সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৪ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২১ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তুমি বড়লেখায় আইসো জানাই নিমন্ত্রণ!

17974292_1055545381214310_99423882_nতারেক মাহমুদ: ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশের উত্তরপূর্বাংশে অপরূপ আরনিক সৌন্দর্যমন্ডিত এক জনপদের নাম মৌলভীবাজারের বড়লেখা। মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, বিস্তীর্ণ হাকালুকি হাওড়, দৃষ্টিন্দন চা বাগান, চিরহরিৎ ঘনসবুজের সুদীর্ঘ পাথারিয়া পাহাড় আর আতর-আগর শিল্পের রাজধানী খ্যাত সুজানগরের এই অঞ্চলটি ভ্রমন পিপাসু মানুষের কাছে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল হিসেবে সমাদর পেয়ে আসছে। অনেকে আবার লাতুর ট্রেনের স্মৃতি হাতড়াতে গিয়ে স্মরন করেন বড়লেখাকে অনায়াসে। প্রতিবছর সৌন্দর্য পিপাসু লাখো পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠে এখানকার পর্যটন এলাকাগুলো। কিন্তু এই দর্শনীয় স্থানগুলো সঠিকভাবে উপস্থাপনের অভাবে বড়লেখার আরো অনেক নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সাথে পরিচিত হতে পারছেনা দেশ ও দেশের বাইরের পর্যটককুল। বড়লেখার অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং এই জনপদের ইতিহাস ঐতিহ্যেকে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে অনেকেই ইতিপূর্বে কাজ করেছেন। এ নিয়ে লেখালেখিও হয়েছে অল্পবিস্তর। ভবিষ্যতেও চলবে নন্দনের এই লীলাভুমিকে সারাদেশের কাছে বা বহির্বিশ্বে তোলে ধরার মহৎ কাজ। ইতিহাস, প্রবন্ধ, ফিচার, গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ছড়া, সাংবাদিকতাসহ সৃষ্টিশীল কর্মযজ্ঞের যাবতীয় মাধ্যমে বড়লেখাকে উপস্থাপন করেছেন স্ব স্ব কাজে পারদর্শীরা। কিন্তু গানে গানে বড়লেখাকে খুব একটা উপস্থাপন করা হয়নি আগে। অথবা বিষয়টি কেউ এভাবে চিন্তা করেননি। আর এ কাজটি নিয়ে এগিয়ে এসেছেন তরুন গীতিকবি সাদিক তাজিন।
তিনি বড়লেখায় পরিভ্রমনের নিমন্ত্রণ করার ছলে এখানকার মানুষ, তাদের উদারতা, এখানকার কৃষ্টি-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও নান্দনিক সৌন্দর্যকে অসাধারনভাবে চিত্রায়িত করেছেন তার বড়লেখা নিয়ে লেখা গানের কথামালায়। এমনভাবে সবাইকে নিমন্ত্রন জানিয়েছেন যে বড়লেখাকে ঘুরে দেখা হয়নি এমন যারাই গানটি প্রথম শুনবেন আমার বিশ্বাস তারা পাথারিয়ার এই জনপদ ভ্রমনের এবং এখানকার মানুষের আতিথেওতা গ্রহনের লোভ সংবরণ করতে পারবেন না। সাদিক তাজিন তার গানে নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন এখানকার সহজ-সরল মানুষের আতিথ্য গ্রহণ করার। আর এ থেকেই গানটির টাইটেল নামকরণ করা হয়েছে “নিমন্ত্রণ”। তাজিন বড়লেখার সন্তান বলেই হয়তো বড়লেখার প্রতি তার দায়বদ্ধতা এবং নান্দনিক সৌন্দর্যের স্মৃতিকাতরতা থেকেই তার এমন প্রয়াস।

প্রায় এক যুগ হয় কবিতা লেখার পাশাপাশি গানও লিখছেন সাদিক তাজিন। লোক ধাচের গানই লিখেন সাধারনত তিনি। সিলেটের মরমী গান নিয়ে তিনি নিরীক্ষাধর্মী লেখালেখিও করছেন অল্পবিস্তর। তার স্বরচিত অধিকাংশ গানের সুরও করেছেন নিজে । কিন্তু বড়লেখা নিয়ে এটি তার প্রথম গান। এজন্যই হয়তো বড়লেখার প্রতি তার হৃদয়ে লুকিয়ে থাকা প্রেমটুকু ঢেলে দিয়েছেন ‘নিমন্ত্রণ’ নামক গানটির সুরে ও কথার প্রতিটি পদে।

গানের শুরুতেই এশিয়ার বৃহত্তম জলাভূমি হাকালুকি হাওড়ের বিশালতার সাথে বড়লেখার মানুষের মনোজগৎকে তুলনা করা হয়েছে। আর পাথারিয়া পাহাড়ের নান্দনিক সবুজের সাথে এখানকার মানুষের হৃদয়ের উর্বরতা আর স্বনির্ভর জীবনজীবিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে এরুপ-

“হাকালুকির মত বিশাল সব মানুষের মন
পাথারিয়ার সবুজঘেরা এখানকার জীবন-
বড়লেখায় আইসো তোমায় জানাই নিমন্ত্রন
তুমি বড়-লেখায় আইসো জানাই নিমন্ত্রন।।”

বড়লেখার আত্মপরিচয়ের আরেক নান্দনিক নিদর্শন মাধকুন্ড জলপ্রপাত। যদিও মাধবকুন্ড শুধু বড়লেখার আশ্চর্য না বরং এটি গোটা বাংলাদেশের একমাত্র স্বীকৃত জলপ্রপাত। নিমন্ত্রণ গানের প্রথম অন্তরাতেই মাধবকুন্ডের রূপ বন্দনা করে বলা হয়েছে এই জলকেলি পর্যটকদের তার রুপসুধা অবলোকনের জন্য নিজেকে উন্মুক্ত করে রেখেছে। ডেকে যাচ্ছে অহর্নিশি। পর্যটকদের কাছে অখ্যাত কিন্তু অপরূপ অরন্য সুন্দর পাথারিয়ার মায়া হরিণ, এমনকি সমনভাগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে অত্যন্ত চমৎকার ভাষায় –

” মাধবকুন্ড জলকেলিতে ডাকে আয়রে আয়
নন্দনের ভূবনে সদায় স্বাগত জানায়-
সমনভাগের বনবনাদির গহীনে বসিয়া
মায়া হরিন ডাকে তোমায় আয়কে যা হেরিয়া-“

পরবর্তি অন্তরাগুলোতেও একে একে শাহবাজ খাঁ’র শাহবাজপুর, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চা বাগান, হাকালুকি, ঋতু ভেদে তার রুপের পরিবর্তন, পাগল করা অনুভুতি ইত্যাদির সুনিপুণ বর্ননা দেওয়া হয়েছে। বোবারতলের টাটকা ফল-ফলাদির আপ্যায়নের প্রতিশ্রুতি দিতেও ভুল হয়নি।
আতর-আগর শিল্পের বর্ণনাও এসেছে। এসেছে এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট এলাকার নাম বন্দনার মাধ্যমে আতরের সুগন্ধিও। বাদ যায় নি সোনাই নদীর স্রোতের কলতান, আধিবাসী খাসিয়া জনগোষ্টির জীবনজীবিকার কথাও। খাসিয়া পানের দাওয়াত দ্বারা এই সমাজে পানের কদরকেও তোলে ধরা হয়েছে-

“সুজানগর দক্ষিণভাগ আর রতুলিতে গেলে
নিঃশ্বাসেরই সাথে ভাইরে আতর সুবাস মেলে-
খাসিয়া পান খাইয়া শোনো সুনাই নদীর গান।
ও সে হাকালুকির বুকে এসে দিয়েছে সিতান-“

এভাবে একে একে অপরুপ দৃশ্যের চিত্রায়নে বড়লেখার সামগ্রিক একটা চিত্র যেন অংকিত হয়েছে গানটিতে। সরল শব্দচয়ন আর দৃশ্যের সোজাসাপ্টা কিন্তু চমৎকার বর্ণনার সাথে সাথে উপমার হৃদয়স্পর্ষী সংযোজনে গানটির কথামালা হয়ে উঠেছে বড়লেখার এক অনবদ্য আখ্যান।
হৃদয় হতে উৎসারিত শব্দের, ছন্দের ঝংকারে বড়লেখার গুনকীর্তণ করে গেছেন সাদিক তাজিন তার গানের পুরো দেহজুড়ে।গ্রাম-বাংলার লোক সুরে গানটিতে যৌথভাবে কন্ঠ দিয়েছেন এ সময়ের জনপ্রিয় দুজন সঙ্গীত শিল্পী- পার্থ প্রদীপ মল্লিক ও তন্নী দেব। তাঁদের দরদভরা কন্ঠে আর দক্ষ গায়কিতে গানটি আরো চিত্তাকর্ষক ও প্রাণসঞ্চারী হয়ে উঠেছে। শুনেই বিমুগ্ধ হতে হয়েছে আমাকে এবং আমার মত অনেককে। মনে হয়েছে বড়লেখার থিম সং হিসেবে মর্যাদা পাওয়ার সবটুকু রসদ রয়েছে গানটিতে । এ পর্যন্ত কতবার যে শুনেছি তার পরিসংখ্যান হয়ত লেখাজোখা নাই। তবে প্রতিদিন বহুবার করে গানটি শোনা প্রায় রুটিনে পরিনত হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো বড়লেখা বন্দনার এই সুর মূর্ছনায় কেবল আমিই আক্রান্ত হইনি। যাদের সাথে এ পর্যন্ত কথা হয়েছে তাদের প্রত্যেকে দেখছি ‘নিমন্ত্রণ’এ আক্রান্ত! সুপার ডুপার হিট হতে চলা এ গানটির শিল্পিদ্বয়, যন্ত্রশিল্পিবৃন্দ, সর্বপরি গীতিকার আমার বন্ধুষ্পদ কবি সাদিক তাজিন কে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ অফুরাণ। গানটি এখন পর্যন্ত যাদের শুনা হয়নি তারা শুনে দেখবেন। গানের পুরো সময়টা সুরের
মুর্ছনায় চমৎকার কাটবে অন্তত এই গ্যারান্টি দিতে পারি।

 

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: