সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৫ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২১ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গোলাপগঞ্জে হাওরজুড়ে দুর্গন্ধ, ভেসে উঠছে মরা মাছ

unnamedজাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ:: ধান, গরু সব গেল। একমাত্র ভরসা ছিল হাওরের মাছ। ফসল হারিয়ে গরু বিক্রি করে হাওরাঞ্চলের কৃষক যখন মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করার স্বপ্ন দেখছিল তখন সেই মাছও মরে মরে পানিতে ভেসে উঠছে আর অসহায় কৃষকের স্বপ্নকে পরিণত করছে দুঃস্বপ্নে। কৃষি কাজে ব্যবহৃত কীটনাশক ও সার পানিতে মিশে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গিয়ে এমনটি হতে পারে। একদিকে বিকল্প কর্মসংস্থান ও খাদ্যের অভাব অন্যদিকে মাছের এমন বিপর্যয় হাওরপাড়ের মানুষকে এক নতুন দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এদিকে উপজেলার হাওরপারের লোকজনদের হাওর ও বিলের দূষিত পানির মৃত মাছ না খাওয়ার জন্য সর্তক করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।বর্তমানে জনসচেতনতায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় চলছে মাইকিং।চৈত্রের অকাল বন্যায় উপজেলার সবচেয়ে বড় হাওর বাঘা হাওর ও হাকালুকির হাওর সহ ছোট বড় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ টি বিল তলিয়ে যাওয়ার পর বিলে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
কিন্তু এসব হাওর এলাকা থেকে বন্যার পানি কিছুটা নেমে যাওয়ার পর ভয়ংকর রোপ ধারণ করেছে। পানির নিচে থাকা ক্ষেতের ধান পচে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে এসব এলাকা জুড়ে।পানি নষ্ট হওয়ার ফলে এসব হাওর ও বিলে থাকা বোয়াল, পাবদা, টেংরা, বাইমসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠছে। স্থানীয় লোকজন সেই মাছ পানি থেকে জাল দিয়ে সংগ্রহ করছে। সংগৃহীত মাছ কেউ কেউ বিক্রি করছে আবার কেউ নিজেদের খাবার প্রয়োজনে ব্যবহার করছে। বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হওয়ার ফলে এসকল মরা মাছ ভক্ষণে হাওরপাড়ের মানুষজন ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। হাওরের পানি গোসল থেকে শুরু করে ঘর গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। দুর্গন্ধযুক্ত দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে হাওর পারের মানুষের।মঙ্গলবার বাঘা ইউনিয়নের কালাকোনা, এখলাছ পুর ও রামগঞ্জ এলাকায় সরজমিন পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় এলাকার লোকজনদের এসব করুণ চিত্র।

বাঘা কালাকোনা এলাকার কৃষক মাসুক মিয়া (২৮)।যিনি কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল।শীলাকুড়ি হাওরে তিনি রোপণ করেছিলেন ৮/১০ একর ধান ।তার এই স্বপ্নের ফসল এখন পানির নিচে। বন্যার পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর একমাত্র সম্বল ছিল ৫ শতাধিক হাসের খামার।হাওরের পানি পচে গিয়ে দূর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়ার এসব পানি খেয়ে প্রায় আড়াইশ হাস মরে যাওয়ার পর এখনো অসুস্থ রয়েছে আরো শতাধিক হাস।এতে তার ক্ষতি
হয় দেড় লক্ষাধিক টাকা।
কালাকোনা শেওরাউলি এলাকার কাওছার হামিদ জানান,হাওরের পানিতে এখন প্রচুর দুর্গন্ধ। হাওরাঞ্চলের মানুষজন ফসল হারিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহের যে স্বপ্ন দেখছিল তা এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠছে। এসব মাছ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এলাকার মানুষজন।

বাঘা ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমার এলাকার হাওরে মাছ মরে পানিতে ভেসে ওঠার খবর গত কয়েকদিন থেকেই স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে পাচ্ছি। মানুষজন এখন বড় অসহায় হয়ে পড়ছে। এখানকার অধিকাংশ বাড়িতেই টিউবওয়েল নেই। ফলে যারা হাওরের পঁচা পানিতে গোসল করবে তারা পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, শীলাকুড়ি হাওর হয়ে নৌকায় করে রামগঞ্জ গ্রামে যাচ্ছিলাম। কিন্তু হাওরের পানিতে এতো পরিমাণ দুর্গন্ধ যে নৌকায় বসে থাকা যাচ্ছিলনা।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমরা হাওরগুলো পরিদর্শন ও চুনা ছেড়েছি। স্থানীয়দের সচেতন করতে এলাকায় মাইকিং করার জন্য জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। এছাড়া বৃহস্পতিবার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের হাকালুকি হাওরে একইভাবে চুনা ছাড়া হবে এবং মৎস খামারিসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীভাবেও এ বিষয়ে সচেতনা সৃষ্টির জন্য সকলকে উদ্যোগী হওয়া ও বাজার থেকে মাছ ক্রয় করতে সকলকে সজাগ থাকারও আহবান জানান তিনি।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফনিদ্র সরকার বলেন, হাওরের পানিতে ফসলডুবির ঘটনায় কাঁচা ধান গাছ থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস সৃষ্টি হয়ে অক্সিজেন কমে গিয়ে মাছের মৃত্যু হচ্ছে। উপজেলার বাঘা হাওর, হাকালুকি হাওর, ধামড়ির হাওর,শীলাকুড়িবিলসহ বিভিন্ন বিল ও হাওরের মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠছে। যেসকল মাছের মৃত্যু হচ্ছে তাদের বেশির ভাগই ডিমওয়ালা মাছ। ডিমওয়ালা মাছ অন্য মাছের তুলনায় দুর্বল থাকে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সবচেয়ে বেশি সমস্যাজনিত হাওর এলাকায় চুন ছিটিয়ে পানির স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে বুধবার সকালে বাঘা হাওর পরিদর্শন করে বিষক্রিয়ামুক্ত করতে দূষিত পানিতে চুনা ছাড়েন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন। ভেসে যাওয়া বিষাক্ত মরা মাছ ধরলে বা খেলে তার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি উপস্থিত মৎস খামারি, মৎসজীবি ও স্থানীয়দের অবহিত করেন। এসময় মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য এলাকায় মাইকিং করার জন্যও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেন নির্বাহী অফিসার। পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা ফরিন্দ্র সরকার সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মৎস খামারি, মৎসজীবি ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: