সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ওসমানীনগর-বালাগঞ্জে নির্বিচারে শিকার হচ্ছে মা ও পোনা মাছ

3maynewspic2017__007ওসমানীনগর সংবাদদাতা ::
আগাম বন্যাকে পুঁজি করে বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরের সর্বত্র অবৈধ কারেন্ট জাল, বেড়িজাল ও মশারি জালের মাধ্যমে মৎস্য আহরণ করায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ। এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে এ এলাকায় মিঠাপানির মাছের অকাল দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আগাম অত্যাধিক বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জলাশয়গুলোতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার মাছের প্রজনন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই সুযোগে এক শ্রেণির মৎস্য ব্যবসায়ী বিভিন্নভাবে অবাধে নিধন করে যাচ্ছে মা মাছ ও পোনা মাছ।
গতকাল রোববার ওসমানীনগর উপজেলা মৎস্য প্রশাসনের উদ্যোগে ওসমানীনগরের মুক্তারপুর হাওরে অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ২শ মিটার মশারি ও বেরিজাল উদ্ধার করে জনসম্মুখে পোড়ানো হয়। অভিযানে অংশ নেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস সালাম, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা ফরিদ আহমদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।
সরেজমিনে দুই উপজেলার প্রায় ২৫টি হাওরের মধ্যে কয়েকটি হাওর ঘুরে দেখা গেছে, টানাজাল, বেরিজাল ও মশারিজালসহ কারেন্টজাল দিয়ে অবাধে নিধন করা হচ্ছে ডিমওয়ালা মাছ ও রেনু পোনা মাছ। এ মাছ শিকার করা অপরাধ-এ ব্যাপারে ধারণা নেই মাছ শিকারিদের। অনেকে আবার জেনেও না জানার ভান করে মাছ শিকার করছেন।
স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, হাওরগুলোতে যেভাবে পোনা মাছ নিধন চলছে, এভাবে কয়েক বছর চলতে থাকলে হাওর এলাকাতে দেশি প্রজাতির অনেক মাছ আর দেখা যাবে না। হাওরের বুক জুড়ে তাকালে পোনামাছ ও মা, মাছ নিধনকারীদের চোখে পড়ার দৃশ্য নিত্যনৈমত্তিক দাঁড়িয়েছে। এতে দেশী মাছ এখন বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলার একাধিক বাজারে কারেন্টজাল দেদারসে বিক্রি হলেও প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার। অবৈধ কারেন্টজালের দোকানগুলোতে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা না করায় হাওরগুলোতে অবৈধ জালের ছড়াছড়ি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে , দুই উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্রগুলোতে একাধিক দোকানে নিষিদ্ধ কারেন্টজাল বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতারাও এসব জাল ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। এসব দোকানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কারেন্ট জাল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিক্রি করতে দেখা গেছে। কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকারের কারণে মাছের বংশ বিস্তার শূন্য হয়ে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে কারেন্ট জাল বেশি বিক্রি হয় বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার এলাকার জাল ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপজেলার সবর্ত্র এ নিষিদ্ধ জালের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে মাছ শিকারিরা গোয়ালাবাজারে এসে কারেন্ট জালসহ নিষিদ্ধঘোষিত জালগুলো ক্রয় করে নিয়ে যান।
ওসমানীনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অবৈধভাবে মাছ শিকারের তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল রোববার ওসমানীনগরের মুক্তারপুর হাওরে অভিযান চারিয়েছি। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সবগুলো হাওরে অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা কারেন্ট জালের ব্যবসা করছে খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বালাগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নির্মল চন্দ্র বণিক বলেন, মা ও পোনা মাছ রক্ষায় আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছি। উপজেলার হাওরগুলোতে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার হয়ে থাকলে খোঁজ নিয়ে অভিযান চালানো হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: