া জাহান মমো, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, তাহিয়া তাহসিন, সুসমিতা দাস, নিঝুম রায় মিম, মারিয়ামা সুলতানা, নাঈমা ফেরদৌস দিনা, জান্নাতুল ফেরদৌসী মুন, মণীষা দাস, সাদিয়া জান্নাত, জাকিয়া তাবাসসুম, ঋতুপর্ণা দাস, পরমা চৌধুরী, লুবাবা সাফা, নুসরাত জাহান মালিহা, সুমাইয়া বিনতে এমদাদ, তনিমা দেব, আনিকা আনিস মীম, সাদিয়া জান্নাত চৌধুরী, ফাতিহা নুসরাত, নূর-ই-সারাহ, মোছা. রুবাইয়া আক্তার পূরবী।
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী মারিয়ামা সুলতানার বাবা আবুল কালাম আজাদ ও মা সুলতানা রাজিয়া বলেন, মেয়েকে উচ্চশিক্ষা দিয়ে প্রকৌশলী বানাতে চান। সে নিয়মিত ৫-৬ ঘন্টা লেখাপড়া করে এই ফল অর্জন করে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: