সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ১০ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পিট নয় হাকালুকি হাওরে ‘লিগনাইট কয়লা’

sust-Coal20170501111331শাবি সংবাদদাতা:: সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের হাকালুকি হাওরে সন্ধান পাওয়া কয়লা পিট (কালো) নয়, লিগনাইট (লালচে)। এ কয়লায় ১ শতাংশ সালফার (সালফার যত কম, পরিবেশের ক্ষতি তত কম) পাওয়া গেছে। এ অঞ্চল থেকে কয়লা উত্তোলন করতে পারলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হবে।

প্রাথমিক গবেষণায় এমনটাই দাবি করছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (পিএমই) সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম ও তার তত্ত্বাবধানে গবেষণাকার্যে নিয়োজিত স্নাতক শেষ বর্ষের একদল ছাত্র।

তাদের গবেষণা শিরোনাম হলো ‘জিওকেমিক্যাল অ্যান্ড পেট্রোফিজিক্যাল অ্যানালাইসিস অব কোল ফ্রম হাকালুকি হাওর’। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ (জিএসবি) প্রথম এ কয়লা খনির আবিষ্কার করে। তাদের তথ্য অনুযায়ী এই খনিজ সম্পদের মজুদের পরিমাণ প্রায় ২৮২ মিলিয়ন টন (আর্দ্র), যা শুকনা অবস্থায় হবে ১১২ মিলিয়ন টন। এই কয়লার পুরুত্ব ১-১১ মিটার।

ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউলা উপজেলা অংশের চাতলা বিলে মাটির ০.৫ থেকে ৭ মিটার নিচে পাওয়া কয়লাটির নমুনার মৌলিক উপাদানগত ও রাসায়নিক বিশ্লেষণের কাজ করছেন তারা। বিশ্লেষণের মধ্যে রয়েছে ময়েশ্চার কন্টেন্ট (আর্দ্রতা) নির্ণয়, অ্যাশ কন্টেন্ট নির্ণয়, ক্যালরিক ভ্যালু নির্ণয় (শক্তি উৎপাদন), হিটিং ভ্যালু নির্ণয় (জ্বলার ক্ষমতা) ও এলিমেন্টাল অ্যানালাইসিস ( কী কী উপাদন আছে)।

তিনি দাবি করেন, বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে- প্রাপ্ত কয়লাটি লিগনাইট (কয়লার প্রকারভেদ,লালচে বর্ণের)। যদিও জিএসবি বলছে এ কয়লাটি হলো পিট (কয়লার আরেকটি প্রকারভেদ, কালচে বর্ণের)। কয়লার আরও প্রকারভেদের মধ্যে রয়েছে সাব বিটুমিনাস, বিটুমিনাস (বড় পুকুরিয়া কয়লা খনিতে পাওয়া গেছে)।
প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, গভীরতা কম হওয়ায় কয়লা উত্তোলনের পর জমিগুলো পুনরায় ব্যবহার করা যাবে (মৎস চাষ)। এটি গৃহস্থালি কাজ ও বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার উপযোগী পিটের (কয়লার আরেকটি প্রকারভেদ) তুলনায় অধিক গুণগত মানের কয়লা, যা নমুনা ভেদে প্রতি কেজিতে সাড়ে ৫ হাজার কিলোক্যালরি পর্যন্ত শক্তি পাওয়া গিয়েছে।

গবেষকদের দাবি, ওই অঞ্চল থেকে সংগৃহীত নমুনা (লিগনাইট) পরীক্ষা (বিসিএসআরআই কর্তৃক পরীক্ষিত) করে শতকরা ১ ভাগেরও নিচে সালফার (সালফার যত কম হবে পরিবেশের ক্ষতি কম) ও ৩৫ ভাগ পর্যন্ত কার্বন পাওয়া গেছে (কাবর্ন বেশি হলে কয়লা জ্বলে বেশি)। চলমান গবেষণা আরও অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ও আশানুরূপ ফলাফলের ব্যাপারে গবেষকদল আশাবাদী। তবে শুধুমাত্র একটি অঞ্চল নয় পুরো হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা দরকার। যা অনেক ব্যয় সাপেক্ষ। সেক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে বড় আকারের অর্থ বরাদ্দ দিলে গবেষণা কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।

গবেষণা পত্রে উল্লেখ করা হয়, ওই অঞ্চলে (হাকালুকি) ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার বছর আগে জলারবন (সোয়াম্প ফরেস্ট) এর অস্তিত্ব ছিল। কালের পরিক্রমায় নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চল মাটির পাললিক শিলাস্তরের নিচে চাপা পড়ে ধাপে ধাপে রূপান্তরের মাধ্যমে (প্রথমে পিট ও পরে উন্নতমানের কয়লা) এ মজুদের সৃষ্টি হয়ে থাকে। শুধু গৃহস্থালি কাজ, তাপ উৎপাদন ও ইটভাটায় জ্বালানী হিসেবেই নয় বরং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্যভাবে কয়লা ব্যবহার প্রচলিত রয়েছে সারা বিশ্বে।

ড. মো. শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, জামালগঞ্জ (গভীর), ফুলবাড়ি(অগভীর) এই দুই কয়লা খনির চেয়ে হাকালুকি হাওর থেকে কয়লা উত্তোলন করলে পরিবেশের খুব বেশি ক্ষতি হবে না। তাছাড়া এ কয়লার মান অনেক ভালো এবং হিটিং ভ্যালুও (জ্বলার ক্ষমতা) বেশি।

উল্লেখ্য , ড. মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এ গবেষণা দলে আছেন পিএমই বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র নওরোজ কোরেশী, এস.এম.মোহাম্মদ উল্লাহ, আতিকুর রহমান, নাজিবুল আশফাক, ত্রিশান দেব অভি ও আব্দুল্লাহ আল ফাত্তাহ।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: