সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২৩ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সংবাদ সম্মেলন: ওসমানীনগরে এক সংখ্যালঘু পরিবারকে ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক হয়রানির অভিযোগ

unnamed (5)ওসমানীনগরে এক সংখ্যালঘু পরিবারের মূল্যবান ভিটে মাটি দখলে নিতে ওই পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও তার আত্মীয় স্বজনরা। বাড়ির আঙ্গিনায় জবাই করা গরুর মাথা ও আবর্জনা ফেলে রেখে ধর্মীয়ভাবে আঘাত দেওয়া হচ্ছে পরিবারটিকে। প্রভাবশালী এই পরিবারের নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির পুরুষ সদস্যদেরকে কাজে না গিয়ে বাড়ি পাহাড়া দিতে হয়। বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন সিকন্দরপুর পশ্চিমগাঁওয়ের প্রমেশ সূত্রধরের পুত্র প্রণধীর সূত্রধর। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রণধীর সূত্রধরের বোন ঝুমা সূত্রধর।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তারা ওসমানী নগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের অর্ন্তগত গোয়ালাবাজার সিকন্দরপুর পশ্চিম গাঁওয়ের এক কাঠমিস্ত্রি পরিবারের সদস্য। পূর্ব পুরুষ থেকে প্রণধীর সূত্রধরের পরিবারের সদস্যরা কাঠমিস্ত্রি পেশার সাথে জড়িত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা পাকিস্তানী হানাদারসহ স্থানীয় রাজাকার বাহিনীর লাঞ্চনার শিকার হয়েছিল। আর এখন অত্যাচারের শিকার হতে হচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্রের দ্বারা। ১৯৭১ সালে থেকেই আশেপাশের কিছু লোকের দৃষ্টি পড়ে গ্রামের কাঠমিস্ত্রি পরিবারগুলোর প্রতি। এই চক্রের অত্যাচার জুলুম সহ্য করতে না পেরে অনেকেই ভিটেমাঠি ছেড়ে পালিয়েছেন সেই সময়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত তারা রক্ষা পান। কিন্তু ১৯৮৪ সাল থেকে নুতন করে তাদের মূল্যবান প্রায় দেড় কিয়ার জমিটুকু আত্মসাৎ করতে মরিয়া ওঠে চক্রটি। সে সময় স্থানীয় মুরব্বিদের মাধ্যমে রক্ষা পায়।

লিখিত বক্তব্যে প্রণধীর বলেন, ২০১৫ সাল থেকে তার পরিবারের প্রতি নুতন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ইংল্যান্ড প্রবাসী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী দেশে এসে উমরপুর ইউনিয়ন পরিষদেরর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিপুল পরিমান অর্থ খরচ করে তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে তাদের উপর নির্যাতন বেড়ে যায়। গোলামা কিবরিয়া চৌধুরী তাকে বাড়িতে কাঠের কাজ করানো কথা বলে ডেকে নিয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। রাজি না হওয়ায় বাড়ির উঠানে কখেনো জবাই করা গরুর মাথা, কখনো ভুড়ি ফেলে ধর্মকে আঘাত করার মাধ্যমে তাদেরকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন। চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া চৌধুরীর মামা ফয়জুল হক ও তার মামাতো ভাই ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য মাহফুজুল হক আখলু গ্রামের কিছু আত্মীয় স্বজনকে নিয়ে এই সংখ্যালঘু পরিবারের উপর নানারকম অত্যাচর নির্যাতন শুরু করেন। পূজোর সময় চেয়ারম্যানের বাড়ির ছাদ থেকে গুলি করা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করার মতো ঘটনা ঘটানো হয়। বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকলে অসুস্থ মহিলাদের উপর নানাভাবে নির্যাতন করা হয়। এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদেরকে রোজগার বন্ধ রেখে ভিটে পাহাড়া দিতে হয়। গত ৩০ এপ্রিল গোয়ালাবাজার থেকে ফেরার পথে গোলাম কিবরিয়া ও আকলু এবং তাদের সহযোগীরা প্রণধীরকে খুন করার চেষ্টা করে। তবে প্রাণে রক্ষা পেলে এ বিষয়ে তিনি ভীত হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে তিনি ওসমানীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মিনা সূত্রধর, আরতী সূত্রধর ও প্রমেশ সূত্রধর। – বিজ্ঞপ্তি

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: