সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৫২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মহান মে দিবস: ‘জীবন যুদ্ধে চা শ্রমিকরা’

1. daily sylhet 0-6মাধবপুর সংবাদদাতা:: দুটি পাতার একটি কুঁড়ি। এ নিয়েই চা শ্রমিকরা স্বপ্ন দেখেন। অন্য বস্ত্র, বাসস্থান,শিক্ষা, চিকিৎসা সব কিছুই চা জীবন কে ঘিরে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চা বাগানেই শ্রমিকদের কাটে সারাদিন। চা বাগানে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রাখেন নারী চা শ্রমিকরা। পুরুষ চা শ্রমিকরা মৌসুম ভেদে খাল খনন, গাছ পরিচর্চা ইত্যাদি কাজ করেন। নারী চা শ্রমিকরা পাতা উত্তোলনের কাজ করেন সবচেয়ে বেশি। চা বাগানে কাজ করার পাশাপাশি বাড়ির কাজও তাদের সামাল দিতে হয়।

কাক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে নারী চা শ্রমিক সকালের রান্না ও ঘরের কাজ শেষ করে রুটি আর লাল চা খেয়ে ৭ টা থেকে ৮ টার মধ্যেই বাগানের কাজে বের হয়ে পরেন। ৯ টার সাড়ে ৯ টার মধ্যে চা বাগানের কাজে যোগদেন। দুপুরের খাবার চা বাগানের ভিতরে বসেই সেরে নেন। চা শ্রমিকদের দুপুরের খাবার বলতে যা বোঝায় বোতল ভর্তি লাল চা, আটার রুটি, মুড়ি,পেয়াজ, সিদ্ধ আলু, ও কচি চা পাতা।

একজন মানুষের সুষম খাবার বলতে যা প্রয়োজন চা শ্রমিকদের ভাগ্যে তা জুটে না। দুপুরের খাবার খেয়ে আবার কাজে নেমে পড়ে। বিকেলে ওজন শেষ করে ক্লান্ত মন দেহ নিয়ে শ্রমিকদের বাড়ি ফিরতে হয়। নারী চা শ্রমিকরা বাড়ি ফেরার সময় জ্বালানি লাকড়ি ও গরুর ঘাস মাথায় বোজাই করে নিয়ে আসে। বাড়িতে এসে আবার শুরু হয় রান্না বান্নার কাজ।

যেটুকু ঘরে থাকে তা খেয়েই রাত পার করেন। রাতের খাবার বলতে সামান্য ভাত, কেউ বা রুটি , কেউ বা চাল ভাজা । মাংস , মাছ চা শ্রমিকরা নিয়মিত খেতে পারে না। এছাড়া মাছ মাংস রান্না করতে যে সব উপকরনের প্রয়োজন এ গুলো তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

কোন শ্রমিক জটিল কোন রোগে আক্রান্ত হলে বাগানের সামান্য ট্যাবলেট , ক্যাপসুল তাদের শেষ সম্বল। রোগের বিবরন শুনে কম্পাউন্ডার কিছু ঔষধ দিয়েই দায় সারেন।

প্রতিটি বাগানে চা শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল থাকলেও কোন বাগানেই পর্যাপ্ত পরিমান লোকবল ও ভাল চিকিৎসক নেই । চা শ্রমিকদের আবাসন ব্যবস্থা খুবই দূর্বল। এছাড়া পানিয় জল, স্যানিটেশন ব্যবস্থাও স্বাস্থ্য সম্মত নয়। চা বাগান এলাকায় জমি জটিলতার কারনে অনেক চা বাগানেই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই।

বাগান পরিচালিত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা খুবই নিম্ন মানের। তবে গত কয়েক বছর যাবত চা বাগানে ব্র্যাক কতৃর্ক পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো চা শ্রমিকদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারে নতুন দিগন্তের সুচনা করেছিল। প্রতিটি পাড়া মহল্লায় গড়ে উঠেছিল ব্র্যাক প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু হঠাত করে তহবিল সংকটের অজুহাতে এই শিক্ষা ব্যবস্থা সকুংচিত হয়ে পরে। তাই অনেক চা শ্রমিক সন্তান এখন প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক রাম ভাজন কৈরি জানান, দ্বি পাক্ষিক সমঝোতার মাধ্যমে যে সব চুক্তি হয় এগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ার কারনে চা শ্রমিকরা অবহেলিত। হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও চট্রগ্রাম এবং তেতুলিয়া যে কটি চা বাগান রয়েছে। কোন বাগানেই চা শ্রমিকদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও বিদ্যালয়ের অভাব রয়েছে।

বর্তমানে একজন শ্রমিক মাত্র ৮৫ টাকা দৈনিক হাজিরা পাচ্ছেন। যা দিয়ে তাদের পরিবার পরিজন ভাল ভাবে দিন যাপন করতে পারছে না। তাই মলিক পক্ষের নিকট চা শ্রমিকদের বেতন ও তলব স্বাস্থ্য , শিক্ষা স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য দাবি করা হয়েছে।

এবারের শ্রম দিবসে আমাদের দাবি গুলো জোড়ালে ভাবে উত্তাপন করা হবে।

মাধবপুর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা সোলায়মান মজমুদার বলেন, চা শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নে বিনা মূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরন, চা শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষা বিস্তারে উপবৃত্তি ছাড়াও তাদের কে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন সরকারি অনুদান দেওয়া হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: