সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৫২ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জৈন্তাপুর ঘুরে গেলেন সর্পরাজ ইব্রাহীম আলী

unnamed (1)মীর মো: শোয়েব আহমদ:: সর্পরাজ ইব্রাহীম আলী ৩০ বছরের সাধনা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সাপ ধরা ও সাপ পোষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক লতা-পাতা এবং গাছ-গাছড়া দিয়ে বিভিন্ন রোগের ঔষধ তৈরি করে মানুষের উপকারও করে আসছেন।

তার নিজ হাতে তৈরি করা ঔষদ সেবন করে অনেক বিশিষ্টজন সুফল পেয়েছেন। বনজ ঔষদের গুণাবলী ও সাপ সর্ম্পকে মানুষের অহেতুক ভীতি দূর করার জন্যই তার পিতা তার ওস্তাদের নির্দেশে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। প্রথমাবস্থায় পিতার হাত ধরেই কাজ শিখেন এবং ২০ বছর বয়সে পূর্ণাঙ্গভাবে এ কাজে নিয়োজিত হন। তার সাথে তার ছেলে মাইনুলও সেভাবে কাজ করছে।

দীর্ঘদিন সাধনা করে তিনি পৈতিক সূত্রে পাওয়া এই পেশায় সফলতা অর্জন করেছেন বলে দাবী করেন সর্পরাজ ওঝা ও কবিরাজ ইব্রাহীম আলী। ইদানিং বেশ কিছু দিন যাবৎ ইব্রাহীম আলী সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
অফিস কিংবা বাসা বাড়ীতে সাপের উপদ্রবের সন্ধান পেলেই সাথে সাথে ছুটে গিয়ে সাপ ধরে আনছেন। তাছাড়া বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দুধরাজ, আলদ, মাছুয়া আলদ, নগাই আলদ, কেরেট আলদ, সূর্যমুখী ও পঞ্চনাগসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিষাক্ত সাপ ধরেছেন। সাপ ধরতে তাকে সহযোগীতা করেন তারই ছেলে সর্পরাজ ও ওঝা আল-মামুন এবং মাহিদুল হোসেন।

ছেলেদেরকে নিজের মতো করে এ পেশায় নিয়োজিত করার কথা ব্যক্ত করলেন ইব্রাহীম আলী। কারও বাসা বাড়ীতে সার্পের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে থাকলে তার ব্যক্তিগত মোবাইল (০১৭৪৭ ৩১৫৮৮১) যোগাযোগ করার জন্য বিনয়ের সাথে অনুরোধ করেন সর্পরাজ ইব্রাহীম আলী।
এদিকে সর্পরাজ ইব্রাহীম আলী সাম্প্রতিককালে উপজেলার দাশপাড়া জিতেন দাশের বাড়ি, কাশিকাপন সুন্দর আলী ও ইলাশপুর ডাঃ আলনিুরের বাড়ি থেকে সাপ ধরেন। সাপগুলো বাড়ির মালিকের গরুর দুধ, হাঁস-মুরগী খেয়ে ফেলত। তেরহাতি গ্রামের রুন্টু দের বাড়ি থেকে একটি সাপ ধরেন। যার ফলে তার পরিবারের সদস্যরা সাপের কবল থেকে রেহাই পান।

ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের তেরহাতি গ্রামে রুন্টু দের বাড়িতে সাপ ধরাকালে সর্পরাজ ও ওঝা ইব্রাহীম আলী জানান, মানুষের উপকার করাই তার মূল লক্ষ ও উদ্দেশ্য। তার দাদা ছিলেন ঢাকার সাভার এলাকার বাসিন্দা এবং বাবা তাহের আলী যৌবনকালে পাড়ি জমান ভারতের আসাম রাজ্যে। সেখানে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান এবং গুণ মন্ত্র সাধনা করে এক সময় আসাম এলাকায় বিয়ে করেন।
ছোট বেলায় ইব্রাহীম আলীকে আসামে রেখে তার বাবা-মা বাংলাদেশে চলে আসেন। ১৮ বছর বয়স হওয়ার পরে সেখানে থেকে বিভিন্ন ওস্তাদের মাধ্যমে গুণ-মন্ত্রবিদ্যায় পারদর্শী হন ইব্রাহীম আলী। এরপর তার ওস্তাদের এবং বাবার নির্দেশে দেশে চলে আসেন। ভারত ও বাংলাদেশে তার কাজে স্বীকৃতি স্বরূপ অনেক সরকারী-বেসরকারী প্রশংসাপত্র অর্জন করেছেন। এমন কী ভারতের রাজ্য সরকারও তাকে প্রশংসাপত্র দিয়েছেন বলে দাবী করেন তিনি। বর্তমানে তিনি স্ত্রী-সস্তান নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামে বসবাস করছেন। সাপ সর্ম্পকে ইব্রাহীম আলী বলেন- কিছু সংখ্যক বিষধর সাপ রয়েছে এই সাপগুলো ছোবল দিয়ে মানুষের মৃত্যু হতে পারে এবং সাথে সাথে যথাযথ চিকিৎসা করালে বাঁচানোও সম্ভব হয়। সাপের শরীরে আঘাত না পেলে সাধারণত মানুষকে ছোঁবল দেয় না।

গ্রামাঞ্চলের প্রত্যেক বাড়িতেই বিভিন্ন প্রজাতির সাপ আছে। এর মধ্যে কিছু সাপ আছে এসব সাপকে ‘বাড়ীর রাখাল’ বলা হয়। বাড়ি রাখাল সাপকে সহজে ধরা বা মারা যায় না। সাপ ধরতে কোনো সমস্যা হয়নি এমন প্রশ্নের উত্তরে ইব্রাহীম আলী বলেন- বিষধর সাপগুলোকে ধরতে অনেক সময় নানা বিপত্তির মধ্যে পড়তে হয়। সাপকে যখন আমরা মন্ত্র দিয়ে ডাক দেই তখন অনেক সময় সাপের আগুনের ন্যায় নানান কিছু বের হয়। এর পরেও আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাপ ধরি। সাপ ধরলে কোনো টাকা প্রয়সা দিতে হয় কি না? জানতে চাইলে ইব্রাহীম আলী বলেন- এতে বকসিস হিসেবে লোকজন যা দেয় তাতেই আমি খুশি। কারণ মানুষের সেবা করাই আমার প্রধান কাজ। এটা আমার ওস্তাদের নির্দেশ। সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকেই পৃথিবীর সকল প্রাণীকে মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রাণীরা ইচ্ছে করে মানুষের ক্ষতি করে না। বরং মানুষই নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন প্রাণীকে ধ্বংস করছে। সাপকে বিষাক্ত মনে করা হলেও সাপ ইচ্ছে করে মানুষের ক্ষতি করতে চায় না।

তবে সাপ কিন্তু মানুষের চাইতে বিষাক্ত নয় কারণ সমাজের অনেক মানুষ আছে হিংস্র জন্তুর চেয়েও তারা জঘন্যতম কাজ করে থাকে। সাপ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি মানুষের জন্য উপকারী বিভিন্ন ভ্যাকসিন তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা প্রালন করছে। তাই সাপকে শত্রু মনে না করে বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: