সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২৩ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘লিল্লাহ (খয়রাতি) চাই না, কাজ এবং সস্তা দামের চাল চাই’

unnamed (2)জালাল আহমদ, বড়লেখা:: বৃষ্টি থেমেছে। পানি কমছে। জনদুর্ভোগ বাড়ছে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর নির্ভর ৬টি উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের। হাকালুকি হাওরপারের বয়োবৃদ্ধরা ধান পচে যাওয়ার কারণ হিসেবে বৃষ্টিকে দায়ী না করে পানি নিষ্কাশনকে দায়ী করছেন। বয়োবৃদ্ধ জেলে সম্প্রদায়ের লোকজন মাছ মরে যাওয়ার জন্য ধানের পচনকে শুধু দায়ী না করে বরং উজান থেকে আসা দুর্গন্ধযুক্ত জলরাশি সুনাই নদী দিয়ে হাকালুকি হাওরে মিশে যাওয়াকেই দায়ী করছেন। তাদের ধারণা, ধান ডুবে যাওয়ায় পানির অভ্যন্তরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। সম্ভবত এই তাপমাত্রার কারণে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উপরে ভেসে ওঠে, ঝড়ে প্রবল ঢেউয়ের আছাড়ে হাকালুকিতে মাছের মড়ক দেখা দেয়।

এদিকে হাওরে পানিতে এখন মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। মাছ ধরতে পারছে না হাওরপারের জেলেরা। দিনমজুরের কাজ নেই। চালের দামও আকাশচুম্বী। এ কারণে বেকায়দায় পড়েছে নি¤œআয়ের মানুষজন। সরকার খয়রাতি চাল, অল্পদামের চাল এবং নগদ টাকা বিতরণ করছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। হাওর তীরবর্তী ইসলামপুর, হাল্লা, খুটাউরা, বাড্ডা, মুর্শিবাদকুরা, কটালপুর, গগড়াসহ অন্যান্য গ্রামের বাসিন্দাদের সাথে আলাপকালে শাহীন মিয়া, ময়না মিয়া, মনোহর আলী, সোনাহর আলী, আব্দুল খালিক, সাবেক ইউপি মেম্বার মানিক বিশ^াস, এনাম উদ্দিন তাদের অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, তারা লিল্লাহ (খয়রাতি) চান না, তারা কাজের ব্যবস্থা এবং স্বল্পদামের চাল আগামী বোরো মওসুম পর্যন্ত চালু রাখার দাবি জানান। ১০ টাকার পরিবর্তে ৫ টাকা মূল্যে চাল দিলেও মানুষের হাতে টাকা না থাকলে সে চাল ক্রয় করতে পারবে না বলে তারা জানান। এর পরিবর্তে কাজের দুর্যোগ মওসুমে কাজ দিলে শ্রমের বিনিময়ে পাওয়া টাকায় চাল ক্রয় করতে পারবে তারা।

হাওরপারের হাল্লা গ্রামের পোনা সংগ্রহকারী আব্দুল খালিক বলেন, বর্তমানে হাওরে কোনো মাছেরই পোনা পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, পানি দূষিত হয়ে যাওয়ায় মাছের ডিম নষ্ট হওয়ার কারণে মাছের বংশবিস্তার চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আগামী মৌসুমে হাওরে মাছের সংকট হবে বলে স্থানীয় জেলেরা আশংকা করছেন।
তালিমপুর ইউনিয়নের খুটাউরা গ্রামের ইউপি সদস্যা শিখা রাণী বিশ^াস, পশ্চিম গগড়া গ্রামের সুজিত দাস, শিক্ষক অকিল দাস এ প্রতিনিধির মাধ্যমে সরকারের কাছে আগামী বোরো ধান না ওঠা পর্যন্ত সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি হাওর সংলগ্ন গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে অধিকহারে বিতরণের জোর দাবি জানান।

অপরদিকে হাওরপারের গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে প্রচুর গোখাদ্য সংকট। অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ও গোখাদ্য সংকটের কারণে অনেকে গরু-মহিষ বিক্রি করে ফেলেছেন। তবে অনেকে নিজের একমাত্র সম্বল গরু বাঁচাতে হাওরে ডুবে থাকা অর্ধপচা ধান মাড়াই করে খড় শুকাতে দেখা গেছে। মুর্শিবাদকুরা এলাকায় ধান মাড়াই করতে থাকা আব্দুল খালিক জানান, নিজের শত কষ্টের বিনিময়ে হলেও শেষ সম্বল ৪/৫টি গরু বাঁচাতে হবে তাকে। এই দুর্যোগ মুহূর্তে গরুগুলো বিক্রি করে দিলে ভবিষ্যত কর্মসংস্থান চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। কেননা গরু বিক্রি করলে ভবিষ্যতে আর ক্রয় করতে পারবো না।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ধান ডুবে যাওয়ার একমাত্র কারণ শুধু বৃষ্টি নয়। পানি নিষ্কাশনের সকল ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দ্রুতগতিতে পানি বাড়ে। তারা আরও বলেন, হাকালুকি হাওরের অধিকাংশ পানি দ্রুতগতিতে ইলাশপুরের ঢালা (কুলাউড়া-সিলেট রেলপথে ফেঞ্চুগঞ্জের প্রায় তিন মাইল দক্ষিণে রেলওয়ে ব্রিজ) ও ফেঞ্চুগঞ্জের পূর্ব পাশে অবস্থিত পিটাইটিকর দিয়ে নেমে যেত। প্রভাবশালীরা ইলাশপুরের ঢালার উজানে নালা-খাল জবরদখল করে ভরাট, পিটাইটিকরের পানির গতিপথ সংকীর্ণ করে দেওয়ায় পানি প্রবাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আর এ কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমে হাওরে ধানের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: