সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৯ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শেষ রক্ষা হবেনা জামালগঞ্জের পাকনার হাওর

unnamed (5)জামালগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনার হাওরের বাঁধগুলো ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ দিন থেকে কৃষকরা বাঁধ রক্ষায় দিন-রাত পরিশ্রম করেও ঝুকিপূর্ণতা ঠেকাতে পারছেন না। গতকাল সরজমিনে পাকনার হাওরে গিয়ে দেখা যায়। কামধরপুর, আলীপুর হয়ে কালিয়ানী বাঁধ থেকে কাউয়ারবাধা পর্যন্ত উপজেলার ফেনারবাক ইউনিয়নের অর্ন্তভূক্ত। উদাখালী ডালিয়া বেরীবাঁধ থেকে ফুলিয়াটানা ক্লোজার পর্যন্ত দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের অন্তরভূক্ত। ফেনারবাক অংশের বেরীবাঁধের মধ্যে কালিয়ানী ও কাউয়ারবাদা ঝুকিপূর্ণ রয়েছে। গতকাল কাউয়ারবাধা বাঁধে ফাটল দিয়ে একদিকের মাটি ধ্বসে যাওয়ায় বাঁধটি ভেঙ্গে যাবার উপক্রম দেখা দিলে ইউপি চেয়ারম্যান করুণা সিন্দু তালুকদার বাঁশ-বস্তা লোকজন নিয়ে বাঁধে কাজ করতে যান। রফিনগর ইউনিয়নের বেরীবাঁধের অংশে ডালিয়া স্লুইচ গেইটের পশ্চিমের ক্লোজার ও পূর্বের দুটি ক্লোজারে পর্যাপ্ত বাঁশ-বস্তা, পলিতিন না থাকায় যে কোন সময় ভেঙ্গে যেতে পারে। করাটিয়া বাঁধটিও ঝুকিপূর্ণ রয়েছে। ডালিয়া স্লুইচ গেইট থেকে পূর্বের পাতলিচোরা বিল পর্যন্ত বেরীবাঁধের নিচু জায়গা দিয়ে উপচে পানি পড়লে গত বুধবার ভীমখালী ইউপির আটগাও সহ ফেনারবাক ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের কৃষকগণ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধ তৈরী করে পানি প্রতিরোধ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে কুশিয়ারা ও শেরপুর নদীর প্রবাহিত পানি ও পাহাড়ী ঢল ও প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে এলাকার কৃষকগণ প্রানপন চেষ্টা করার পরও রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে হাওরপাড়ের কুষকগণ। বেরী বাঁধ সংগলœ পিয়াইন ও চুনাই নদীতে ব্যাপক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধগুলো ঝুকিতে রয়েছে। করাটিয়া বাঁধ থেকে ফুলিয়াটানা ক্লোজারের মধ্যবর্তী নিচু জায়গা দিয়ে কিছু কিছু পানি হাওরে প্রবেশ করছে। জানা যায়, ডালিয়ার স্লুইচ গেইট থেকে ফুলিয়াটানা পর্যন্ত বেরীবাঁধটি দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের অর্ন্তভূক্ত। এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩ টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো হল, উদাখালী ডালিয়া বেরীবাঁধ প্রকল্প, কারাটিয়া বেরীবাঁধ প্রকল্প ও ফুলিয়াটানা ক্লোজার প্রকল্পে মোট ৯ লক্ষ ৬৭ হাজার ৪ শত ৮৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু ৩ টি প্রকল্পের পিআইসির সভাপতি হলেন মহিলা মেম্বার জবা রানী তালুকদার। তিনি ক্লোজারগুলো বন্ধ করলেও অরক্ষিত রেখেছেন আপরগুলো। হাওরপাড়ের কৃষক সুরমান উদ্দিন ও আবু রায়হান জানান, ডালিয়ার স্লুইচ গেইট থেকে ফুলিয়াটানা ক্লোজারটি দিরাই উপজেলার হওয়ায় আমাদের বিরাট সমস্যা হচ্ছে। তারা কোন কাজ না করায় আমরা সংক্ষিত হয়ে পড়েছি। তাদের বেরীবাঁধ দিয়ে পানি উপচে পড়ায় আমরা কৃষকগণ দিন-রাত কষ্ট করে যাচ্ছি। রফিনগর ইউপির চেয়ারম্যান, মেম্বার বা উপকার ভোগী কৃষকদের কোন রকম সহযোগীতা পাওয়া যাচ্ছে না। বিধায় আমরা নিরুপায় হয়ে বাঁধ রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। সরজমিনে দেখা যায়, এই হাওরে দিরাই উপজেলার ১২ টি গ্রামের কয়েক শত হেক্টর জমি রয়েছে। উপকারভোগী কৃষকগণ সহ পিআইসির কোন সদস্যকে বিশাল বেরীবাঁধের কোথাও দেখা যায়নি। জবা রানীর সাথে একবার দেখা হলে তিনি জানান, আমি সমস্যায় আছি পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাকে টাকা ছাড় দিচ্ছে না যার কারণে আমি বাঁধে কাজ করেতে পারছি না। এই বাঁধটি ঝুকিপূর্ণ রয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ রয়েছে নির্দিষ্ট সময়ে পাউবো ও পিআইসিরা বাঁধ নির্মান কাজ সম্পন্ন না করায় বাঁধগুলি রয়েছে ঝুকিপূর্ণ, যে কোন সময় বাঁধ ভেঙ্গে ফসল তলিয়ে যাবার আশঙ্কা করছে কৃষকেরা। ফসল তলিয়ে যাবার আশঙ্কায় হাহাকার করছে পাকনার হাওর পাড়ের লক্ষাধিক কৃষক-কৃষানী। বাঁধের পাশর্^বর্তী কৃষকগণ পাউবো ও পিআইসিদের অপেক্ষা না করে রাতের ঘুম হারাম করে টানা রোদ-বৃষ্টিতে কাজ কওে যাচ্ছেন। বাঁধে অবস্থানরত শান্তিপুরের ছানোয়ার জানান, এখনো সময় আছে বাঁধ রক্ষার কাজের জন্য সবাই এগিয়ে আসলে পাকনার হাওর রক্ষা করা যাবে। এব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তীর সাথে ফোনে আলাপ করলে তিনি বলেন, দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: