সর্বশেষ আপডেট : ৪৯ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৩ মে, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

উড়ে এসে জুড়ে বসাদের দিয়ে দেশের উন্নতি হবে না :প্রধানমন্ত্রী

1492364666নিউজ ডেস্ক:: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি তাই আমরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসলেই দেশের উন্নতি হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের বেলাতেও যারা সে দেশের স্বাধীনতার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছিল তারা যখন ক্ষমতায় এসেছে তখনই সেসব দেশের উন্নতি হয়েছে। আর এটা কখনই উড়ে এসে জুড়ে বসাদের দিয়ে হয় না, কারণ তারা নিজেদের আখের গোছাতেই সব সময় ব্যস্ত থাকে। গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নবনির্মিত বহুতল ভবন উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আজকে আপনারা অনেকেই বিদেশে যান এবং দেখেছেন আগে বাংলাদেশ শুনলেই যেখানে বলত ঝড়, দুর্যোগের, ভিক্ষা চাওয়া জাতি। কিন্তু আজকে আর সে কথা তারা বলে না। এখন বিদেশিরাই বলে বাংলাদেশ একটা উন্নয়নের রোল মডেল। এটাতো এমনি এমনি হয়নি। সুপরিকল্পিতভাবে নেওয়া আমাদের পদক্ষেপ সমূহের জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাহাত্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফেরার পর ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত তার প্রায় প্রতিটি কাজের সমালোচনা করা হয়েছে। সদ্য স্বাধীন দেশের পুনর্গঠনে যে সময় তাকে দেওয়া প্রয়োজন ছিল তা দেওয়া হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেমিক এবং ভালো নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে ওঠার জন্যই ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্যই তাদের ইতিহাস জানতে হবে। তিনি বলেন, ‘প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে যেন জানতে পারে যে কত মহান ত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীনতা অর্জন করেছি। সেই স্মৃতিচিহ্নগুলো তারা দেখবে। সেই স্মৃতিগুলো তারা উপলব্ধি করবে। অন্তরে ধারণ করবে এবং সেভাবেই নিজেদের চরিত্রকে গঠন করবে, দেশপ্রেমে তারা উদ্বুদ্ধ হবে।’ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা নতুন প্রজন্মের মানুষের চরিত্র গঠনের জন্যই জরুরি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে পঁচাত্তরের পর এমন একটা সময় এসেছিল- তখন যারা মুক্তিযোদ্ধা, তারা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান এটা বলতে ভয় পেতো। এটুকু বলতে আতঙ্কগ্রস্ত হতো, দ্বিধাগ্রস্ত হতো। আর যারা সম্পূর্ণ দালালিটা করতে পেরেছে তাদের কথা আলাদা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি অন্তত এটুকু দাবি করতে পারি ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আমাদের গৃহীত পদক্ষেপে মুক্তিযোদ্ধারা গর্বভরে বলতে পারেন ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা।’

সে সময় জয়বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ ছিল এবং জয়বাংলা স্লোগান দিতে গিয়ে বহু নেতা-কর্মীকে জীবন দিতে হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের গুলি করে হত্যা করেছে। তাদের ছুরি মারা হয়েছে। সমাজে তারা নানাভাবে অত্যাচারিত-নিগৃহীত হয়েছে। এমনকি জাতির পিতার ছবি প্রচার হতো না টেলিভিশনে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর কোনো বাড়ি ভাড়াও পেতাম না। যখনই শুনতো, বাড়ি ভাড়া করতে যেতাম। কেউ বাড়ি ভাড়া দিত না। একরাত ছোট ফুপুর বাড়িতে একদিন মেঝো ফুপুর বাড়িতে এইভাবে আমাকে থাকতে হতো।

প্রধানমন্ত্রী দেশের দ্রুত উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, আসলে আমরা কিভাবে দেশ চালাবো এ জন্য আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা ছিল, যেজন্য আমরা দ্রুত উন্নয়ন করতে সমর্থ হয়েছি। আমাদের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আমরা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ইনশাল্লাহ এই দেশ এগিয়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এদেশের চেতনাকে সমুন্নত রাখবে। কাজেই এই স্মৃতিগুলো ধরে রাখা জাতীয় প্রয়োজন বলেই আমি মনে করি। সেজন্য আমি আবারো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, আমি শুধু এইটুকুই বলব আমাদের লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা। লাখো শহীদের এই রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না। বৃথা যায় না। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা সেজন্যই বলেছিলেন যে -‘ বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ তাই কেউ দাবায়ে রাখতে পারে নাই।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন ছায়ানটের শিল্পীবৃন্দ। পরে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রম হারা ২ লাখ মা-বোন স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারিক আলী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী জাদুঘর চত্বরে রক্ষিত শিখা অম্লান প্রজ্বলন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ফলক উন্মোচনের পর পুরো জাদুঘর ঘুরে দেখেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: