সর্বশেষ আপডেট : ২৩ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৪ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ওয়াল ষ্ট্রিট জার্নালে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের সেবার প্রশংসা

unnamedসাখাওয়াত হোসেন সেলিম, নিউইয়র্ক:: সম্প্রতি বিশ্ব বিখ্যাত সংবাদপত্র ওয়াল ষ্ট্রিট জার্নালে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের সেবার প্রশংসা করে একটি প্রতিবেদন ছেপেছে। এজেন্ট ব্যাংকিং মডেল বাংলাদেশের স্বল্প আয়ের মানুষের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বলে ওয়াল ষ্ট্রিট জার্নালের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষ সঞ্চয়ী একাউন্ট, পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা পাঠানো, ঋণ প্রদান, ইউটিলিটি বিল পরিশোধসহ নানা আর্থিক সুবিধা ভোগ করছেন।

রাজধানী ঢাকার অদূরে গাজীপুরে ধূলি ও আবর্জনাপূর্ণ রাস্তা যেখানে শেষ হয়েছে, সেখানে ফ্লোরেসেন্ট বাতির ঝলমলে আলোতে উজ্জ্বল একটি রুমে মহিলাদের ভিড়। তাদের একজন খোজেদা খাতুন ছোট্ট বায়োমেট্টিকস স্ক্যানারে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিচ্ছে। হালকা কমলা রংয়ের শাড়ির আঁচল ঠিক রেখে একটি একটি করে আঙ্গুলের চাপ দেয়া শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে খোলা হলো তার প্রথম ব্যাংক একাউন্ট।

সেই এলাকায় মাঝারি মানের জায়গাটিতে প্রথম ব্যাংকিং এজেন্ট হিসেবে কাজটি শুরু করেছে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং তাদেরকে সহযোগিতা করছে তাদের আরেক অংশীদার সুইসকন্ট্যাক্ট। সুইসকন্ট্যাক্ট একটি আন্তর্জাতিক ননপ্রফিট সংস্থা, যারা অর্থনৈতিক বিষয়েও কাজ করে Ñ সুবিধা বঞ্চিত এবং সাধারণত স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ ও সহজ উপায়ে আর্থিক সেবা দিয়ে থাকে। ওয়াল ষ্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, এজেন্ট ব্যাংকিং এর নিয়মটি খুই সহজ: একটি বড় বাণিজ্যিক ব্যাংক অর্থনৈতিক সুবিধা নেই-এমন জায়গায় ছোট একটি বুথ চালু করে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছোট এক রুম, যেখানে দায়িত্ব পালন করেন একজন মাত্র লোক, যিনি ব্যাংকটির কর্মচারি না হয়ে একজন কন্ট্রাক্টরও হতে পারেন, যার উপর ন্যস্ত থাকে প্রতিদিনের লেনদেনের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব।

গাজীপুরের এই রাস্তাটির ওপর এজেন্ট ব্যাংকিং এর এই বুথটিকে নিকটস্থ ঝুপড়ি দোকানপাট থেকে যে আলাদা, তা বুঝার তেমন উপায় নেই। দরজার সামনে এক গাদা স্যান্ডেল। কিন্তু এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক নি¤œ আয়ের বাংলাদেশীদের সেবা দিচ্ছে বায়োমেট্রিকসের মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা পাশ্চাত্যের প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবহৃত প্রয়োগের মতোই।

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে জনগণকে অর্থনৈতিক সেবা দিেেচ্ছ এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। এই লক্ষ্যে আমাদের ব্যাংক ইতোমধ্যে দেশের ৫১ জেলায় শাখা স্থ’াপন করেছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে কোন ব্যাংকের শাখা নেই সেসব অঞ্চলে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করে স্বল্প আয়ের মানুষের আর্থিক সেবা ও তাদের সঞ্চয়ের নিরাপত্তার সুযোগ বিস্তৃত করেছে। তিনি জানান, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ইতোমধ্যে দু’শ এজেন্ট ব্যাংকিং পয়েন্ট চালু করেছে। আগামী তিন/চার বছরের মধ্যে আমরা দেশের ৫৭ হাজার গ্রামে আমাদের সেবা পৌাছাতে পারবো বলে আশা করি। সরকারের সাথে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে সুইসকন্ট্যাক্টের পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত নির্বাহী অনির্বাণ ভৌমিক বলেন, “আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিম্ম আয়ের লোকদের আবশ্যিক সেবা দেয়ার উপযোগী উপায় নিয়ে এগিয়ে আসতে পারে এবং এর সম্ভাবনা বিপুল। আর্থিক বিষয়ের সামাজিক সমস্যাগুলোর সমাধানে আমরা বাণিজ্যিকভাবে টেকসই উপায় উদ্ভাবন করতে চাই।”

বাইরে গাড়ির হর্ণ, ইঞ্জিনচালিত অটোরিক্শার শব্দের সাথে যেন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে ফেরিওয়ালাদের চিৎকার, সাথে একাকার হয়ে যাচ্ছে ভেসে আজানের আওয়াজ। সবকিছু ছাপিয়ে রাস্তার উল্টো পাশে তৈরি পোশাক কারখানা থেকে একটানা মৃদু গুঞ্জনও ভেসে আসে কানে। এজেন্ট ব্যাংকিং বুথে যে জনা বিশেষ গ্রাহকের ভিড়, তারা দেশটির তৈরি পোশাক শিল্পে নিয়োজিত ৪৫ লাখ শ্রমিকের অংশ, যাদের অনেকে রাজধানী ঢাকা ও আশেপাশে স্থাপিত কারখানাগুলোতে কাজ করতে এসেছে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে। যৌথভাবে তারা বাংলাদেশকে চীনের পরই দ্বিতীয় বৃহত্তর তৈরি পোশাক রফতানি খাতে পরিণত করে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে।
অনির্বাণ ভৌমিক বলেন, “এসব শ্রমিক মাইক্রো-ফাইন্যান্সের যোগ্য। কিন্তু তারা মূলধারার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসা ও তাদেরকে সহায়তা করার জন্য সংখ্যায় যথেষ্ট নয়। তাদের আয়ের উৎস স্থিতিশীল এবং তারা দরিদ্র নয়। তবে তাদেরকে প্রকৃত অর্থে সচ্ছল বলা চলে না।”
এসব শ্রমিকের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সঞ্চয় করে। তারা বরং বিছানার নিচে নগদ অর্থ লুকিয়ে রাখতে অভ্যস্ত অথবা অপ্রচলিত আর্থিক পদ্ধতিতে বাড়িতে পরিবারের কাছে টাকা পাঠায় তাদের জন্য সঞ্চয় করে রাখতে। গত মার্চ মাসে সুইসকন্ট্যাক্ট তাদের ১৫-মাসব্যাপী পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়ে আশা করছে যে, তারা ১,১০০ তৈরি পোশাক শ্রমিকের একাউন্ট খোলার পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসায়িক সাফল্য অনুসরণ করে বাজারে প্রতিযোগিতা করতে আসবে।

সোয়েটারটেক লিমিটেড এর লিঙ্কিং মেশিন অপারেটর ১৯ বছর বয়সী শ্রমিক রাদিয়া নাহার। তার কারখানা গাজীপুর এজেন্ট পয়েন্ট থেকে খুব কাছে হলেও সেখানে কোন একাউন্ট খোলার কোন পরিকল্পনা ছিল না রাদিয়ার। তিনি বললেন, “আমার পর্যাপ্ত পরিমাণে টাকা জমলে আমি নিজেই উদ্যোগী হয়ে কাজ করতে চাই। আমার অবস্থা এখন ভাল।” তার স্বপ্ন হচ্ছে, গাজীপুর থেকে উত্তর দিকে মাত্র তিন ঘন্টার দূরত্বে তার নিজ এলাকা শেরপুর জেলায় একটি খাদ্যশস্যের দোকান বা একটি মুদি দোকান শুরু করার। তিনি হিসাব করে দেখান যে, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের বুথের সেবা গ্রহণ করে তার পক্ষে প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা (১৯ ডলার) সঞ্চয় করা সম্ভব।

সুইসকন্ট্যাক্টের নিবিড় আর্থিক উদ্যোগের টিম লিডার জাহিদ পারভেজের মতে, “তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের মাঝে সঞ্চয় করার প্রবণতা বেশ ভাল, কিন্তু সে প্রবণতাগুলো অপ্রচলিত বা অনানুষ্ঠানিক ধরনের। তারা তাদের আত্মীয়স্বজনের কাছে টাকা জমা রাখে, যা থেকে কোন সূদ আসে না। এ ধরণের সঞ্চয় প্রবণতার কারণে তাদের মধ্যে কোন ব্যাংকে যাওয়ার বা কোন একাউন্ট খোলার চিন্তা কাজ করে না। আমরা তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই, যাতে তারা সহজে ও সুবিধামতো ব্যাংকিং চ্যানেলের সহায়তা নিতে পারে, একটি একাউন্ট খুলতে পারে এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারে।”

ওয়াল ষ্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নতুন একাউন্ট খুলতে সুইসকন্ট্যাক্ট এর অধিকাংশ এজেন্ট পয়েন্ট বায়োমেট্রিক উপাত্তের উপর নির্ভর করে। এজেন্টের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ফরম পূরণের পর গ্রাহকরা একটি বায়োমেট্রিক রিডারে তাদের দশ আঙ্গুলের ছাপ দেয়। একাউন্ট ও পরিচিতিমূলক তথ্য ব্যাংকের হেড অফিসে পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং একবার সনাক্তকরণ হয়ে গেলে গ্রাহকরা এজেন্ট পয়েন্টে একটি মাত্র আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার করেই টাকা তুলতে পারেন।

ব্যাংকের নতুন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিকস একদিকে প্রতারণার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে এবং গ্রাহকরা সহজে তার একাউন্টের সুবিধা নিতে পারে, বিশেষ করে যাদের অনেক অশিক্ষত, তাদের ক্ষেত্রে। জাহিদ পারভেজ বলেন, “কোন ব্যাংকে গিয়ে, ডিপোজিট স্লিপ পূরণ করার সাথে তারা স্বচ্ছন্দ নয়, কারণ স্লিপগুলো সাধারণত ইংরেজিতে থাকে। এজেন্ট ব্যাংকিং এ তাদের কোন ধরনের ফরম পূরণ করার প্রয়োজন পড়ে না। সেখানে গিয়ে আঙ্গুলের ছাপ দিলে মেশিনই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের একাউন্ট নম্বর বের করে তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে।”

প্রচলিত ব্যাংকে যে সব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, এজেন্ট ব্যাংকিং মডেল তা দূর করেছে। ব্যাংকগুলো খোলা হয় সকাল ৯টায়। কিন্তু অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা এর এক ঘন্টা আগে কাজ শুরু করে এবং বিকাল ৫টার আগে তাদের কাজ শেষ হয় না। একই সময়ে ব্যাংকও বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া প্রচলিত ব্যাংকের অধিকাংশ শাখার পরিবেশ কোলাহল, কথাবার্তা ও কলহে পরিপূর্ণ। ভৌমিক বলেন, “যখনই তারা কোন ব্যাংকের শাখায় যায়, তারা হতচকিত হয়ে পড়ে। আমাদের যদি উপযুক্ত আর্থিক সেবা দেয়ার পর্যাপ্ত উপায় উপকরণও থাকে, সেক্ষেত্রেও লোকজন ব্যাংকের কোন শাখায় যেতে ভয় পায়।” সুইসকন্ট্যাক্ট আশা করছে যে, এজেন্ট পয়েন্টগুলো তাদের চারপাশের কমিউনিটিকে সহজে সেবা দিতে পারবে, তাদের নি¤œ পরিচালন ব্যয় ব্যাপকভাবে ব্যাংকিং সেবা প্রদানে সহায়ক হবে।

ওয়াল ষ্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সঞ্চয়ী একাউন্ট এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা পাঠানো এজেন্ট ব্যাংকিং মডেলের এর প্রধান দিক। কিছু কিছু এজেন্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণও প্রদান করতে পারে অথবা লোকজনকে তাদের ইউটিলিটি বিল পরিশোধে সাহায্য করতে পারে। সুইসকন্ট্যাক্টের আরেকটি অংশীদার-ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড হিসাব করে দেখিয়েছে যে, তাদের অত্যন্ত সক্রিয় এজেন্ট পয়েন্টগুলো দৈনিক ২০ লাখ টাকা (প্রায় ২৫,০০০ ডলার) পর্যন্ত লেনদেন করে। এদেশে কোন কোন খাতে ন্যূনতম মজুরি দৈনিক মাত্র ৮৬ সেন্ট, যা মাত্র ৬৬ টাকার সমপরিমাণ।
এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফরাসত আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ২০১৪ সালে আমরা এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছি এবং ব্যাংকের একটি বিশেষজ্ঞ দল এনিয়ে অবিরাম কাজ করছে। এজেন্ট ব্যাংকিং সঞ্চয়ী একাউন্ট এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা পাঠানো এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার প্রধান দিক হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এজেন্ট ব্যাংকিং পয়েন্ট থেকে ঋণও প্রদান, ইউটিলিটি বিল পরিশোধে সহায়তা করতে পারে। তিনি বলেন, প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এজেন্টদের সাথে ব্যাংকের নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তোলার মাধ্যমে আমাদের এজেন্ট ব্যাংকিং মডেল অত্যন্ত ফলপ্রসু প্রমাণিত হয়েছে। তিনি জানান, সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমকে সম্প্রসারিত করে নেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে অঙ্গীকার তা পূরণ করে দেশকে স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক।

ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো: আরফান আলী বলেন, “আগামী চার/পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা দেশের প্রতিটি গ্রামে অর্থ্যাৎ ৮৭,০০০ গ্রামে পৌছতে পারবো বলে বিশ্বাস করি। নিয়ন্ত্রণের পর্যায় এবং আমরা যে উদ্যোগ প্রবণতা সৃষ্টি করেছি এবং এজেন্টদের সাথে যে যোগাযোগ গড়ে তুলেছি সেসব কারণে আমাদের এ মডেলটি অত্যন্ত ফলপ্রসু প্রমাণিত হয়েছে।

ওয়াল ষ্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বের আরো অনেক দেশ, বিশেষ করে পূর্ব আফ্রিকান দেশগুলো আর্থিক নিবিড়তা সৃষ্টির লক্ষ্যে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে কাজে লাগাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ অধিক ব্যয়বহুল প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই সেবা পদ্ধতিকে অধিকতর খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছে বলে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন ২০২১ উদ্যোগের ফলে ৫,০০০ ডিজিটাল সেন্টার গড়ে উঠেছে, এবং লাখ লাখ বাংলাদেশী ইমেইল থেকে শুরু করে বার্থ সার্টিফিকেট প্রিন্ট করে নেয়ার মতো সেবা লাভ করছে। সুইসকন্ট্যাক্টের জাহিদ পারভেজ মনে করেন যে, এই ডিজিটাল সেন্টারগুলোও এজেন্ট ব্যাংকিং এর আদর্শ স্থান হতে পারে। তিনি বলেন, “যে লোকগুলো এসব ডিজিটাল সেন্টার পরিচালনা করছেন তারা উদ্যোক্তা। এটি একটি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ; তাদেরকে প্রয়োজনীয় উপকরণগত সহায়তা, যেমন ল্যাপটপ, প্রিন্টার ইত্যাদি দেয়া হয়েছে। অতএব তারা স্থানীয় লোকজনকে সেবা প্রদান করতে পারেন।

ওয়াল ষ্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, এজেন্ট মডেল কর্মস্ংস্থানও সৃষ্টি করে। গ্রাহকদের একাউন্ট খোলা এবং অর্থ লেনদেন করার জন্য এজেন্টরা কমিশন বা সার্ভিস ফি লাভ করেন। যদিও আয়ের দিকটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, কিন্তু কেউ কেউ মাসে ৩০,০০০ টাকা (প্রায় ৩৭০ ডলার) আয়ের আশা করছেন, যা ন্যূনতম আয়ের চেয়ে অনেক বেশি। নারায়ণগঞ্জের একজন এজেন্ট মো: ওয়ালিউল্লাহ বলেন, “এ প্রকল্প আমাকে মার্কেটিং এর জন্য সহযোগিতা করছে এবং তৈরি পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আমি অত্যন্ত আশাবাদী। তাছাড়া আমি লোকজনের কাছে বেশ পরিচিত হওয়ায় আমার পক্ষে বহু গ্রাহককে আকৃষ্ট করা সম্ভব।

জাহিদ পারভেজ বলেন, “যারা ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় ছিল না, আমরা তাদেরকে শুধু নিবিড় আর্থিক সেবাই প্রদান করছি না, লোকজন এজেন্ট হচ্ছে এবং আমরা তাদেরকে টেকসই কাজের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।”

গাজীপুর এজেন্ট পয়েন্টে খোদেজা খাতুন বলেন যে, তিনি তার অর্থে পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করবেন। একাউন্ট খোলার পর তার মুখ গর্বে উজ্জ্বল হয়ে উঠে। সেই রাতে তিনি এমন কিছু নিয়ে তার পথে এগিয়ে যান, যা আগে তার ছিল না। তার সঞ্চয়ের জন্য শুধু একটি নিরাপদ স্থানই নয় অথবা নতুন একটি ব্যবসা শুরু করার ভাবনাই নয়, বরং তার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার একটি উপায়।

#ওয়াল ষ্ট্রিট জার্নাল অবলম্বনে

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: